ক.
স্কুল সমাজকর্ম হলো পেশাদার সমাজকর্মের প্রায়োগিক শাখা, যা স্কুলের প্রধান কার্যাবলির সাথে সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখে।
খ.
প্রবীণদের সমস্যা সমাধানে একজন সমাজকর্মী বহুমুখী ভূমিকা পালন করতে পারেন।
একজন সমাজকর্মী প্রবীণদের একাকীত্ব ও মানসিক অবসাদ দূর করতে কাউন্সিলিং করতে পারেন। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা (যেমন: বয়স্ক ভাতা, স্বাস্থ্যসেবা) যাতে তারা সহজে পেতে পারেন, সে বিষয়ে সহায়তা করেন। পরিবারের সদস্যদের সাথে প্রবীণদের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতেও সমাজকর্মীরা কাজ করেন।
গ.
জাপানের উল্লিখিত পরিস্থিতির জন্য জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম আলেচিত বিষয় হলো জলবায়ু পরিবর্তন ও তার প্রভাব। সাধারণত প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট কারণে বায়ুমণ্ডলের তাপবৃদ্ধিকারী গ্রিনহাউস গ্যাসের (কার্বন ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, নাইট্রাস অক্সাইড, মিথেন ইত্যাদি) মাত্রা বাড়তে থাকে। এর ফলে দীর্ঘ সময়ব্যাপী আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতিতে যে তারতম্য আসে তাই জলবায়ু পরিবর্তন। এর ফলাফল হিসেবে অতিবৃষ্টি, খরা, ভূমিকম্প, সুনামি, ভূমিধস, নদীভাঙন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়।
জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রভাব হিসেবে সুনামি সংঘটিত হয়। সাধারণত সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বা ভূমিধসের কারণে সুনামি হয়ে থাকে। ২০১১ সালে জাপানে সংঘটিত সুনামির কথা উদ্দীপকে বলা হয়েছে। এ সুনামি প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্টি হয়ে জাপান, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি দেশে আঘাত হানে। এ দুর্যোগের ফলে জাপানের অসংখ্য ঘর-বাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এর প্রভাবে দেশটির পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া সুনামির আঘাতে ভেসে যাওয়া বর্জ্য নদ-নদীতে মিশে পানি দূষিত করে তোলে। সুতরাং বলা যায়, জাপানে সুনামি পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী।
ঘ.
উদ্দীপকের জাপানে সৃষ্ট সুনামি পরিস্থিতির জন্য জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী, যা বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্যও হুমকিস্বরূপ।
ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বেশি। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিভিন্ন অঞ্চলে মরুকরণ, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো বা ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি ইত্যাদির মাত্রা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ফলে বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্য, স্বাস্থ্য, পানি সম্পদসহ পুরো জীববৈচিত্র্য ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের সামাজিক ব্যবস্থাতেও পড়ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এদেশের ঋতু বৈচিত্র্যে ব্যাপক রদবদল ঘটছে। যার প্রভাবে একদিকে তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি অঞ্চলভেদে মরুকরণ ঘটাচ্ছে, আবার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও ধরন পরিবর্তনের ফলে কৃষিক্ষেত্রে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সেইসাথে বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহ এবং মেরু অঞ্চলের বরফ গলার মাত্রা বাড়ছে। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও বেড়ে চলেছে। এর ফলে এদেশের উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। এছাড়া সমুদ্রের লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় কৃষিজমির উর্বরা শক্তি নষ্ট হচ্ছে, যা খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে। জলবায়ু পরিবর্তন এদেশের সামাজিক ব্যবস্থাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বসত-ভিটা, কৃষিজমিসহ যাবতীয় সহায়-সম্পদ হারিয়ে অসংখ্য মানুষ উদ্বাস্তুতে পরিণত হচ্ছে। আবাসন এবং কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে তারা শহরে আসছে। এই বাড়তি জনগোষ্ঠীর থাকার জায়গা দিতে গড়ে উঠছে বস্তি, যা মূলত বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার (মাদকাসক্তি, মাদক চোরাচালান, রাহাজানি, নারী নির্যাতন ইত্যাদি) উৎপত্তিস্থল।
সামগ্রিক আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।