ক.
এইডস এইচআইভি ভাইরাসসৃষ্ট একটি নিরাময় অযোগ্য রোগ যাতে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়।
খ.
সামাজিক সমস্যা সমাজ থেকে উদ্ভূত' বলতে সমস্যার সামাজিক কেন্দ্রস্থলের প্রতি ইঙ্গিত করা হয় ।
বিশৃঙ্খলা, মূল্যবোধের অবক্ষয়সহ বিভিন্ন নেতিবাচক পরিস্থিতির কারণে সামাজিক সমস্যা দেখা দেয়। এ ধরনের সমস্যা সমাজের মানুষের জন্য একটি অস্বাভাবিক অবস্থা, যা তাদের সুষ্ঠু জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে। এটি সমাজের বাইরের কোনো অবস্থা নয়। সমাজে বসবাসকারী মানুষই এ অবস্থা সৃষ্টির জন্য দায়ী। তাই বলা হয়, সামাজিক সমস্যা সমাজ থেকে উদ্ভূত ।
গ.
উদ্দীপকে জনসংখ্যা সমস্যার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ সমস্যা আমাদের সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
কোনো দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি চাহিদানুযায়ী যদি সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা না বাড়ে তখন আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি ব্যাহত হয়। বাড়তি জনসংখ্যা তখন সম্পদ না হয়ে সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। কেননা জনসংখ্যা বাড়লেও বাড়তি জনগণের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ছে না। ফলে এর কু-প্রভাব পড়ছে আমাদের সামাজিক জীবনে ।
অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে সরকারের পক্ষে সব নাগরিকের মৌল মানবিক চাহিদা অর্থাৎ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি যথাযথভাবে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে আবাসনের প্রয়োজন মেটাতে শহরাঞ্চলে অপরিকল্পিত বসতি গড়ে উঠেছে। অনেকক্ষেত্রে সেগুলো মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক তৎপরতার ঘাঁটি হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা বা স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না । এছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাবে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভূমিহীন এবং দরিদ্র মানুষের সংখ্যা। সেইসাথে বাড়ছে নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী ও বেকারের হার। অন্যদিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, পরিবেশ দূষণ, নিম্ন মাথাপিছু আয়, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়াসহ আরো বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, অতিরিক্ত জনসংখ্যা নানামুখী সমস্যা সৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের সমাজজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ঘ.
উদ্দীপকের সমস্যা অর্থাৎ জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হলে অনেক সমস্যারই সমাধান করা সম্ভব- উক্তিটি যথার্থ।
সমাজ হলো সামাজিক উপাদান ও সম্পর্কের জটিল জাল। প্রতিটি সামাজিক সমস্যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একে অন্যের সাথে সম্পর্কিত তাই সমাজের কোনো কাঠামোর মধ্যে অসঙ্গতি দেখা দিলে তার প্রতিক্রিয়া সব ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়। যেমন— নিরক্ষরতার কারণে পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়। আবার পুষ্টিহীনতাও নিরক্ষরতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে থাকে। একইভাবে অতিরিক্ত জনসংখ্যা বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই সঙ্গত কারণেই বলা যায়, জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান করা গেলে এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য সমস্যার সমাধান করা অনেকাংশে সম্ভব হবে।
আয়তন অনুপাতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনেক বেশি। ফলে সাধারণ মানুষের মৌল মানবিক চাহিদা পূরণে সরকারকে হিমশিম খেতে হয় । শিল্পের অবদান ক্রমশ বেড়ে চললেও কৃষি এখনো আমাদের অর্থনীতির একটা বড় ভিত্তি। কিন্তু এ দেশের কৃষিজমি যেমন কম, তেমনি উৎপাদন পদ্ধতিও আধুনিক নয়। প্রাকৃতিক সম্পদ, পুঁজি, দক্ষ মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিজ্ঞানের অপ্রতুলতার কারণে শিল্পেও অগ্রগতি আশানুরূপ নয় । সুতরাং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস পেলে তা দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ কমাতে সাহায্য করবে। সেইসাথে সাধারণ মানুষের মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। ফলে এ সমস্ত চাহিদা মেটা অভাবে সৃষ্ট বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার (যেমন-স্বাস্থ্যহীনতা, পুষ্টিহীনতা, বস্তি সমস্যা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নিরক্ষরতা, বেকারত্ব ইত্যাদি) মাত্রাও কমে আসবে। আবার এই সমস্যাগুলো চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, চুরি-ডাকাতি, খুন ইত্যাদি অপরাধ প্রবণতার পেছনে ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ সমাজের এ সব নেতিবাচক পরিস্থিতির জন্য ও অতিরিক্ত জনসংখ্যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী।
সার্বিক আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, প্রতিটি সামাজিক সমস্যাই কোনো না কোনোভাবে একটি অন্যটির সাথে সম্পৃক্ত। একটি সমস্যার সমাধান অন্য সমস্যার সমাধানে সহায়ক হয়। তাই আশা করা যায়, আমাদের দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমিয়ে আনা গেলে অন্যান্য সামাজিক সমস্যার সমাধান করাও সম্ভব হবে।