(ক)
অগবার্নের মতে সংস্কৃতির ধরন দুটি। যথা: বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্তুগত সংস্কৃতি।
(খ)
সংস্কৃতি বলতে মানুষের জীবনযাপনের সামগ্রিক পদ্ধতিকে বোঝায়। একজন মানুষ তার জীবনে যা কিছু করে, চিন্তা করে এবং যা কিছু অর্জন করে, তার সবই সংস্কৃতির অন্তর্গত। সংস্কৃতি কোনো স্থবির বিষয় নয়, বরং এটি গতিশীল। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের জীবনপ্রণালিতে যে পরিবর্তন আসে, তা সংস্কৃতিরই অংশ। এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে সংস্কৃতির এই সঞ্চালন ঘটে। তাই সমাজবিজ্ঞানীরা সংস্কৃতিকে একটি সার্বিক জীবনপ্রণালি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
(গ)
উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানে 'সমাজবিজ্ঞান' বিষয়টি যথাযথ।
ব্যাখ্যা: উদ্দীপকে লেভি স্ট্রস, পেরি বেসেইনি, এ. কে. নাজমুল করিম এবং অজিত কুমার সেনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যারা বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
সমাজবিজ্ঞান হলো সামাজিক জীবন, সামাজিক গোষ্ঠী এবং সমাজের গঠন ও কার্যাবলীর বৈজ্ঞানিক অধ্যয়ন। বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার ইতিহাস খুব দীর্ঘ নয়। ১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান পাঠ শুরুর মাধ্যমে এই অঞ্চলের সমাজবিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণার সূচনা হয়। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে দর্শন এবং চল্লিশ দশকের শুরুতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধীনে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে সমাজবিজ্ঞানের একটি কোর্স চালু করা হয়। অবশেষে লেভি স্ট্রস, এ. কে. নাজমুল করিম এবং অজিত কুমার সেনের প্রচেষ্টায় ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পেরি বেসেইনি এই বিভাগের প্রথম চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ফলে উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানে সমাজবিজ্ঞান বিষয়টিই সবচেয়ে উপযুক্ত।
(ঘ)
বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যক্তিদের মধ্যে এ. কে. নাজমুল করিমের অবদান সর্বাধিক।
যুক্তি: এ. কে. নাজমুল করিম ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫০ সালে ফরাসি অধ্যাপক লেভি স্ট্রস যখন বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞানের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে আসেন, তখন নাজমুল করিম এবং অধ্যাপক অজিত কুমার সেন তার সাথে যুক্ত হন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবং ইউনেস্কোর সহযোগিতায় ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান নামে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ চালু হয়।
নাজমুল করিমের অবদান কেবল বিভাগ প্রতিষ্ঠায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি এই বিষয়ের তাত্ত্বিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার রচিত 'Changing Society in India, Pakistan & Bangladesh' গ্রন্থটি বাঙালি রচিত সমাজবিজ্ঞানের প্রথম পূর্ণাঙ্গ এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী গ্রন্থ, যা আজও শিক্ষার্থীদের জন্য অপরিহার্য। এছাড়া তার 'The Dynamics of Bangladesh Sociology' গ্রন্থ এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত অসংখ্য প্রবন্ধ সমাজবিজ্ঞানের চর্চাকে সমৃদ্ধ করেছে। তিনি বাংলাদেশের সামাজিক পরিবেশ ও প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠ্যসূচি প্রণয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
সুতরাং, বিভাগ প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে পাঠ্যসূচি প্রণয়ন এবং গবেষণামূলক গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে এ. কে. নাজমুল করিমের অবদানই বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে সর্বাধিক বলে প্রতীয়মান হয়।