ক.
যে সরকারব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কেন্দ্ৰীয় সরকারের নিকট ন্যস্ত থাকে তাকে এককেন্দ্রিক সরকার বলে।
খ.
আইনের শাসন বলতে সবক্ষেত্রে আইনের প্রাধান্যকে বোঝায়।
আইনের শাসন বলতে আইনের চোখে সবার সমান হওয়া এবং সব কিছুর উপরে আইনের প্রাধান্যের স্বীকৃতিকে বোঝায়। এর অর্থ হচ্ছে: ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি এবং ছোট বড় নির্বিশেষে সবাই আইনের কাছে সমান । কেউ বিশেষ মর্যাদার অধিকারী নয়। যে কেউ আইন ভঙ্গ করলে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে। এটাই আইনের শাসনের বিধান।
গ.
উদ্দীপকে বর্ণিত ‘?' চিহ্নিত স্থানে আমার পাঠ্যবইয়ের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বিষয়টি নির্দেশিত হয়েছে।
গণতন্ত্র বলতে এমন এক শাসনব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে যোগ্যতা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ, সরকার গঠন ও তা পরিচালনা করতে পারে। গণতন্ত্রের কতগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বহুদলীয় ব্যবস্থা। গণতন্ত্রে নাগরিকের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকে, যা গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। গণতন্ত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো আইনের শাসন। আইনের শাসন হলো- আইনের চোখে সবাই সমান এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। । বিচার বিভাগের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হলো অন্যান্য বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে বিচার কার্য পরিচালনা করা। এছাড়া ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা গণতন্ত্রের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
উদ্দীপকে বহুদলীয় ব্যবস্থা, মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও জবাবদিহিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেহেতু এগুলো গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য, সেহেতু বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত ‘?' চিহ্নিত স্থানে গণতন্ত্র বিষয়টিই নির্দেশিত হয়েছে।
ঘ.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ শাসনব্যবস্থা তথা গণতন্ত্র অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
গণতন্ত্র ও সুশাসনের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সুশাসন যেমন গণতন্ত্রের প্রাণ, তেমনি গণতন্ত্রও সুশাসনের প্রাণ। গণতন্ত্র হলো প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা। এ শাসনব্যবস্থা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে এতে শাসন কাজে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় এবং জনগণের ক্ষমতায়ন ঘটে। আর শাসনকাজে জনগণের অংশগ্রহণ সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম উপাদান। শাসনকাজে জনগণের অংশগ্রহণ জনকল্যাণ নিশ্চিত করে সুশাসনকে গতিশীল করে তোলে। গণতন্ত্র স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে। আর যে শাসনব্যবস্থায় প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতি যত কার্যকর হয় সেই শাসনব্যবস্থায় তত সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্বশীল হয়। আর সরকার দায়িত্বশীল হলে সুশাসনের পথ সুগম হয়। গণতন্ত্রকে সফল করতে প্রয়োজন আইনের শাসন। আইনের শাসন ছাড়া রাষ্ট্রে স্বেচ্ছাচারিতা বিরাজ করে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা ব্যাহত হয়। অর্থাৎ গণতন্ত্র ও সুশাসন উভয়ের সফলতার জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক। এছাড়াও পরমতসহিষ্ণুতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনগণের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার প্রভৃতি বিষয় যেমন গণতন্ত্রকে সফল করতে প্রয়োজন, তেমনি সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্যও প্রয়োজন।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, লক্ষ্য, বৈশিষ্ট্য, উপাদানগত দিক থেকে গণতন্ত্র ও সুশাসন পরস্পরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত এবং একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল