Facebook Pixel

২০১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন একটি বিষয়ে ভর্তি হয় রুনা। বিষয়টির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় ১৯২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে দর্শন বিভাগের নীতিশাস্ত্রের সাথে সমাজবিজ্ঞানের কিছু বিষয়বস্তু পরবর্তীতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাথে পড়ানোর মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়টি সর্বপ্রথম স্বতন্ত্র একটি বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। যার প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন একজন ফরাসি নৃবিজ্ঞানী। ক. সমাজবিজ্ঞানের জনক কে? খ. বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান বিকাশে যারা গুরুত্বপূর্ণ ? অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে পাঁচ জনের নাম উল্লেখ কর। গ. উদ্দীপকে রুনা যে বিষয়টি অধ্যয়ন করার জন্য ভর্তি হয়েছে তার বিকাশধারা ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত বিষয়টি অধ্যয়ন করে কী কী জ্ঞান অর্জন করা যাবে বলে তুমি মনে কর? তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার বিকাশ

উৎস: Board Exam Question DB 2017, Board Exam Question RB 2017, Board Exam Question JB 2017, Board Exam Question CB 2017, Board Exam Question SB 2017, Board Exam Question Combined 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) সমাজবিজ্ঞানের জনক হলেন ফরাসি চিন্তাবিদ অগাস্ট কোঁৎ। (খ) বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চা ও বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা পাঁচজন ব্যক্তির নাম নিচে উল্লেখ করা হলো: ১. ড. এ. কে. নাজমুল করিম ২. অজিত কুমার সেন ৩. হাবিবুল হাসান ৪. ফজলুর রশিদ খান ৫. ড. মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা। এই ব্যক্তিবর্গের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান একটি স্বতন্ত্র পাঠ্য বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ও বিকশিত হয়েছে। (গ) উদ্দীপকে রুনা যে বিষয়টি অধ্যয়ন করার জন্য ভর্তি হয়েছে, তা হলো সমাজবিজ্ঞান। বাংলাদেশে এই বিষয়টির বিকাশধারার একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে, যা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ১৯২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের নীতিশাস্ত্র ও মনোবিজ্ঞানের সাথে সমাজবিজ্ঞানের কিছু বিষয়বস্তু পড়ানো শুরু হয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাথেও এই বিষয়ের পাঠদান চলে। ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান নামে সর্বপ্রথম একটি স্বতন্ত্র বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই নবপ্রতিষ্ঠিত বিভাগের প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে ইউনেস্কো বিশেষজ্ঞ ফরাসি সামাজিক নৃবিজ্ঞানী ড. পেরি বেসেইনি নিযুক্ত হন। ১৯৫৮ সালে ড. নাজমুল করিম এই বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এর ভিত্তি মজবুত করেন। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৬৪ সালের ২৪ আগস্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাধ্যমে সমাজবিজ্ঞান পঠন-পাঠন শুরু হয়। ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে সমাজবিজ্ঞান বিকাশের পথ আরও প্রশস্ত হয় এবং ১৯৭০ সালে সেখানে সমাজতত্ত্ব নামে একটি আলাদা বিভাগের আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ২০০২ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২০১২ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়। এভাবেই পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান বিষয়টি বিকশিত হয়ে বর্তমান রূপ লাভ করেছে। (ঘ) আমার মতে, সমাজবিজ্ঞান বিষয়টি অধ্যয়ন করে সমাজ এবং সমাজে বসবাসরত মানুষের জীবন ও পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে বহুমুখী জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব। এর গুরুত্ব ও অর্জিত জ্ঞানের দিকগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: প্রথমত, সমাজবিজ্ঞানের মাধ্যমে সমাজের গঠন, উদ্দেশ্য, লক্ষ্য এবং এর বিবর্তন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সমাজের কাঠামো বুঝতে পারা অত্যন্ত জরুরি। দ্বিতীয়ত, মানুষের জীবনপ্রণালি, রীতিনীতি, মূল্যবোধ এবং আদর্শ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান লাভ করা যায়, যা সামাজিক সংহতি বজায় রাখতে সাহায্য করে। তৃতীয়ত, সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা ও বর্ণের পারস্পরিক বৈচিত্র্য এবং এর ফলে সৃষ্ট জটিলতাগুলো অনুধাবন ও নিরসনে সমাজবিজ্ঞান দিকনির্দেশনা প্রদান করে। এছাড়া সামাজিক পরিবর্তনের ধরন, ধারা এবং এর ফলে উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যা যেমন- অপরাধ, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করার উপায় সম্পর্কে জানা যায়। চতুর্থত, নাগরিকের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা যায়, যা ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে সহায়ক। পরিশেষে বলা যায়, টেকসই উন্নয়নমূলক কাজ এবং সামাজিক কাঠামোর ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য। তাই আমি মনে করি, সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে আমরা সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবগত হয়ে বাস্তব জীবনে বহুমুখী ও কার্যকর সামাজিক ভূমিকা পালন করতে পারব।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2017)Rajshahi Board (2017)Jessore Board (2017)Cumilla Board (2017)Sylhet Board (2017)Combined Board (2017)

২০১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন একটি বিষয়ে ভর্তি হয় রুনা। বিষয়টির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় ১৯২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে দর্শন বিভাগের নীতিশাস্ত্রের সাথে সমাজবিজ্ঞানের কিছু বিষয়বস্তু পরবর্তীতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাথে পড়ানোর মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়টি সর্বপ্রথম স্বতন্ত্র একটি বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। যার প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন একজন ফরাসি নৃবিজ্ঞানী।

ক. সমাজবিজ্ঞানের জনক কে?

খ. বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞান বিকাশে যারা গুরুত্বপূর্ণ ? অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে পাঁচ জনের নাম উল্লেখ কর।

গ. উদ্দীপকে রুনা যে বিষয়টি অধ্যয়ন করার জন্য ভর্তি হয়েছে তার বিকাশধারা ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উক্ত বিষয়টি অধ্যয়ন করে কী কী জ্ঞান অর্জন করা যাবে বলে তুমি মনে কর? তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Course de Philosophie Positive' বইটি কোন সমাজবিজ্ঞানীর লেখা?

'অর্থশাস্ত্র' গ্রন্থটির লেখক কে?

'আকবরনামা' গ্রন্থের লেখক কে?

ক. অগবার্নের মতে সংস্কৃতির ধরনসমূহ কী কী? খ. 'সংস্কৃতি একটি জীবনপ্রণালি' - বুঝিয়ে লেখ। গ. উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানের ...

কখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কখন প্রতিষ্ঠিত হয়?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম অধ্যক্ষ কে ছিলেন?

দেশবিভাগের পূর্বে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত উচ্চশিক্ষার এ প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পথ সুগম হয়। তার পর অনেক...

দেশবিভাগের পূর্বে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত উচ্চশিক্ষার এ প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পথ সুগম হয়। তার পর অনেক...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।