Facebook Pixel

২০০৫ সালে বাংলাদেশে ১ কেজি আলুর দাম ছিল ১৫ টাকা। বর্তমানে ১ কেজি আলুর দাম ৪৫ টাকা। এরূপ সকল দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকহার বৃদ্ধি , খোলা বাজারে ঋণপত্র বিক্রি এবং নগদ জমার হার বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া ঋণের রেশনিং ও বন্ধকি ঋণের নগদাংশ পরিবর্তন করে। একইভাবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোরও এ পরিস্থিতিতে আমানতের ওপর বৈধ রিজার্ভ অনুপাত ১৭ % থেকে ২০ % এ উন্নীত করে। ক. বিহিত মুদ্রা কী? খ. মুদ্রার লেনদেন জনিত চাহিদা অর্থের চাহিদাকে কীভাবে প্রভাবিত করে? বুঝিয়ে লেখ। গ. উদ্দীপক থেকে ঋণ নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারগুলো চিহ্নিত কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়াবলি অর্থের মূল্যের ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে তা ব্যাখ্যা কর।

বিষয়: অর্থনীতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-১০ঃ মুদ্রা ও ব্যাংক

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. সরকার আইন দ্বারা বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে যে মুদ্রা চালু করে এবং জনগণ মেনে নিতে বাধ্য থাকে তাকে বিহিত মুদ্রা বলে। খ. আর্থিক লেনদেনের উদ্দেশ্যে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেশের সকল জনগণ ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসমূহ যে পরিমাণ নগদ মুদ্রা হাতে ধরে রাখতে চায় তাকে মুদ্রার লেনদেনজনিত চাহিদা বলে। পরিবারবর্গ ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন জীবনে , দ্রব্যসামগ্রীর ক্রয় - বিক্রয়ও লেনদেন যত বেশি হবে এরূপ অর্থের চাহিদাও তত বেশি হবে। এভাবে মুদ্রার লেনদেন জনিত চাহিদা অর্থের চাহিদাকে ধনাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। গ. উদ্দীপক হতে ঋণ নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো - ১ . ব্যাংক হারের পরিবর্তন নীতি : বাণিজ্যিক ব্যাংকের সুদের হারের সাথে ব্যাংক হারের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। ব্যাংক হার ও সুদের হারের পরিবর্তন দ্বারা বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রদানযোগ্য ঋণের পরিমাণেরও পরিবর্তন ঘটে । ২ . খোলা বাজার নীতি : কেন্দ্রীয় ব্যাংক খোলা বাজারে সরকারি ঋণপত্র ক্রয় - বিক্রয়ের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ৩ . নগদ জমার হার পরিবর্তন : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিকট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট হারে আমানতের যে অংশ জমা রাখতে হয় তাকে নগদ জমার হার বলে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণপ্রদানের পরিমাণ কমাতে চায় তখন এ নগদ জমার হার বাড়িয়ে দেয়। ৪ . ঋণের রেশনিং : নির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণের পরিমাণ স্থির করে দেয়। প্রত্যেক আবেদনকারী কী পরিমাণ ঋণ পাবে , ঋণদানের ক্ষেত্রে কোনো পরিমাণগত বৈষম্য সৃষ্টির প্রয়োজন আছে কি না , জামানতের বিপরীতে কী পরিমাণ ঋণ পাবে এসব কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারণ করে। ৫ . বন্ধকি ঋণের নগদাংশ পরিবর্তন : এ নীতির আলোকে বন্ধকীর হার বেশি হলে নগদ প্রাপ্তি বা প্রদেয় ঋণের পরিমাণ কম হয়। অর্থাৎ কেউ ২০০ টাকার সম্পদ জামানত রাখলে নগদাংশ হিসেবে যদি ৭০ % টাকা রাখতে হয় তাহলে ব্যক্তি ঋণ পাবে ৩০ টাকা । পরিশেষে বলা যায় , উপরিউক্ত বিষয়গুলোই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার। ঘ. একটি দেশের অর্থনীতিতে অর্থের মূল্য পরিবর্তনে মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রা সংকোচনের সৃষ্টি হয়। দেশে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হলে দ্রব্যের দামস্তর বৃদ্ধি বা অর্থের মূল্য হ্রাস পায় এবং মুদ্রা সংকোচনের বা অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টি হলে দামস্তর হ্রাস অর্থাৎ অর্থের মূল্য বৃদ্ধি পায় । উদ্দীপকে দামস্তর বৃদ্ধি বা মুদ্রাস্ফীতির ফলে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ দ্বারা অর্থের মূল্য পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক হার বৃদ্ধি করলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধি পায়। ফলে ঋণের চাহিদাও হ্রাস পায়। এছাড়া খোলা বাজারে সরকারি ঋণপত্র বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ প্রদান ক্ষমতা হ্রাস করে। ফলে অর্থের ফটকা চাহিদা হ্রাস পায়। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক নগদ জমার হার বৃদ্ধি করার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণদানের পরিমাণ হ্রাস পায়। এভাবে প্রত্যক্ষ উপায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রভাব বিস্তার করে একক মুদ্রানীতি বহাল রাখে। অপরদিকে , কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের ন্যূনতম বিধিবদ্ধ রিজার্ভের পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদান ক্ষমতা কমে এবং আমানত সৃষ্টি ব্যাহত হয়। ফলে অর্থের প্রচলন গতি নিয়ন্ত্রিত এবং অর্থের মূল্য বৃদ্ধি পায় বা দামস্তর হ্রাস পায়। দেশে মুদ্রাস্ফীতি রোধে ঋণের রেশনিং পরিবর্তন করে নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি বা আরোপ করলে ঋণের প্রসার রোধ হবে এবং বন্ধকি ঋণের নগদাংশ পরিবর্তন করা হলে তা ঋণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। এভাবে ঋণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থের মূল্য নিয়ন্ত্রিত হবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

২০০৫ সালে বাংলাদেশে ১ কেজি আলুর দাম ছিল ১৫ টাকা। বর্তমানে ১ কেজি আলুর দাম ৪৫ টাকা। এরূপ সকল দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকহার বৃদ্ধি, খোলা বাজারে ঋণপত্র বিক্রি এবং নগদ জমার হার বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া ঋণের রেশনিং ও বন্ধকি ঋণের নগদাংশ পরিবর্তন করে। একইভাবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোরও এ পরিস্থিতিতে আমানতের ওপর বৈধ রিজার্ভ অনুপাত ১৭% থেকে ২০% এ উন্নীত করে।

ক.

বিহিত মুদ্রা কী?

খ.

মুদ্রার লেনদেন জনিত চাহিদা অর্থের চাহিদাকে কীভাবে প্রভাবিত করে? বুঝিয়ে লেখ।

গ.

উদ্দীপক থেকে ঋণ নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারগুলো চিহ্নিত কর।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়াবলি অর্থের মূল্যের ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে তা ব্যাখ্যা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।