Facebook Pixel

অরূপ কুমার আফ্রিকার একটি দেশে বসবাস করেন। তিনি ঐ দেশটির মুক্তিযুদ্ধের সময়েও সেখানে অবস্থান করেছিলেন। যুদ্ধ পরিচালনার জন্য নির্বাচনে জয়লাভকারী কিছু সদস্য দ্বারা একটি সরকার গঠন করা হয়েছিল সেখানে। সরকারের কাজ ছিল যুদ্ধ পরিচালনা করা এবং দেশটির পক্ষে বিশ্বজনমত গঠন করা। যুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য দেশটিকে তারা এগারটি অংশে বিভক্ত করে। ক. মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন ? খ. সাইমন ড্রিং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গর্বিত নাম কেন ? লিখো । গ. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কোন সরকারের সাথে অরূপ কুমারের দেখা দেশটির সরকারের মিল রয়েছে ? ব্যাখ্যা করো । ঘ. তুমি কি মনে কর , এই ধরনের একটি সরকার গঠন ছাড়া বাংলাদেশও স্বাধীন হতো না ? মতামতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন কর্নেল এম এ জি ওসমানী । খ. বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ২৫ মার্চের নৃশংস গণহত্যার খবর বহির্বিশ্বে প্রচারের মাধ্যমে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সাইমন ড্রিং। এই কারণে সাইমন ড্রিং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গর্বিত নাম । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি ডেইলি টেলিগ্রাফের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ২৭ মার্চ তিনি ঢাকা শহর ঘুরে নৃশংসতার ছবি তুলে ইংল্যান্ডে পাঠান। তার পাঠানো ছবি 'Daily Telegraph'- এ প্রকাশিত হলে বিশ্বমিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে সম্মাননা জানায় । গ. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মুজিবনগর সরকারের সাথে অরূপ কুমারের দেখা দেশটির সরকারের মিল রয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের অধিকারের দাবিকে স্তব্ধ করে দিতে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকরা গণহত্যা শুরু করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। এ যুদ্ধকে সঠিকভাৰে পরিচালনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনের লক্ষ্যে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল কুষ্টিয়ার মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় ( বর্তমান মুজিবনগর ) গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার। এ সরকারই মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। মুজিবনগর সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছিল। এসব বিভাগের মাধ্যমেই যুদ্ধকালে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসন পরিচালিত হয়। এ সরকার প্রতিবেশী দেশ ভারতের সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে এবং যুদ্ধের পক্ষে রাজনৈতিক , কূটনৈতিক ও সামরিক সমর্থন আদায়ের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে । উদ্দীপকে অরূপ কুমারের দেখা দেশটিতে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য জয়লাভকারী সদস্য দ্বারা সরকার গঠন করা হয়েছিল। সরকারের কাজ ছিল যুদ্ধ পরিচালনা করা এবং দেশটির পক্ষে বিশ্বজনমত গঠন করা। উল্লিখিত সরকারের সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায় ৷ ঘ. হ্যাঁ , অবশ্যই আমি মনে করি মুজিবনগর সরকার গঠন ছাড়া বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না । মুজিবনগর সরকার গঠন করেই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশকে ২৬ মার্চ হতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন , সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ ' । বাংলার স্বাধীনতাকামী জনতা মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ায় আশার আলো দেখতে পায়। যুদ্ধের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সংগ্রহ করতে জনগণ ভারতে ভিড় জমালে এ সরকার প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রের ব্যবস্থা করে তরুণদের যুদ্ধে পাঠায় । স্বাধীনতাযুদ্ধের চেতনাকে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য ও সংগ্রামী জনগণের মনোবল ঠিক রাখার জন্য মুজিবনগর সরকার স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র ও পত্র - পত্রিকার মাধ্যমে যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল , তা ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণার অন্যতম উৎস। বাংলাদেশে ২৬ মার্চ সকাল হতে স্বতঃস্ফূর্ত যুদ্ধ শুরু হলে এ সরকার মুক্তিযুদ্ধকে সুসংহতভাবে পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে যুদ্ধক্ষেত্রকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে । এছাড়া মুজিবনগর সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা হচ্ছে কলকাতা , দিল্লি , লন্ডন , ওয়াশিংটন , নিউইয়র্ক ও স্টকহোমসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন করা। তাছাড়া ওইসব স্থানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি নিয়োগ করে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা। পরিশেষে বলা যায় , অরূপ কুমারের দেখা দেশটির মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের অনুরূপ যদি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকার গঠিত না হতো তাহলে বাংলাদেশও স্বাধীন হতো না।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

অরূপ কুমার আফ্রিকার একটি দেশে বসবাস করেন। তিনি ঐ দেশটির মুক্তিযুদ্ধের সময়েও সেখানে অবস্থান করেছিলেন। যুদ্ধ পরিচালনার জন্য নির্বাচনে জয়লাভকারী কিছু সদস্য দ্বারা একটি সরকার গঠন করা হয়েছিল সেখানে। সরকারের কাজ ছিল যুদ্ধ পরিচালনা করা এবং দেশটির পক্ষে বিশ্বজনমত গঠন করা। যুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য দেশটিকে তারা এগারটি অংশে বিভক্ত করে।

ক.

মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?

খ.

সাইমন ড্রিং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গর্বিত নাম কেন? লিখো ।

গ.

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কোন সরকারের সাথে অরূপ কুমারের দেখা দেশটির সরকারের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো ।

ঘ.

তুমি কি মনে কর, এই ধরনের একটি সরকার গঠন ছাড়া বাংলাদেশও স্বাধীন হতো না? মতামতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. কত তারিখে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে? খ. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের ছবিটি ...

উক্ত রাতে— i. ঢাকায় পঞ্চাশ হাজারের বেশি মানুষ হত্যা করা হয় ii.বাড়িঘর আগুনে জ্বলিয়ে দেওয়া হয় iii. বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফ...

কত তারিখে বাংলাদেশকে ভারত স্বীকৃতি দেয়?

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে কোন দেশ?

মুজিবনগরের পূর্বনাম কী?

'অপারেশন সার্চলাইট' বলতে কী বোঝায়?

'অপারেশন সার্চলাইট' বলতে কী বোঝায় ?

অহনা তার ভাইয়ের সাথে মহানগর নাট্যমঞ্চে একটি নাটক দেখতে যায়। নাটকের একপর্যায়ে অহনা দেখতে পায় গভীর রাতে ঘুমন্ত জনগণের ওপর ...

অহনা তার ভাইয়ের সাথে মহানগর নাট্যমঞ্চে একটি নাটক দেখতে যায়। নাটকের একপর্যায়ে অহনা দেখতে পায় গভীর রাতে ঘুমন্ত জনগণের ওপর ...

আইউব খানের সামরিক শাসনামলের অভিনব সৃষ্টি কোনটি?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।