ক.
'সামাজিক চুক্তি' গ্রন্থটির লেখক জ্যাঁ জ্যাক রুশো।
খ.
সাধারণত অর্থে 'জনমত' হলো জনগণের বেশির ভাগ অংশের মতামত। এ অর্থে কোনো বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতের সমষ্টিকে জনমত বোঝায়। তবে পৌরনীতিতে জনমতের অর্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতামতকে বোঝায় না। এর অর্থ একটু ভিন্নতর। এখানে সমাজের প্রভাবশালী, যৌক্তিক, স্পষ্ট, কল্যাণকামী, মতামতকে জনমত বলা হয়। লর্ড ব্রাইস বলেছেন, "জনমত হলো সম্প্রদায়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে জনগণের অভিমতের সমষ্টি।" জে, এস, মিল বলেছেন, "কোনো নির্দিষ্ট জাতীয় সমস্যার ওপর জনগণের সংগঠিত অভিমতের নাম
জনমত।"
গ.
জাতি ও জাতীয়তা এক বিষয় নয়। উভয়ের মধ্যেই বহুবিধ পার্থক্য বিদ্যমান। যথা-
প্রথমত: জাতি গঠনের জন্য প্রয়োজন হয় জাতীয়তাবোধ ও স্বাধীনতা। অপরদিকে, জাতীয়তা গঠনের জন্য কতগুলো সাধারণ বিষয়বস্তুর মিল
থাকতে হয়। যেমন- ধর্ম, বংশ, ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ইত্যাদি। দ্বিতীয়ত: জাতি একটি বাস্তব ও সক্রিয় রাজনৈতিক চেতনা। অন্যদিকে জাতীয়তা একটি মানসিক ধারণা ও আধ্যাত্মিক চেতনা।
তৃতীয়ত: জাতি অধিকমাত্রায় সুসংহত এবং স্বাধীন ও সার্বভৌম। কিন্তু জাতীয়তা খুব বেশি সুসংহত নয়।
চতুর্থত: জাতি গঠনের জন্য রাজনৈতিক সংগঠন অপরিহার্য। অপরদিকে জাতীয়তা গঠনে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজন হয় না।
পঞ্চমত: জাতি হচ্ছে জাতীয়তার পরিণতি বা চূড়ান্ত পর্যায়। অন্যদিকে জাতীয়তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে জাতি গঠনের প্রাথমিক অবস্থা বা পর্যায়। এ থেকেই বোঝা যায় যে, জাতি ও জাতীয়তার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
ঘ.
ইতিহাস থেকে প্রমাণিত যে, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি জাতিরাষ্ট্র গঠন করেছিল।
বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটেছিল ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে। এ আন্দোলনের ফলে নিজস্ব জাতিসত্তা সৃষ্টিতে ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক ও গুরুত্ব পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাঙালি নিজেদের আত্মপরিচয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে থাকে। ভাষাকেন্দ্রিক ঐক্যই বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি রচনা করে, যা পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই বাঙালি জাতীয়তাবাদের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে আন্দোলন পরিচালিত হয়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের জয়লাভ, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা, সংগ্রামী ছাত্র সমাজের ১১ দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিশাল বিজয়, ১৯৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলন, ৭ মার্চের ভাষণ, বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতা ঘোষণা এবং সর্বশেষ সুদীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন এসব কিছুর পেছনে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে বাঙালি জাতীয়তাবাদ। বাঙালি জাতীয়তাবাদে উজ্জীবিত বাংলার জনগণ প্রতিটি আন্দোলনকে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সফল করেছে। গঠন করেছে একটি নতুন জাতিরাষ্ট্র 'বাংলাদেশ'।
সুতরাং বলা যায়, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি জাতি রাষ্ট্র গঠন করেছিল- উক্তিটি যথার্থ।