Facebook Pixel

১৯৩৯ সালে জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যে শুরু হয় যুদ্ধ , যা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মুসলিমপ্রধান দেশ তুরস্ক জার্মানির পক্ষে যোগ দেয়। অপরদিকে , ব্রিটেন জার্মানির বিপক্ষে অবস্থান নেয়। ফলে মুসলমানরা এ যুদ্ধে ব্রিটিশদের পক্ষে অস্ত্রধারণ করতে অসম্মত হয়। ব্রিটিশরা মুসলমানদের এই বলে আশ্বস্ত করে যে , যুদ্ধে জয়ী হলে তারা তুরস্কের কোনো ক্ষতি করবে না। কিন্তু ব্রিটিশরা মুসলমানদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে ভারতীয় মুসলিমরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। ক. কত খ্রিষ্টাব্দে ভারতে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে ? খ. লক্ষ্ণৌ চুক্তি কী উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরিত হয় ? ব্যাখ্যা কর । গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা ভারতে ব্রিটিশ আমলের কোন আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় ? ব্যাখ্যা কর । ঘ. উক্ত আন্দোলনের ফলাফল কী হয়েছিল বলে তুমি মনে কর ? বিশ্লেষণ কর ।

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনঃ ব্রিটিশ আমল

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে ভারতে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে। খ. হিন্দু - মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য সাধনের উদ্দেশ্যে লক্ষ্ণৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। লক্ষ্ণৌ চুক্তি হচ্ছে ব্রিটিশ শাসনাধীন উপমহাদেশে হিন্দু - মুসলমান রাজনৈতিক ঐক্যের প্রথম দলিল। এ চুক্তির মাধ্যমেই উভয় পক্ষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইংরেজ সরকারের কাছে স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানায়। এ ছাড়া মুসলিম লীগ পৃথক রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে কংগ্রেসের স্বীকৃতি লাভ করে। ভারতের সংবিধানের মূল রূপরেখা প্রণয়নেও লক্ষ্ণৌ চুক্তির ভূমিকা ছিল অপরিসীম। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা আমার পাঠ্যবইয়ের খিলাফত আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তুরস্কের খিলাফত রক্ষার জন্য ১৯২০ - ১৯২৪ সাল পর্যন্ত ভারতবর্ষে মুসলমানদের নেতৃত্বে যে আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল তাই ইতিহাসে খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত। ভারতের মুসলমানরা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা বলে শ্রদ্ধা করত। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের সুলতান ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি জার্মানির পক্ষে অবলম্বন করলে ভারতের মুসলমান সম্প্রদায় বিব্রত হয়। কারণ ধর্মীয় কারণে তারা খলিফার অনুগত আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ ভারত সরকারের অন্তর্গত। নিজ দেশের সরকার হিসেবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ভারতীয় মুসলমানরা ব্রিটিশ সরকারের সমর্থন দেয় । তবে শর্ত ছিল যে ব্রিটিশ সরকার যুদ্ধ শেষে তুরস্কের খলিফার কোনো ক্ষতি করবে না। কিন্তু যুদ্ধে তুরস্কের পরাজয়ের ফলে ১৯২০ সালের সেভার্সের চুক্তি অনুযায়ী শাস্তিরূপে তুরস্ককে খণ্ডবিখণ্ড করার পরিকল্পনা করা হয় এবং খলিফার প্রতি অসম্মান দেখানো হয়। ফলে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের প্রতীক তুরস্কের খলিফার প্রতি এবং তুরস্কের অখণ্ডতার রক্ষার জন্য ভারতীয় মুসলমানরা খিলাফত অন্দোলন শুরু করে। উদ্দীপকে এমন ঘটনারই ইঙ্গিত রয়েছে। সুতরাং উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা খিলাফত আন্দোলনের কথাই স্বরণ করিয়ে দেয়। ঘ. উক্ত আন্দোলন অর্থাৎ ' খিলাফত আন্দোলন ' শেষ পর্যন্ত সফল না হলেও ভারতীয়দের স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে এর প্রভাব ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে দুই প্রতিপক্ষ জার্মানি ও ব্রিটেন - এর মধ্যকার দ্বন্দ্বে তুরস্ক অক্ষ শক্তি জার্মানিকে সমর্থন করে। ভারতের মুসলমানরা এ সময় ব্রিটেনের পক্ষে অস্ত্র ধারণ করতে অসম্মতি জানায় , কারণ তারা ধর্মীয় দিক থেকে তুরস্কের খলিফার প্রতি অনুগত। এমতাবস্থায় ব্রিটেন তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও যুদ্ধ সমাপ্তির পর তুরস্কের প্রতি অবমাননাকর ' সেভার্স সন্ধি চাপিয়ে দেয়। ফলে ভারতের মুসলমানরা ' খিলাফত আন্দোলন ' শুরু করে। খিলাফত আন্দোলনের একপর্যায়ে মুসলমানরা সরকারের সঙ্গে অসহযোগ নীতি অনুসরণ এবং প্রয়োজনে ব্রিটিশ পণ্য বর্জন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কংগ্রেস নেতা মহাত্মা গান্ধীও এ আন্দোলনকে সমর্থন করেন এবং তিনি খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন একসাথে পরিচালনার কথা বলেন। একপর্যায়ে খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন চরম রূপ ধারণ করে। ফলে মহাত্মা গান্ধী হঠাৎ এ আন্দোলন হতে সরে আসেন। ১৯২৩ সালে মোস্তফা কামাল পাশার নেতৃত্বে তুরস্কে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা ও ১৯২৪ সালে খলিফার পদ তুলে দেবার পর এ আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি ঘটে। তবে পরবর্তীকালে ভারতীয়দের বিভিন্ন স্বাধিকার আন্দোলনে উক্ত আন্দোলন প্রভাব রেখেছিল। ভারতীয় মুসলমানরা এ আন্দোলনের মাধ্যমে বুঝতে পেরেছিল যে , ব্রিটিশরা কখনোই ভারতীয়দের আস্থাভাজন নয় এবং তারা সবসময় নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ভারতীয়দের ব্যবহার করে আসছে। উপলব্ধিই পরবর্তী স্বাধিকার আন্দোলনসমূহে ভারতীয়দের মনে শক্তি যোগায়। উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় , খিলাফত আন্দোলন ব্যর্থ হলেও স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে এ আন্দোলনের প্রভাব ছিলো অবিস্মরণীয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

১৯৩৯ সালে জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যে শুরু হয় যুদ্ধ, যা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মুসলিমপ্রধান দেশ তুরস্ক জার্মানির পক্ষে যোগ দেয়। অপরদিকে, ব্রিটেন জার্মানির বিপক্ষে অবস্থান নেয়। ফলে মুসলমানরা এ যুদ্ধে ব্রিটিশদের পক্ষে অস্ত্রধারণ করতে অসম্মত হয়। ব্রিটিশরা মুসলমানদের এই বলে আশ্বস্ত করে যে, যুদ্ধে জয়ী হলে তারা তুরস্কের কোনো ক্ষতি করবে না। কিন্তু ব্রিটিশরা মুসলমানদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে ভারতীয় মুসলিমরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে।

ক.

কত খ্রিষ্টাব্দে ভারতে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে?

খ.

লক্ষ্ণৌ চুক্তি কী উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরিত হয়? ব্যাখ্যা কর ।

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা ভারতে ব্রিটিশ আমলের কোন আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ.

উক্ত আন্দোলনের ফলাফল কী হয়েছিল বলে তুমি মনে কর? বিশ্লেষণ কর ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Bengal Municipal Act ? Hunter Commission Bengal Tenancy Act Factory Act (1887) ক. স্যার সৈয়দ আহমদের প্রকাশিত বইয়ের নাম...

The Spirit of Islam বইটির লেখক কে?

Vernacular Press Act রহিত করেন কে?

'X' রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের মানুষের বসবাস। একদা ঐ রাষ্ট্রে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হলে একটি নির্দিষ্ট ধর্মী...

Bengal Municipal Act' কী ?

ক. কে ' লাহোর প্রস্তাব ' উত্থাপন করেন ? খ. মুসলিম লীগ গঠনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের ছকের ‘ ক ’ চি...

“ তেলের শিশি ভাঙল বলে খোকার উপর রাগ করিস। ' তোরা তো সব বুড়ো খোকা ভারত ভেঙে ভাগ করিস। ” কবিতার অংশটুকু পড়তে...

অসহযোগ আন্দোলনের নেতা ছিলেন?

উদ্দীপকের সমিতির সাথে যে প্রতিষ্ঠানের মিল পাওয়া যায়-

কত সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মৃত্যুবরণ করেন ?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।