ক.
নীতি বা আইন বিরুদ্ধ কাজ করাই হলো দুর্নীতি।
খ.
বর্তমান সময়ে প্রতিবন্ধীদের বোঝানোর জন্য বহুল ব্যবহৃত ইংরেজি শব্দ হচ্ছে Person with Special Needs', এর বাংলা প্রতিশব্দ হলো 'বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠী'।
সাধারণভাবে বলা হয়, যার মাঝে প্রতিবন্ধকতা বিরাজমান তিনিই প্রতিবন্ধী; সে প্রতিবন্ধকতা যত সামান্যই হোক না কেন। প্রকৃতপক্ষে অসুখে, দুর্ঘটনায়, চিকিৎসা ত্রুটি বা জন্মগতভাবে যদি কোনো ব্যক্তির শারীরিক বা মানসিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মাধ্যমে কর্মক্ষমতা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে লোপ পায় অথবা তুলনামূলকভাবে কম হয় তাহলে সেই ব্যক্তিকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকের 'X' এর প্রতিবন্ধিতার একটি অন্যতম ধরন অটিজমে আক্রান্ত শিশু।
অটিজম বা আত্মসংবৃতি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতা; যা শিশুর বয়স তিন বছর হবার পূর্বেই প্রকাশ পায়। এ ধরনের শিশুরা সামাজিক আচরণে দুর্বল একই কাজ বারবার করার প্রবণতা থেকে তাদের শনাক্ত করা যায়। উদ্দীপকের শিশু 'X' এর ক্ষেত্রেও আমরা অনুরূপ বিষয়টি দেখতে পাই।
সাধারণত অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক গঠনে কোনো সমস্যা থাকে না এবং তাদের চেহারা, অবয়ব অন্যান্য সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের মতোই হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ছবি আঁকা, গান করা, কম্পিউটার চালনা বা গাণিতিক সমাধানসহ অনেক জটিল বিষয়ে এ ধরনের শিশু পারদর্শী হয়। সাধারণত অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের যেসব বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয় তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো। মৌখিক বা অমৌখিক যোগাযোগে সীমাবন্ধতা, ii. সীমাবদ্ধ কিছু কাজ বা আচরণের পুনরাবৃত্তি, iii. শ্রবণ, দর্শন, গন্ধ, স্বাদ, স্পর্শ, ব্যাথা, ভারসাম্য ও চলনে অন্যদের তুলনায় বেশি বা কম সংবেদনশীলতা, iv. চোখে চোখ না রাখা বা কম রাখা, v. অস্বাভাবিক শারীরিক অঙ্গভঙ্গি প্রভৃতি।
উদ্দীপকের পাঁচ বছর বয়সী শিশু 'X' এর ক্ষেত্রে দেখা যায়, তার চেহারা ও অবয়ব অন্য শিশুদের মতো তার মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু কাজ বা আচরণের প্রবণতা লক্ষ করা যায় এবং অন্যদের তুলনায় সে একটু কম বা বেশি সংবেদনশীল। তার শারীরিক ও মানসিক এ বৈশিষ্ট্যের সাথে অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের মিল রয়েছে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের 'X' অটিজমে আক্রান্ত প্রতিবন্ধী শিশু।
ঘ.
হ্যাঁ, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে প্রতিবন্ধী শিশুরা একদিন সম্পদে পরিণত হবে।
প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। এদেরকে সমাজের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অর্ন্তভুক্ত করা প্রয়োজন। তাহলেই দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব। আর এজন্য সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমাদের সমাজের প্রতিবন্ধীরা বিভিন্ন রকমের সমস্যায় ভুগছে। এসব সমস্যা সমাধান করে তাদেরকে ন্যায়সঙ্গত অধিকার দিতে হবে। তাদের প্রতি সমাজের মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। তাহলে তারা প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে সমাজের সর্বস্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে প্রতিবন্ধীদের আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা দিতে হবে। এতে তারা আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে উঠবে। প্রতিবন্ধীদেরকে উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেওয়া উচিত। তাদের জন্য কাজের ব্যবস্থা এবং ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও প্রতিবন্ধীদের জন্য আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলে সার্বিক নিরাপত্তা পেয়ে নিজের জন্য ও সমাজের জন্য কাজ করতে পারবে। তারা আলোকিত মানুষ হয়ে সমাজকে উজ্জ্বল করতে পারবে। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রতিবন্ধীদের প্রতি সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারলে তারা আর সমাজের বোঝা থাকবে না। তারাও নিজেদের প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে আলোকিত সমাজ গড়ার কর্ণধার হতে পারবে।