Facebook Pixel

২০২০ সালের ৫ মে ভারতীয় ও চীনা সেনারা তাদের নিয়ন্ত্রণ রেখা পূর্ব লাদাখের বিভিন্ন স্থানে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হবার প্রতিবাদে ভারত ‘বয়কট চীন' কর্মসূচি গ্রহণ করে। পুরোভারত জুড়ে তখন একটাই স্লোগান ‘চীনের জিনিস চাই না' এছাড়াও কোলকাতার বড় বাজারে চীনা পণ্য পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানায়। ক. ভারতবর্ষের ইতিহাসে শাসন কয় ভাগে বিভক্ত? খ. হান্টার কমিশন বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর । ঘ. এই আন্দোলন জাতীয় পর্যায়ে সাড়া জাগাতে ব্যর্থ হয় কেন? মতামত দাও।

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনঃ ব্রিটিশ আমল

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ভারতবর্ষের ইতিহাসে শাসন ৩ ভাগে বিভক্ত। খ. ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে উডের ডেসপ্যাচ এর নির্ধারিত শিক্ষানীতি কতটা কার্যকরী হযেছে তা অনুসন্ধান করার জন্য এবং ওই নীতির আর কোন উপযোগিতা আছে কিনা সে বিষয়ে পরামর্শ দানের উদ্দেশ্যে হান্টার কমিশন গঠিত হয়েছিল। কমিশনের প্রধান কাজ ছিল সরকারি, মিশনারি ও ভারতীয় প্রয়াসের গুরুত্ব নির্ণয় করা। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা আমার পাঠ্যবইয়ের স্বদেশি আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। নিচে ব্যাখ্যা করা হলোঃ উদ্দীপকে ২০২০ সালের ৫ মে ভারতীয় ও চীনা সেনারা তাদের নিয়ন্ত্রণ রেখা পূর্ব লাদাখের বিভিন্ন স্থানে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হবার প্রতিবাদে ভারত &lsquo;বয়কট চীন' কর্মসূচি গ্রহণ করে। পুরোভারত জুড়ে তখন একটাই স্লোগান &lsquo;চীনের জিনিস চাই না' এছাড়াও কোলকাতার বড় বাজারে চীনা পণ্য পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানায়। স্বদেশী আন্দোলন ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন। এ আন্দোলন ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ হতে উদ্ভূত হয়ে ১৯০৮ সাল পর্যন্ত চলমান ছিল। এ আন্দোলন ছিল গান্ধী-পূর্ব আন্দোলনসমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সফল। স্বদেশি আন্দোলনে ভারতবর্ষের লোকজন ইংরেজদের জিনিসপাতি ক্রয় করা বন্ধ করে দিয়েছিল। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের সাথে স্বদেশী আন্দোলনের মিল রয়েছে। ঘ. বিভিন্ন অসংগতির জন্য স্বদেশি আন্দোলন জাতীয় পর্যায়ে সাড়া জাগাতে ব্যর্থ। নিচে বিশ্লেষণ করা হলোঃ বঙ্গভঙ্গ &ndash; বিরোধী স্বদেশী আন্দোলন ভারতের জনমানসে গভীর প্রভাব ফেলে। ছাত্র &ndash; শ্রমিক &ndash; নারীসহ সমাজের নানা শ্রেণির মানুষ সর্বপ্রথম এই সংঘবদ্ধ জাতীয় আন্দোলনে শামিল হন । কিন্তু প্রবল উৎসাহ, উদ্দীপনার সঙ্গে শুরু হয়েও শেষ পর্যন্ত স্বদেশি আন্দোলন গতিহীন হয়ে পড়ে। অন্তর্নিহিত নানা ত্রুটি ও দুর্বলতা এই আন্দোলনকে ব্যর্থ করেছিল। <u>সংগঠনের অভাবঃ </u>স্বদেশী আন্দোলনের পেছনে কোনো কার্যকরী সংগঠন ছিল না । নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ, সমাজ সংস্কার, গঠন মূলক সংস্কার ইত্যাদি কর্মসূচি একটি বিশেষ কেন্দ্র থেকে সুসংগঠিত পথে পরিচালিত না হওয়ায় আন্দোলন ব্যর্থ হয়। <u>অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বঃ </u>আন্দোলনকারীদের অভ্যন্তরীণ মতভেদ ও দ্বন্দ্ব স্বদেশি আন্দোলনকে দুর্বল করেছিল। স্বদেশি কর্মসূচির প্রশ্নে নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের বিরোধ তীব্র রূপ নেয়। নরমপন্থীরা প্রথম থেকেই বয়কটের বিরোধী ছিলেন। পরে তাঁরা বয়কট মেনে নিলেও, এই অস্ত্রের সীমিত প্রয়োগ চেয়েছিলেন। কিন্তু চরমপন্থীরা বয়কটকে সর্বাত্মক করতে আগ্রহী ছিলেন। <u>কৃষি কর্মসূচির অভাবঃ</u> স্বদেশী আন্দোলনের নেতৃত্ব কৃষকদের স্বার্থ &ndash; সংক্রান্ত কোনো কর্মসূচি নেয়নি। কৃষকদের দাবিদাওয়া নিয়ে তাদের সংগঠিত করার কোনো প্রয়াস এই আন্দোলনে ছিল না। ড. সুমিত সরকারের মতে, কৃষকদের স্বদেশী আন্দোলনে যুক্ত করার ব্যর্থতা এই আন্দোলনের প্রধান দুর্বলতা ছিল। <u>মুসলমানদের অসহযোগিতাঃ</u> স্বদেশী আন্দোলনের অন্যতম দুর্বলতা ছিল সাধারণ মুসলমান শ্রেণির আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্নতা। বঙ্গ বিভাগ মুসলমানদের স্বার্থের সহায়ক এই তত্ত্ব প্রচারিত হলে মুসলমানরা আন্দোলনের মূল স্রোত থেকে সরে যায় । এ ছাড়া আন্দোলনের নেতারা বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও হিন্দু জাতীয়তাবাদ সমার্থক করে তুললে মুসলমানরা হতাশ হন। লিয়াকত হোসেন, আবদুল রসুল, আবদুল হালিম গজনভি প্রমুখ অল্পসংখ্যক জাতীয়তাবাদী মুসলমান স্বদেশী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিলেও সাধারণ মুসলিম সমাজ এই আন্দোলন থেকে দূরে ছিল। <u>নেতৃত্বের সংকটঃ</u> ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে আন্দোলনে নেতৃত্বের সংকট প্রকট হয়। অশ্বিনী কুমার দত্ত কৃষ্ণ কুমার মিত্রসহ বাংলার নয়জন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে দ্বীপান্তরে পাঠানো হয়।অরবিন্দ ঘোষ সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যান। এইভাবে নেতৃত্বের সংকট স্বদেশী আন্দোলনকে গতিহীন করে দেয়। পরিশেষে বলা যায় যে, এই ধরণের বিভিন্ন অসংগতির জন্য স্বদেশি আন্দোলন জাতীয় পর্যায়ে সাড়া জাগাতে ব্যর্থ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

২০২০ সালের ৫ মে ভারতীয় ও চীনা সেনারা তাদের নিয়ন্ত্রণ রেখা পূর্ব লাদাখের বিভিন্ন স্থানে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হবার প্রতিবাদে ভারত ‘বয়কট চীন' কর্মসূচি গ্রহণ করে। পুরোভারত জুড়ে তখন একটাই স্লোগান ‘চীনের জিনিস চাই না' এছাড়াও কোলকাতার বড় বাজারে চীনা পণ্য পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানায়।

ক.

ভারতবর্ষের ইতিহাসে শাসন কয় ভাগে বিভক্ত?

খ.

হান্টার কমিশন বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ.

এই আন্দোলন জাতীয় পর্যায়ে সাড়া জাগাতে ব্যর্থ হয় কেন? মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Bengal Municipal Act ? Hunter Commission Bengal Tenancy Act Factory Act (1887) ক. স্যার সৈয়দ আহমদের প্রকাশিত বইয়ের নাম...

The Spirit of Islam বইটির লেখক কে?

Vernacular Press Act রহিত করেন কে?

'X' রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের মানুষের বসবাস। একদা ঐ রাষ্ট্রে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হলে একটি নির্দিষ্ট ধর্মী...

Bengal Municipal Act' কী ?

ক. কে ' লাহোর প্রস্তাব ' উত্থাপন করেন ? খ. মুসলিম লীগ গঠনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের ছকের &lsquo; ক &rsquo; চি...

&ldquo; তেলের শিশি ভাঙল বলে খোকার উপর রাগ করিস। ' তোরা তো সব বুড়ো খোকা ভারত ভেঙে ভাগ করিস। &rdquo; কবিতার অংশটুকু পড়তে...

অসহযোগ আন্দোলনের নেতা ছিলেন?

উদ্দীপকের সমিতির সাথে যে প্রতিষ্ঠানের মিল পাওয়া যায়-

কত সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মৃত্যুবরণ করেন ?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।