ক.
বিয়ের সময় কিংবা বিয়ের আগে বা পরে বরপক্ষ অন্যায়ভাবে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে কন্যাপক্ষের কাছ থেকে যে অর্থসম্পদ আদায় করে তাই যৌতুক।
খ.
পরিমাপযোগ্য সামাজিক সমস্যার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। সমস্যার গতিপ্রকৃতি, ব্যাপকতা প্রভৃতি সম্পর্কে যথাযথ তথ্য সংগ্রহ করে পরিসংখ্যানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সামাজিক সমস্যা পরিমাপ করা যায়। যে পরিস্থিতি পরিমাপ করা যাবে না তা সামাজিক সমস্যা নয়। 'এটি সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিসংখ্যানিক উভয় দিক থেকে পরিমাপযোগ্য হতে হবে।
গ.
উদ্দীপকে 'X' নামক ছয় বছরের বালকটি অটিজম নামক এক ধরনের মানসিক বা স্নায়ুবিক সমস্যার শিকার।
অটিজম একটি স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যা, যার প্রধান লক্ষণ সামাজিক মিথস্ক্রিয়ায় অসুবিধা এবং পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ। অটিস্টিক শিশুরা সাধারণত অন্যদের সাথে মিশতে বা 'কথা বলতে আগ্রহী হয় না। তাদেরকে নাম ধরে ডাকলেও তারা অনেক সময় সাড়া দেয় না এবং চোখে চোখ রেখে কথা বলতেও অসুবিধা অনুভব করে। এছাড়া তারা একই কাজ বারবার করতে পছন্দ করে কিংবা একটি নির্দিষ্ট রুটিন কঠোরভাবে মেনে চলে। উদ্দীপকে উল্লেখিত 'X' একই কাজ বারবার করে, যা অটিজমের একটি সুস্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পায়।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'X'-এর আচরণগুলো যেমন- নাম ধরে ডাকলে সাড়া না দেওয়া, চোখে চোখ রেখে কথা না বলতে পারা এবং একই কাজ বারবার করা, সবই অটিজমের পরিচিত লক্ষণ। এটি একটি সামাজিক সমস্যা কারণ এটি আক্রান্ত শিশুর সামাজিকীকরণ এবং স্বাভাবিক বিকাশে বাধা দেয়, যা পরিবার ও সমাজের জন্য উদ্বেগের কারণ।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত সামাজিক সমস্যাটি হলো অটিজম। এটি কোনো রোগ নয়, বরং একটি স্নায়ুবিক বিকাশজনিত অবস্থা। তাই এর প্রতিরোধ নয়, বরং সঠিক সময়ে শনাক্তকরণ, যত্ন এবং সহযোগিতা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান করণীয়।
অটিজম সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। পরিবার, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষকে অটিজমের বৈশিষ্ট্য, লক্ষণ এবং আক্রান্ত শিশুদের প্রতি সঠিক আচরণ সম্পর্কে শিক্ষিত করতে হবে, যা সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা দূর করবে। কোনো শিশুর মধ্যে অটিজমের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার, কারণ যত কম বয়সে এটি শনাক্ত করা যায়, তত দ্রুত থেরাপি ও বিশেষ শিক্ষাদান শুরু করা সম্ভব হয়, যা ভবিষ্যৎ বিকাশে সহায়ক হয়।
অটিস্টিক শিশুদের উন্নয়নে বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও থেরাপি 'সেন্টারের ব্যবস্থা করতে হবে। স্পিচ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি ও বিহেভিয়ারাল থেরাপির মাধ্যমে তাদের যোগাযোগ, সামাজিক দক্ষতা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়। পাশাপাশি তাদের পরিবারকে মানসিক ও আর্থিক সহায়তা দিতে হবে এবং সঠিক যত্ন নেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সমাজের সকল স্তরে অটিস্টিক শিশুদের অন্তর্ভুক্তির পরিবেশ তৈরি করা। তাদের সাধারণ বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সমাজের সক্রিয় সদস্য হিসেবে গ্রহণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
সুতরাং বলা যায়, অটিজম প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত শনাক্তকরণ, বিশেষ শিক্ষা ও থেরাপি, পারিবারিক সহায়তা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে অটিস্টিক শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব।