ক.
শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
খ.
১৯০৬ সালে ভারতবর্ষের মুসলমানদের প্রথম রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ গঠিত হয়। মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল—
(i) ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ভারতীয় মুসলমানদের আনুগত্য বৃদ্ধি এবং সরকারের নীতি ও কার্যক্রম সম্পর্কে মুসলিম জনগণের ভুল ধারণা দূর করা; (ii) ভারতীয় মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা; (iii) ভারতের অন্যান্য সম্প্রদায়ের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। এসব লক্ষ নিয়ে কাজ করার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই মুসলিম লীগ মুসলমানদের নিকট অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সংঘে পরিণত হয়।
গ.
উদ্দীপকের ছকের 'ক' চিহ্নিত স্থানে স্বদেশি আন্দোলনের প্রতিফলন ঘটেছে।
ব্রিটিশ সরকারের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ব্যর্থ হলে কংগ্রেসের উগ্রপন্থি অংশের নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তাকেই স্বদেশি আন্দোলন বলা হয়। এ আন্দোলনের মূল কর্মসূচি ছিল দুটি— বয়কট ও স্বদেশি। ‘বয়কট' আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন। ক্রমে ক্রমে ‘বয়কট' শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহার হতে থাকে। বয়কট শুধু বিলেতি পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিলেতি শিক্ষা বর্জনও কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। ফলে স্বদেশি আন্দোলন শিক্ষাক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনে রূপ নেয়। বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন করার অপরাধে সরকারি স্কুল-কলেজ থেকে বহু শিক্ষার্থীকে বের করে দেওয়া হয়। যে কারণে জাতীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজন দেখা দেয়। জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনের ফলে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক জাতীয় বিদ্যালয় স্থাপিত হয় এবং কয়েকটি কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্রও গড়ে ওঠে।
স্বদেশি আন্দোলন ক্রমশ বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বিলেতি শিক্ষা বর্জনের মতো পণ্য বর্জনের জন্যও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। স্থানে স্থানে সমিতির মাধ্যমে বিলেতি পণ্য বর্জন এবং দেশীয় পণ্য ব্যবহারে শপথ নেওয়া হয়। কংগ্রেস নেতারা গ্রামে-গঞ্জে-শহরে প্রকাশ্য সভায় বিলেতি পণ্য পুড়িয়ে ফেলা এবং দেশীয় পণ্য ব্যবহারের জন্য 'জনগণকে উৎসাহিত করতে থাকেন। ফলে, বিলেতি পণ্যের চাহিদা কমে যেতে থাকে। একই সঙ্গে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে এ সময় দেশি তাঁতবস্ত্র, সাবান, লবণ, চিনি ও চামড়ার দ্রব্য তৈরির কারখানা গড়ে ওঠে।
ঘ.
উক্ত আন্দোলন অর্থাৎ স্বদেশি আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে পুরাপুরি সফল হয়নি। কেননা মুসলমান সমাজ দূরে থাকার কারণে স্বদেশি আন্দোলন জাতীয় রূপ লাভে ব্যর্থ হয়। এ আন্দোলনের মাধ্যমে বিলেতি দ্রব্য বর্জন আন্দোলনও সফল হয়নি। কারণ কলকাতার মাড়োয়ারি অবাঙালি ব্যবসায়ী এবং বাংলার গ্রামগঞ্জের ব্যবসায়িরা এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়নি। সর্বোপরি গোপনে সশস্ত্র সংগ্রামের পথে অগ্রসর হলে এ আন্দোলন থেকে জনগণ দূরে সরে যায়। ফলে গণবিচ্ছিন্ন আন্দোলন সফলতার দ্বারে পৌছতে ব্যর্থ হয়।
তাছাড়া সাধারণ মানুষ, এমনকি নিম্নবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়, দরিদ্র, সমাজও এ আন্দোলনের মর্ম বোঝার চেষ্টা করেনি। ফলে আন্দোলন সর্বজনীন এবং জাতীয় রূপ লাভ করতে ব্যর্থ হয়। এর ওপর চলে ইংরেজ সরকারের চরম দমননীতি পুলিশি অত্যাচার। সবকিছু মিলে শেষপর্যন্ত আন্দোলন ব্যর্থ হয়।
স্বদেশি আন্দোলনে তাৎক্ষণিক সফলতা না এলেও এর ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণসচেতনতার জন্ম হয়। এ আন্দোলন উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা করে। আন্দোলনের সঙ্গে ছাত্রসমাজ যুক্ত হওয়ার কারণে গুরুত্ব যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি জনগণ রাজনীতি সচেতন হয়ে ওঠে।