Facebook Pixel

১৯৬৪ সাল থেকে ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা পৃথক রাষ্ট্রের জন্য সংগ্রাম করে আসছে। কিন্তু ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে তারা সফল হতে পারেনি। ১৯৮২ সালে তারা তিউনিশিয়ার রাজধানী তিউনিশে সদর দপ্তর স্থাপন করেন। প্রবাস থেকেই তারা তাদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। ক. পাক সেনাদের আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রথম কোন বাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তুলে? খ. স্বাধীনতা সংগ্রামে নারীদের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দপ্তরের সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কোন দপ্তরের মিল আছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন উক্ত দপ্তরের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু ছিল? তোমার মতামত দাও।

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. পাক সেনাদের আক্রমণের বিরুদ্ধে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের পুলিশ বাহিনী প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে। খ. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নারীর বহুমুখী স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তাদের অবদানকে গৌরবোজ্জ্বল করেছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরা লজ্জা, ভয় ত্যাগ করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যুদ্ধে অংশগ্রহণের পাশাপাশি নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার, পানি দিয়ে সহযোগিতা করে। আহত যন্ত্রণাকাতর মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে সেবাশুশ্রুষা দিয়ে সুস্থ করে তোলে। অনেক নারী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধেও অংশগ্রহণ করে। এমন দুই জন নারীকে মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতার পর 'বীর প্রতীক' খেতাবে ভূষিত করা হয়েছে। তারা হলেন- তারামন বিবি এবং ডাক্তার সিতারা বেগম। দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক সম্ভ্রম হারানোর শিকার হয়েছে এদেশের প্রায় তিন লাখ নারী। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দপ্তরের সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে গড়ে ওঠা প্রবাসী সরকারের দপ্তরের মিল আছে। মেজর জিয়াউর রহমান ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তারপর ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার ভবেরপাড়া গ্রামকে মুজিবনগর নামকরণ করে এবং সেখানে গড়ে ওঠে মুজিবনগর সরকার। এদিকে ২৫ মার্চের রাত থেকে পাকিস্তানি সেনা কর্তৃক বাংলাদেশিরা আক্রান্ত হলে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধ যুদ্ধও জোরদার হয়। কিন্তু ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করার দুই ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান বিমান বাহিনী মুজিবনগরে বিমান হামলা করে তা দখল করে নেয়। এমন এক পরিস্থিতিতে মুজিবনগর সরকার ভারতের কলকাতায় চলে যায় এবং ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে সরকারের সচিবালয় গড়ে তোলা হয়। প্রবাসী সরকার সেখানে থেকেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে। তাছাড়া বিশ্ব জনমত গঠন থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক মিশন স্থাপন ইত্যাদি কার্যাবলি কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোড থেকেই পরিচালিত হয়। নয় মাস যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হয়। উদ্দীপকে এমন ঘটনারই ইঙ্গিত রয়েছে। ঘ. আমার মতে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন উক্ত দপ্তর তথা কলকাতায় ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে গড়ে ওঠা প্রবাসী সরকারের দপ্তরের যথেষ্ট প্রয়োজন ছিল। কেননা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশিদের জন্য এক অহংকার। নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শেষে আমরা অর্জন করি আমাদের প্রাণপ্রিয় স্বাধীনতা। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাংলাদেশিদের ওপর অতর্কিত এক নৃশংস আক্রমণ পরিচালনা করে। ২৬ মার্চ তারিখে মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ফলে ২৬ মার্চ থেকেই যার যা কিছু আছে তা নিয়ে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করে দেয় বাংলাদেশিরা। আর ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় ভবেরপাড়া গ্রামটিকে মুজিবনগর নামকরণ করে এবং সেখানে গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার। ১৭এপ্রিল মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণের দুই ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী মুজিবনগরে বোমা হামলা করে স্থানটিকে তাদের দখলে নিয়ে যায়। এ অবস্থায় প্রবাসী সরকার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে সচিবালয় গড়ে তোলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন উক্ত দপ্তরের প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম। কেননা তখনকার বাস্তবতায় এ সরকার দেশের ভিতরে যেখানেই দপ্তর স্থাপন করতেন সেখানেই পাকসেনারা তা গুঁড়িয়ে দিত। কাজেই এখানে নিরাপত্তার বিষয়টিকে কোনো অবস্থাতেই খাটো করে দেখার মতো নয়। এক্ষেত্রে কলকাতায় স্থাপিত দপ্তরটি ছিল শতকরা একশ ভাগ নিরাপদ। আর দপ্তর নিরাপদ না হলে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করা এবং আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলা প্রবাসী সরকারের পক্ষে কখনো সম্ভব হতো না এবং আমরা স্বাধীনতা পেতাম কী পেতাম না তাও অনিশ্চিত ছিল। অতএব, উক্ত দপ্তরের প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

১৯৬৪ সাল থেকে ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা পৃথক রাষ্ট্রের জন্য সংগ্রাম করে আসছে। কিন্তু ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে তারা সফল হতে পারেনি। ১৯৮২ সালে তারা তিউনিশিয়ার রাজধানী তিউনিশে সদর দপ্তর স্থাপন করেন। প্রবাস থেকেই তারা তাদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

ক.

পাক সেনাদের আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রথম কোন বাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তুলে?

খ.

স্বাধীনতা সংগ্রামে নারীদের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়- ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত দপ্তরের সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কোন দপ্তরের মিল আছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন উক্ত দপ্তরের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু ছিল? তোমার মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. কত তারিখে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে? খ. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের ছবিটি ...

উক্ত রাতে— i. ঢাকায় পঞ্চাশ হাজারের বেশি মানুষ হত্যা করা হয় ii.বাড়িঘর আগুনে জ্বলিয়ে দেওয়া হয় iii. বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফ...

কত তারিখে বাংলাদেশকে ভারত স্বীকৃতি দেয়?

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে কোন দেশ?

মুজিবনগরের পূর্বনাম কী?

'অপারেশন সার্চলাইট' বলতে কী বোঝায়?

'অপারেশন সার্চলাইট' বলতে কী বোঝায় ?

অরূপ কুমার আফ্রিকার একটি দেশে বসবাস করেন। তিনি ঐ দেশটির মুক্তিযুদ্ধের সময়েও সেখানে অবস্থান করেছিলেন। যুদ্ধ পরিচালনার জন...

অহনা তার ভাইয়ের সাথে মহানগর নাট্যমঞ্চে একটি নাটক দেখতে যায়। নাটকের একপর্যায়ে অহনা দেখতে পায় গভীর রাতে ঘুমন্ত জনগণের ওপর ...

অহনা তার ভাইয়ের সাথে মহানগর নাট্যমঞ্চে একটি নাটক দেখতে যায়। নাটকের একপর্যায়ে অহনা দেখতে পায় গভীর রাতে ঘুমন্ত জনগণের ওপর ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।