Facebook Pixel

১৯ শতকের শেষদিকে ফ্রান্স ভিয়েতনাম আক্রমণ করে। তারা দেশটিকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করে। ফরাসিদের উদ্দেশ্য ছিল ভিয়েতনামীদের জাতীয়তাবাদী চেতনাকে দুর্বল করে দেওয়া। তারা ভিয়েতনাম ভাগ করে ভিয়েতনামের সম্পদ কুক্ষিগত করতে তৎপর হয়। পরবর্তীতে ভিয়েতনামের উপনিবেশবাদ বিরোধীরা সাম্যবাদীদের নেতৃত্বে বিদ্রোহী হয়ে ফরাসিদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। ক. দ্বৈতশাসনের প্রবর্তক কে? খ. কীভাবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি লাভ করে? গ. উদ্দীপকের ভিয়েতনাম ভাগের সাথে তোমার পঠিত বঙ্গভঙ্গের মিল কোথায়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. বঙ্গভঙ্গের প্রতিক্রিয়ায় হিন্দুদের আন্দোলনের সাথে ভিয়েতনামের স্বাধীনতা আন্দোলনের যোগসূত্র আছে কি? মতামত দাও।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ বাংলায় কোম্পানি ও ঔপনিবেশিক শাসন

উৎস: Test Exam Question AKMCC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) দ্বৈতশাসনের প্রবর্তক হলেন লর্ড ক্লাইভ। (খ) বক্সারের যুদ্ধের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার প্রকৃত ক্ষমতা লাভ করলেও এর কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল না। মুঘল সম্রাট শাহ আলম দুর্বল শাসক হওয়া সত্ত্বেও আইনগতভাবে তিনিই ছিলেন ভারতের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। তাই কোম্পানি তাদের ক্ষমতাকে বৈধতা দেওয়ার জন্য মুঘল সম্রাটের সহায়তা কামনা করে। ফলস্বরূপ, ১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দের ১২ আগস্ট মুঘল সম্রাটের নিকট থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি সনদ লাভ করে। এই চুক্তির শর্ত ছিল যে, কোম্পানি সুবা বাংলার রাজস্ব আয় থেকে সম্রাটকে বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকা প্রদান করবে এবং নিজামত শাসনের জন্য মুর্শিদাবাদের নবাবকে বার্ষিক ৫৩ লক্ষ টাকা প্রদান করবে। এর মাধ্যমে কোম্পানি আইনগতভাবে রাজস্ব আদায়ের অধিকার লাভ করে এবং বাংলায় তাদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। (গ) উদ্দীপকের ভিয়েতনাম ভাগের সাথে আমার পঠিত বঙ্গভঙ্গের মূল মিলটি হলো জাতীয়তাবাদী চেতনা দমন করার জন্য ঔপনিবেশিক শক্তির দ্বারা পরিকল্পিত বিভাজন বা 'বিভাজন ও শাসন' (Divide and Rule) নীতির প্রয়োগ। উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৯ শতকের শেষদিকে ফ্রান্স ভিয়েতনাম আক্রমণ করে এবং দেশটিকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করে। ফরাসিদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভিয়েতনামীদের জাতীয়তাবাদী চেতনাকে দুর্বল করে দেওয়া এবং দেশটিকে বিভক্ত করে তাদের সম্পদ কুক্ষিগত করা। একইভাবে, ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন কর্তৃক বঙ্গভঙ্গের পেছনেও ছিল ব্রিটিশদের একই ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। তৎকালীন সময়ে কলকাতাকে কেন্দ্র করে বাঙালি মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী শ্রেণির মধ্যে প্রবল জাতীয়তাবোধ জাগ্রত হয়েছিল, যা ব্রিটিশ শাসনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ব্রিটিশরা চেয়েছিল এই ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দমন করতে এবং বাঙালি শক্তিকে দুর্বল করতে বাংলাকে পূর্ব ও পশ্চিম এই দুই ভাগে বিভক্ত করতে। তারা প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলে এই বিভাজনের কথা জানালেও প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে তাদের ঐক্য নষ্ট করা। সুতরাং, ফরাসিদের দ্বারা ভিয়েতনাম ভাগ এবং ব্রিটিশদের দ্বারা বঙ্গভঙ্গ, উভয় ক্ষেত্রেই ঔপনিবেশিক শক্তি তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং স্থানীয় জনগণের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে বিভাজন নীতি অবলম্বন করেছিল। (ঘ) বঙ্গভঙ্গের প্রতিক্রিয়ায় হিন্দুদের আন্দোলনের সাথে ভিয়েতনামের স্বাধীনতা আন্দোলনের লক্ষ্য ও ফলাফলের দিক থেকে সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই বলে মনে হয়। তবে উভয় আন্দোলনের মূলে ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ। বঙ্গভঙ্গের প্রতিক্রিয়ায় বাংলার অভিজাত হিন্দু সমাজ ও কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত তীব্র। ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হলে উচ্চ ও মধ্যবিত্ত হিন্দুরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়। সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি, বিপিনচন্দ্র পাল, অরবিন্দ ঘোষ এবং বালগঙ্গাধর তিলকের মতো নেতারা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। এই আন্দোলনের পেছনে কিছু বৈষয়িক স্বার্থও জড়িত ছিল; যেমন, নতুন প্রদেশে পৃথক হাইকোর্ট গঠিত হলে কলকাতার আইনজীবীদের পেশাগত স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা এবং মুসলমানদের একচেটিয়া প্রভাব বৃদ্ধির ভয়। তারা 'স্বদেশি' কর্মসূচি গ্রহণ করে এবং ব্রিটিশ পণ্য বয়কটের ডাক দেয়। এই আন্দোলন এক পর্যায়ে চরমপন্থী রূপ নিলেও এর মূল লক্ষ্য ছিল বঙ্গভঙ্গ রদ করা, যা ১৯১১ সালে সফল হয়। তবে এই আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা আসেনি। অন্যদিকে, ভিয়েতনামের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম। সাম্যবাদীদের নেতৃত্বে ভিয়েতনামের মানুষ ফরাসি উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ করে এবং দীর্ঘ সংগ্রামের পর তারা পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। ভিয়েতনামের আন্দোলন ছিল সরাসরি সার্বভৌমত্ব অর্জনের লড়াই, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের স্বার্থের চেয়ে জাতীয় মুক্তি ছিল প্রধান লক্ষ্য। পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গভঙ্গবিরোধী হিন্দু আন্দোলন ছিল মূলত একটি রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়া যা নির্দিষ্ট দাবি পূরণের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছিল, আর ভিয়েতনামের আন্দোলন ছিল একটি বৈপ্লবিক স্বাধীনতা সংগ্রাম। তাই উভয়ের মধ্যে আদর্শিক বা ফলাফলের দিক থেকে কোনো গভীর যোগসূত্র নেই।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Abdul Kadir Molla City College (2026)

১৯ শতকের শেষদিকে ফ্রান্স ভিয়েতনাম আক্রমণ করে। তারা দেশটিকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করে। ফরাসিদের উদ্দেশ্য ছিল ভিয়েতনামীদের জাতীয়তাবাদী চেতনাকে দুর্বল করে দেওয়া। তারা ভিয়েতনাম ভাগ করে ভিয়েতনামের সম্পদ কুক্ষিগত করতে তৎপর হয়। পরবর্তীতে ভিয়েতনামের উপনিবেশবাদ বিরোধীরা সাম্যবাদীদের নেতৃত্বে বিদ্রোহী হয়ে ফরাসিদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। ক. দ্বৈতশাসনের প্রবর্তক কে? খ. কীভাবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি লাভ করে? গ. উদ্দীপকের ভিয়েতনাম ভাগের সাথে তোমার পঠিত বঙ্গভঙ্গের মিল কোথায়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. বঙ্গভঙ্গের প্রতিক্রিয়ায় হিন্দুদের আন্দোলনের সাথে ভিয়েতনামের স্বাধীনতা আন্দোলনের যোগসূত্র আছে কি? মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আরবি কোন শব্দ হতে 'ফরায়েজি' শব্দের উৎপত্তি হয়েছে?

ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে তিতুমীরের পরাজয়ের কারণ ছিল- i. তিতুমীরের সমর্থকদের অসহযোগিতা ii. ইংরেজদের উন্নত যুদ্ধ কৌশল iii. তিত...

ইনসান আলি বাল্যকাল থেকে সাহসী, মেধাবী ও ধর্মপরায়ণ। ছিলেন। পরাধীন দেশে স্বজাতির নানা অসংগতি দেখে তিনি ব্যথিত হন। বিদেশি শ...

ইমরান আলি বাল্যকাল থেকে সাহসী, মেধাবী ও ধর্মপরায়ণ ছিলেন। পরাধীন দেশে স্বজাতির নানা অসংগতি দেখে তিনি ব্যথিত হন। বিদেশি শা...

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কত খ্রিষ্টাব্দে দিওয়ানি লাভ করে?

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কোন সালে গঠিত হয়?

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়েছিল কেন?

উত্তর আফ্রিকার সুদানে উপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন যাবত চলে। অবশেষে ঔপনিবেশিক শাসকেরা সুদান শাসনের জন্য সুদানের জনগণক...

উত্তর আফ্রিকার সুদানে উপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন যাবৎ চলে। অবশেষে ঔপনিবেশিক শাসকরা সুদান শাসনের জন্য সুদানের জনগণকে...

উত্তর আফ্রিকার সুদানে ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন যাবৎ চলে। অবশেষে ঔপনিবেশিক শাসকরা সুদান শাসনের জন্য সুদানের জনগণকে...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।