Facebook Pixel

২৬ মার্চ, ২০১৪ ছিল বাংলাদেশের ৪৪তম স্বাধীনতা দিবস। আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ এদিন বেলা ১১ টায় ঢাকার জাতীয় প্যারেড ময়দানে সমবেত হয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেছেন। চট্টগ্রামের খেলাঘরের শিশুদের সঙ্গে জাতীয় সংগীত গাইলেন বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী কলেজ পড়ুয়া রাজু। রাজু জন্ম থেকেই কথা বলতে পারে না। কিন্তু এই অনুষ্ঠানে তাকে ঠেকিয়ে রাখা যায়নি। চৈত্রের কাঠফাঁটা রোদে সবার সঙ্গে রাজুও গাইল "আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি..........। 'রাজুর গাওয়াটা সে ছাড়া আর কেউ শুনলোনা, তাতেই সে মহাখুশি'। রাজু আমাদের নতুন প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা। তাদের হাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। ক. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কাকে বলে? খ. পৌরনীতি ও সুশাসন একই সূত্রে গাঁথা- ব্যাখ্যা করো। গ. বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী রাজুর জাতীয় সংগীতে অংশগ্রহণ নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবে- ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে সমবেতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন জাতীয়তারই বহিঃপ্রকাশ- বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-১০ঃ দেশপ্রেম ও জাতীয়তা

উৎস: Board Exam Question DB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে বিচারকার্য পরিচালনাকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলে। খ. পৌরনীতি নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। আর সুশাসন নাগরিকের উত্তম জীবন নিশ্চিতকরণের একটি উপায়। নাগরিক হিসেবে মানুষের জীবনের সাথে জড়িত সকল বিষয় নিয়ে পৌরনীতি আলোচনা করে। এর উদ্দেশ্য হলো নাগরিককে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। আর সুশাসন নাগরিকের কল্যাণমুখী জীবন নিশ্চিত করে উন্নত নাগরিক জীবন গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালায়। অর্থাৎ উভয়ের উদ্দেশ্য নাগরিক জীবনকে উন্নত ও সুসংহত করা। তাই পৌরনীতি ও সুশাসন একই সূত্রে গাঁথা। গ. বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী রাজুর জাতীয় সংগীতে অংশগ্রহণ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ করবে। দেশের প্রতি মানুষের অকৃত্রিম ভালবাসা, অপরিমেয় টান, ভালবাসার অনুভূতি হচ্ছে দেশপ্রেম। এটি নিজ জন্মভূমির প্রতি মানুষের আবেগপূর্ণ আনুগত্যের প্রকাশ। এটি এক ধরনের সহজাত প্রবৃত্তি। দেশ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন, ভালোবাসা প্রকাশের মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। অন্যদিকে জাতীয়তাবোধ হলো এক ধরনের মানসিক অনুভূতি, যা ঐক্যবোধের ভিত্তিতে নিজেদেরকে অন্য জনসমাজ থেকে আলাদা ভাবার অনুপ্রেরণা দেয়। উদ্দীপকে বর্ণিত রাজুর কর্মকাণ্ডে এ দুটি দিকেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। রাজু বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় সংগীত পরিবেশনে অংশগ্রহণ করে। দেশের প্রতি মমত্ববোধের কারণেই সে নিজ দেশের জাতীয় সংগীত শুনে চুপ থাকতে পারেনি। তাই আপনমনে সে সবার সাথে সংগীত পরিবেশনে অংশগ্রহণ করে। রাজুর এ অনুভূতি, আবেগ এবং ঐক্যবোধের চেতনা বর্তমান প্রজন্মকে স্বদেশের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অনুপ্রাণিত করবে। তারা ঐক্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার অনুপ্রেরণা পাবে। দেশের সংকটকালীন পরিস্থিতিতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা চালাবে। তারা নিজ দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতির লালন করবে এবং এর উত্তরোত্তর উন্নতির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তারা দেশের গৌরবময় ইতিহাস ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করবে। সর্বোপরি তারা দেশের প্রয়োজনে নিজেদের বিলিয়ে দেওয়ার মানসিক শক্তি লাভ করবে। সুতরাং বলা যায়, রাজুর অনুভূতি তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে উন্নত ও আদর্শ জাতি গঠনে প্রেরণা দেবে। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত মানুষেরা ঐক্যবোধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সমবেতভাবে সংগীত পরিবেশন করায় তাদের মধ্যে জাতীয়তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। জাতীয়তা হচ্ছে এমন এক ধরনের অনুভূতি যা কোনো নির্দিষ্ট জনসমষ্টিকে জন্মসূত্রে ঐক্যবদ্ধ করেছে। অর্থাৎ যারা একই বংশ, ভৌগোলিক অবস্থান, ভাষা, সাহিত্য, ঐতিহ্য, আদর্শ, আচার-রীতিনীতি দ্বারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তাদের ঐক্যবোধের চেতনাকে জাতীয়তা বলা হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত সমবেত মানুষের মধ্যে এই চেতনারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ সমবেত হয়ে ঢাকার জাতীয় প্যারেড ময়দানে ২০১৪ সালের ২৬ মার্চ জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেছে। এসব মানুষের ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি সব এক। তারা সবাই একই ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে বসবাস করে। তাদের মধ্যে ভাবগত ঐক্য রয়েছে। অর্থাৎ তারা সবাই বাংলাদেশি এবং সবাই সমবেতভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করছে। প্রকৃতপক্ষে জাতীয়তার বিশেষ কিছু উপাদান রয়েছে, যা একটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বংশগত ঐক্য, ভৌগোলিক ঐক্য, ধর্মীয় ঐক্য, ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐক্য, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঐক্য, ভাবগত ঐক্য প্রভৃতি। উদ্দীপকে বর্ণিত মানুষের মধ্যে এসব উপাদানের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঐক্যবোধ পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত সমবেতভাবে সংগীত পরিবেশন জাতীয়তারই বহিঃপ্রকাশ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2017)

২৬ মার্চ, ২০১৪ ছিল বাংলাদেশের ৪৪তম স্বাধীনতা দিবস। আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ এদিন বেলা ১১ টায় ঢাকার জাতীয় প্যারেড ময়দানে সমবেত হয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেছেন। চট্টগ্রামের খেলাঘরের শিশুদের সঙ্গে জাতীয় সংগীত গাইলেন বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী কলেজ পড়ুয়া রাজু। রাজু জন্ম থেকেই কথা বলতে পারে না। কিন্তু এই অনুষ্ঠানে তাকে ঠেকিয়ে রাখা যায়নি। চৈত্রের কাঠফাঁটা রোদে সবার সঙ্গে রাজুও গাইল "আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি..........। 'রাজুর গাওয়াটা সে ছাড়া আর কেউ শুনলোনা, তাতেই সে মহাখুশি'। রাজু আমাদের নতুন প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা। তাদের হাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

ক.

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কাকে বলে?

খ.

পৌরনীতি ও সুশাসন একই সূত্রে গাঁথা- ব্যাখ্যা করো। 

গ.

বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী রাজুর জাতীয় সংগীতে অংশগ্রহণ নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবে- ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

উদ্দীপকে সমবেতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন জাতীয়তারই বহিঃপ্রকাশ- বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।