Facebook Pixel

২য় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর মিত্রশক্তির দেশগুলো রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে জার্মানিকে পূর্ব ও পশ্চিম, দুটি অংশে বিভক্ত করে ফেলে। পূর্ব অংশের ক্ষমতায় আসে সমাজতান্ত্রিক সরকার। তবে ১৯৮৯ সালের বৈশ্বিক পুঁজিবাদের জোয়ারে সমাজতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটে এবং বিভক্ত জার্মানি একত্রিত হয় । ক. ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন? খ. লর্ড কার্জনের পরিচয় দাও। গ. উদ্দীপকের জার্মানির বিভক্তির মতো পাঠ্যবইয়ের সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়টির পটভূমি ব্যাখ্যা করো। ঘ. উক্ত বিভাজন ছিল ব্রিটিশদের 'ভাগ কর এবং শাসন কর' নীতির সুপরিকল্পিত প্রয়োগ। বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনঃ ব্রিটিশ আমল

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। খ. লর্ড কার্জন ভারতে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাজপ্রতিনিধিদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাইসরয় ছিলেন। ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে অতি অল্প বয়সে তিনি ভারতের ভাইসরয় নিযুক্ত হন । তাঁর বিদ্যাবুদ্ধি, কূটনৈতিক জ্ঞান এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ছিল এখব। লর্ড কার্জনের শাসনব্যবস্থা অভ্যন্তরীণ সংস্কারের জন্য বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। বঙ্গভঙ্গ তার শাসনমলের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা। এছাড়াও একজন সফলকাম শাসক হিসেবে তিনি ভারতবর্ষে ব্রিটিশ স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় একটি শক্তিশালী বৈদেশিক নীতি প্রণয়ন করেন। গ. উদ্দীপকের জার্মানির বিভক্তির মতো পাঠ্যবইয়ের বঙ্গভঙ্গ ও বঙ্গভঙ্গ রদ বিষয়টির সামঞ্জস্য রয়েছে। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বঙ্গভঙ্গ । লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে সমগ্র বঙ্গদেশ অর্থাৎ বাংলা প্রেসিডেন্সিকে দুটি প্রদেশে ভাগ করেন। বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্য প্রদেশ ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে বাংলা প্রেসিডেন্সি গঠিত ছিল। প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলে লর্ড কার্জন বাংলা প্রদেশকে ভাগ করে পূর্বাঞ্চলে পূর্ব বঙ্গ ও আসাম নামে একটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করেন। অন্যদিকে বাংলার অবশিষ্ট অংশের সঙ্গে বিহার ও উড়িষ্যার সমন্বয়ে পশ্চিমবঙ্গ নামে অপর একটি প্রদেশ গঠন করা হয়। ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করা হয়। বঙ্গভঙ্গের প্রতি হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায় বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া দেখায়। ভাগ্যের উন্নয়নের আশায় পূর্ববঙ্গের অনগ্রসর মুসলমানরা একে স্বাগত জানায়। কিন্তু বিশেষ করে শিক্ষিত ও অবস্থাপন্ন হিন্দুরা এর প্রতিবাদে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে। তারা বিষয়টিকে বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলন নস্যাৎ ও মাতৃভূমিকে ভাগ করার ব্রিটিশ ষড়যন্ত্র আখ্যা দেয় । অবশেষে এ আন্দোলনের তীব্রতায় ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেয়। উদ্দীপকে লক্ষণীয় যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত জার্মানিকে দু'ভাগে ভাগ করে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি করা হয়। রাজনৈতিক মতাদর্শের পরিবর্তনে আবার দুই জার্মানি এক হয়। তাই বলা যায়, এ ঘটনার সাথে বঙ্গভঙ্গ ও বঙ্গভঙ্গ রদের ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে। ঘ. উক্ত বিভাজন তথা বঙ্গভঙ্গ ছিল ব্রিটিশদের 'ভাগ কর এবং শাসন কর' নীতির সুপরিকল্পিত প্রয়োগ-উক্তিটি যথার্থ। ভারতে ঔপনিবেশিক শাসনের শুরু থেকেই ব্রিটিশরা 'Divide and Rule' (ভাগ কর ও শাসন কর) নীতি অনুসরণ করে এসেছে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের ঘটনা ও এর ফলাফল বিশ্লেষণ করলে সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টিতে ব্রিটিশ শাসকদের এ নীতির প্রয়োগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উনিশ শতকের শুরু থেকে তৎকালীন ভারতের রাজধানী কলকাতা ছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র। ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর কলকাতাকেন্দ্রিক শিক্ষিত জনগোষ্ঠী ক্রমেই জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠেছিল। সর্বভারতীয় পর্যায়েও বাঙালি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বুদ্ধিজীবীদের প্রভাব ছিল। এরকম রাজনীতি ও সমাজসচেতন হিন্দু ও মুসলমান বাঙালির ঐক্যবদ্ধ শক্তি ব্রিটিশ শাসনের ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে সে বিষয়ে ব্রিটিশ শাসকরা অবগত ছিলেন। ফলে তারা বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে বাঙালিদের দুটি ভাগে বিভক্ত করেন । ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলা হলেও এ পদক্ষেপের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল বাংলার জাতীয়তাবাদী চেতনা ও আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণ করা। আর এক্ষেত্রে ব্রিটিশরা সফলও হয়েছিল। কারণ বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে যে হিন্দু-মুসলিম তিক্ততার সৃষ্টি হয় তা ইংরেজ শাসনকে দীর্ঘায়িত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল। ইতিহাসবিদরা তাই মনে করেন, শুধুই প্রশাসনিক কারণে লর্ড কার্জন বঙ্গ বিভাগ করেননি। এর পেছনে তার সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল এটি ছিল ব্রিটিশদের 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতির অংশ ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

২য় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর মিত্রশক্তির দেশগুলো রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে জার্মানিকে পূর্ব ও পশ্চিম, দুটি অংশে বিভক্ত করে ফেলে। পূর্ব অংশের ক্ষমতায় আসে সমাজতান্ত্রিক সরকার। তবে ১৯৮৯ সালের বৈশ্বিক পুঁজিবাদের জোয়ারে সমাজতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটে এবং বিভক্ত জার্মানি একত্রিত হয় ।

ক.

ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

খ.

লর্ড কার্জনের পরিচয় দাও।

গ.

উদ্দীপকের জার্মানির বিভক্তির মতো পাঠ্যবইয়ের সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়টির পটভূমি ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

উক্ত বিভাজন ছিল ব্রিটিশদের 'ভাগ কর এবং শাসন কর' নীতির সুপরিকল্পিত প্রয়োগ। বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Bengal Municipal Act ? Hunter Commission Bengal Tenancy Act Factory Act (1887) ক. স্যার সৈয়দ আহমদের প্রকাশিত বইয়ের নাম...

The Spirit of Islam বইটির লেখক কে?

Vernacular Press Act রহিত করেন কে?

'X' রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের মানুষের বসবাস। একদা ঐ রাষ্ট্রে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হলে একটি নির্দিষ্ট ধর্মী...

Bengal Municipal Act' কী ?

ক. কে ' লাহোর প্রস্তাব ' উত্থাপন করেন ? খ. মুসলিম লীগ গঠনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের ছকের ‘ ক ’ চি...

“ তেলের শিশি ভাঙল বলে খোকার উপর রাগ করিস। ' তোরা তো সব বুড়ো খোকা ভারত ভেঙে ভাগ করিস। ” কবিতার অংশটুকু পড়তে...

অসহযোগ আন্দোলনের নেতা ছিলেন?

উদ্দীপকের সমিতির সাথে যে প্রতিষ্ঠানের মিল পাওয়া যায়-

কত সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মৃত্যুবরণ করেন ?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।