Facebook Pixel

১৯৩৯ সালে জার্মানি ও পোলান্ডের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, যা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মুসলিম প্রধান দেশ তুরস্ক জার্মানির পক্ষে যোগ দেয়। অপরদিকে ব্রিটেন জার্মানির বিপক্ষে অবস্থান নেয়। ফলে মুসলমানরা এ যুদ্ধে ব্রিটিশদের পক্ষে অস্ত্রধারণ করতে অসম্মত হয়। ব্রিটিশরা মুসলমানদের এই বলে আশ্বস্ত করে যে, যুদ্ধে জয়ী হলে তারা তুরস্কের কোনো ক্ষতি করবে না। কিন্তু ব্রিটিশরা মুসলমানদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে ভারতীয় মুসলিমরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। ক. কোন গভর্নর জেনারেল বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাব করেন? খ. লক্ষ্ণৌ চুক্তি কী উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরিত হয়? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা ভারতে ব্রিটিশ আমলের কোন আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? বিশ্লেষণ কর। ঘ. উক্ত আন্দোলনের ফলাফল কী হয়েছিল বলে তুমি মনে কর? ব্যাখ্যা কর।

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনঃ ব্রিটিশ আমল

উৎস: Board Exam Question DB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. গর্ভনর জেনারেল জর্জ ন্যাথানিয়েল কার্জন (George Nathaniel Carzon) বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাব করেন। খ. ১৯১৬ সালে 'লক্ষ্ণৌ চুক্তি' (Lucknow Pact) স্বাক্ষরিত হয়। কংগ্রেস (Congress) ও মুসলিম লীগ (Muslim League) ১৯১৬ সালে তাদের বার্ষিক সম্মেলনে ভারতের শাসনতান্ত্রিক সংস্কার নীতির প্রশ্নে একটি সমঝোতায় আসে, যা 'লক্ষ্ণৌ চুক্তি' নামে পরিচিত। এ চুক্তির মাধ্যমে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ মিলিতভাবে দাবি পেশ করে। চুক্তিতে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, সম্প্রদায়ভিত্তিক নির্বাচন প্রভৃতি বিষয়ের উপর জোর দেয়া হয়। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা ভারতে ব্রিটিশ আমলের 'খিলাফত আন্দোলনের' কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রথম মহাযুদ্ধে মিত্র শক্তির নেতৃত্বে দেয় গ্রেট ব্রিটেন ও জার্মানি নেতৃত্ব দেয় অক্ষ শক্তির। তুরস্ক জার্মানির পক্ষাবলম্বন করায় ভারতীয় মুসলমানদের মনে দ্বৈত আনুগত্যের প্রশ্ন দেখা দেয়। ভারতের মুসলমানরা তুরস্ককে মুসলিম ঐক্যের প্রতীক ও তুরস্কের সুলতানকে খলিফা বলে মনে করত। এ পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকার ঘোষণা দেয়, যুদ্ধ শেষে তুরস্কের কোনো ক্ষতি করা হবে না এবং এর অখন্ডতা রক্ষা করা হবে। অথচ যুদ্ধ শেষে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়। ফলে তুরস্কের খলিফাকে তার মৃত মর্যাদায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা এবং তুরস্ক সাম্রাজ্যের অখন্ডতা রক্ষার লক্ষ্যে ১৯১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের মুসলমানগণ 'খিলাফত আন্দোলন' শুরু করে। ১৯২০ সালে অবমাননাকর 'সেভার্সের চুক্তি' (Treaty of Sevtes) হলে 'খিলাফত আন্দোলন' তীব্র আকার ধারণ করে। উদ্দীপকে ১৯৩৯ সালের যুদ্ধে তুরস্ক জার্মানির পক্ষাবলম্বন করে এবং ব্রিটেন জার্মানির বিপক্ষে অবস্থান নেয়। ব্রিটিশরা মুসলমানদের সমর্থন লাভের উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে তা রক্ষা করেনি। যা ব্রিটিশ আমলের 'খিলাফত আন্দোলনের' কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ঘ. উক্ত আন্দোলন অর্থাৎ 'খিলাফত আন্দোলন' শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে দুই প্রতিপক্ষ জার্মানি ও ব্রিটেন এর মধ্যকার দ্বন্দ্বে তুরস্ক অক্ষ শক্তি জার্মানিকে সমর্থন করে। ভারতের মুসলমানরা এ সময় ব্রিটেনের পক্ষে অস্ত্র ধারণ করতে অসম্মতি জানায় কারণ তারা ধর্মীয় দিক থেকে তুরস্কের খলিফার অনুগত। এমতাবস্থায় ব্রিটেন তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও যুদ্ধ সমাপ্তির পর তুরস্কের প্রতি অবমাননাকর 'সেভার্সের সন্ধি' (Treaty of Sevres) চাপিয়ে দেয়। ফলে ভারতের মুসলমানরা 'খিলাফত আন্দোলন' শুরু করে। খিলাফত আন্দোলনের একপর্যায়ে মুসলমানরা সরকারের সঙ্গে অসহযোগ নীতি অনুসরণ এবং প্রয়োজনে ব্রিটিশ পণ্য বর্জন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কংগ্রেস নেতা মহাত্মা গান্ধীও এ আন্দোলনকে সমর্থন করেন এবং তিনি খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন একসাথে পরিচালনার কথা বলেন। একপর্যায়ে খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন চরমপন্থি রূপ ধারণ করে। ফলে মহাত্মা গান্ধী হঠাৎ এ আন্দোলন হতে সরে আসেন। ১৯২৩ সালে মোস্তফা কামাল পাশার নেতৃত্বে তুরস্কে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা ও ১৯২৪ সালে খলিফার পদ তুলে দেবার পর এ আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি ঘটে। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, খিলাফত আন্দোলন ব্যর্থ হলেও স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে এ আন্দোলন অবিস্মরণীয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2017)

১৯৩৯ সালে জার্মানি ও পোলান্ডের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, যা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মুসলিম প্রধান দেশ তুরস্ক জার্মানির পক্ষে যোগ দেয়। অপরদিকে ব্রিটেন জার্মানির বিপক্ষে অবস্থান নেয়। ফলে মুসলমানরা এ যুদ্ধে ব্রিটিশদের পক্ষে অস্ত্রধারণ করতে অসম্মত হয়। ব্রিটিশরা মুসলমানদের এই বলে আশ্বস্ত করে যে, যুদ্ধে জয়ী হলে তারা তুরস্কের কোনো ক্ষতি করবে না। কিন্তু ব্রিটিশরা মুসলমানদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে ভারতীয় মুসলিমরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে।

ক.

কোন গভর্নর জেনারেল বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাব করেন?

খ.

লক্ষ্ণৌ চুক্তি কী উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরিত হয়? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা ভারতে ব্রিটিশ আমলের কোন আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? বিশ্লেষণ কর।

ঘ.

উক্ত আন্দোলনের ফলাফল কী হয়েছিল বলে তুমি মনে কর? ব্যাখ্যা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Bengal Municipal Act ? Hunter Commission Bengal Tenancy Act Factory Act (1887) ক. স্যার সৈয়দ আহমদের প্রকাশিত বইয়ের নাম...

The Spirit of Islam বইটির লেখক কে?

Vernacular Press Act রহিত করেন কে?

'X' রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের মানুষের বসবাস। একদা ঐ রাষ্ট্রে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হলে একটি নির্দিষ্ট ধর্মী...

Bengal Municipal Act' কী ?

ক. কে ' লাহোর প্রস্তাব ' উত্থাপন করেন ? খ. মুসলিম লীগ গঠনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের ছকের ‘ ক ’ চি...

“ তেলের শিশি ভাঙল বলে খোকার উপর রাগ করিস। ' তোরা তো সব বুড়ো খোকা ভারত ভেঙে ভাগ করিস। ” কবিতার অংশটুকু পড়তে...

অসহযোগ আন্দোলনের নেতা ছিলেন?

উদ্দীপকের সমিতির সাথে যে প্রতিষ্ঠানের মিল পাওয়া যায়-

কত সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মৃত্যুবরণ করেন ?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।