ক.
BSTI-এর পূর্ণরূপ হচ্ছে- Bangladesh Standard and Testing Institution.
খ.
দুর্নীতি হলো মূল্যবোধ ও রীতিনীতির পরিপন্থি এক ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড। যেকোনো পেশার লোকের মাধ্যমে এ দুর্নীতি হতে পারে। নিজ কর্তৃত্বের বাইরে প্রভাব খাটিয়ে কোনো স্বার্থ উদ্ধারকৃত কর্মকাণ্ডই দুর্নীতি। আবার যার ওপর যে দায়িত্ব রয়েছে, তা পালন না করা এবং অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে কাউকে কোনো সুযোগ পাইয়ে দেওয়াও দুর্নীতি। দুর্নীতি একটি ভয়ানক সামাজিক ব্যাধি, এটি একটি অন্যতম নাগরিক সমস্যা। এ সমস্যা আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, প্রতিটি ক্ষেত্রে বিরাজমান। দুর্নীতি নামক ব্যাধি থেকে নিরাময় লাভ এখন সময়ের দাবি।
গ.
উদ্দীপকে সুহানের পরিবারের দুর্দশার পিছনে আমার পাঠ্যবইয়ের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা দায়ী।
বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আশঙ্কাজনক এবং উদ্বেগের বিষয় হলো জলবায়ু পরিবর্তন ও এর ফলে সংঘটিত নানারকম দুর্যোগ। সাধারণত কোনো জায়গার গড় জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদি ও অর্থপূর্ণ পরিবর্তনকে জলবায়ু পরিবর্তন বলা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কয়েকটি সমস্যার উদাহরণ হলো বারবার খরা, অতি বৃষ্টিপাত, অনাবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিক্ষয়, ভূমিধস প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। বায়ু দূষণসহ বিভিন্ন কারণে বায়ুমন্ডলের ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত করাও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী। অন্যদিকে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চলে জমে থাকা বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি করেছে। ফলে একদিকে উপকূলীয় অঞ্চল তলিয়ে যাচ্ছে এবং স্বাদু পানির সাথে লবণাক্ত পানি মিশে পানযোগ্য পানি ও কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ২০২২ সালের ভয়াবহ রন্যায় সুনামগঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে সুহানের বাড়িঘর ডুবে যায়। সে বছর সে তার পরীক্ষা দেয়নি এবং সর্বস্বান্ত হয়ে তার পরিবার সীমাহীন দুর্দশায় পতিত হয়। সুহানের পরিবারের এমন দুর্দশার কারণ হচ্ছে হঠাৎ বন্যা যা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সংঘটিত হয়ে থাকে।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সুহানের পরিবারের দুর্দশার জন্য দায়ী হলো জলবায়ুর পরিবর্তন।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি হলো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত একটি সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে নাগরিক সমাজের নানাবিধ করণীয় রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়টির পিছনে যতগুলো কারণ জড়িত তার বেশিরভাগ কারণ হলো মানুষের কর্মকাণ্ড দ্বারা সৃষ্ট। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা সমাধানে নাগরিক সমাজের ভূমিকা সবার আগে অগ্রগণ্য।
যেহেতু বন পরিবেশ রক্ষা করে, তাই সর্বত্র বিশেষ করে উপকূলে বনায়ন বৃদ্ধি করতে হবে। উপকূলে নাগরিকদের অবশ্যই শক্ত ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। একজন নাগরিককে অবশ্যই পরিবেশ ও এর বিভিন্ন উপাদানের ব্যাপারে সচেতন জ্ঞান আহরণ করতে হবে যেন ব্যক্তি নিজে প্রাকৃতিক উপাদানের ক্ষতির কারণ হ্রাস করতে পারে। পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলে পরিবেশ দূষণ কমাতে সাহায্য করা প্রতিটি নাগরিকের জন্য অবশ্য করণীয়। পরিকল্পিতভাবে নগরায়ণ ও শিল্পায়ন করে কারখানা, ইটভাটা ও যানবাহনের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া কৃষি উৎপাদনে ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর নীতি গ্রহণ করতে হবে।
অপ্রয়োজনীয় সার, বিষ ব্যবহার রোধ করা নাগরিকের অবশ্য পালনীয়। জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা সমাধানে ও বৈশ্বিক উষ্ণতা কমিয়ে আনার জন্য বৃক্ষ নিধনরোধ এবং সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সকল স্তরের নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে।
এভাবেই নাগরিকরা তাদের সচেতন পদক্ষেপ দ্বারা উদ্দীপকের উল্লিখিত ভয়াবহ বন্যাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।