Facebook Pixel

১৮৯৮ সালে সংস্কার আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই চীন এক ব্যাপক গণবিদ্রোহের সম্মুখীন হয়েছিল। এই গণবিদ্রোহ বক্সার বিদ্রোহ নামে পরিচিত। প্রথম চীন-জাপান যুদ্ধের পর যখন বিদেশি শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে চীনের রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট করতে তৎপর হয় তখন বিদেশিদের অপসারণের জন্য বক্সার নামে একটি গুপ্ত সমিতি আন্দোলন করে। শেষপর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়। ক. দ্বিজাতি তত্ত্বের মূলকথা কী? খ. 'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' গঠন করা হয় কেন? গ. উদ্দীপকের বক্সার বিদ্রোহের সাথে তিতুমীরের বিদ্রোহের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত আন্দোলন ছিল উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম — উক্তিটি পঠিত বিষয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ বাংলায় কোম্পানি ও ঔপনিবেশিক শাসন

উৎস: Test Exam Question AKMCC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) দ্বিজাতি তত্ত্বের মূলকথা হলো হিন্দু ও মুসলমান দুটি পৃথক জাতি এবং তাদের ধর্ম, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার ভিন্নতার কারণে তাদের জন্য আলাদা স্বাধীন আবাসভূমি প্রয়োজন। (খ) ১৮৬৩ সালে নবাব আবদুল লতিফ কলকাতায় 'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' গঠন করেন। এই সংগঠনটি গঠন করার মূল উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের আধুনিক ইংরেজি শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এছাড়া ব্রিটিশ সরকারের সাথে মুসলমানদের ভুল বোঝাবুঝি দূর করে ইংরেজদের প্রতি আনুগত্য পোষণ করা এবং মুসলমানদের চাকরির সুযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করা ছিল এই সোসাইটির অন্যতম লক্ষ্য। (গ) উদ্দীপকের বক্সার বিদ্রোহ এবং তিতুমীরের বিদ্রোহের মধ্যে বেশ কিছু মৌলিক সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো: প্রথমত, উভয় বিদ্রোহই ছিল বিদেশি শক্তির আধিপত্য এবং শোষণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের গণজাগরণ। উদ্দীপকের বক্সার বিদ্রোহ যেমন চীনের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিদেশি শক্তির অপসারণের জন্য গড়ে উঠেছিল, তেমনি তিতুমীরের বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, অত্যাচারী জমিদার এবং নীলকরদের শোষণের বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ। দ্বিতীয়ত, উভয় আন্দোলনই প্রান্তিক ও দরিদ্র শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণে পরিচালিত হয়েছিল। বক্সার বিদ্রোহে চীনের সাধারণ মানুষ এবং তিতুমীরের বিদ্রোহে বাংলার দরিদ্র কৃষক, তাঁতি ও সাধারণ মুসলমানরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তৃতীয়ত, উভয় বিদ্রোহই শেষ পর্যন্ত শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর মুখে পরাজিত হয়। বক্সার বিদ্রোহ যেমন বিদেশি শক্তির সম্মিলিত সামরিক শক্তির কাছে পরাজিত হয়েছিল, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লাও ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর কামানের গোলার মুখে ধ্বংস হয় এবং তিতুমীর শহিদ হন। সুতরাং, বিদেশি শক্তির প্রভাবমুক্ত হয়ে নিজেদের অধিকার ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এবং গণমানুষের অংশগ্রহণ এই দুটি বিদ্রোহের মধ্যে প্রধান সাদৃশ্য। (ঘ) তিতুমীরের আন্দোলন ছিল উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ স্বাধীনতা সংগ্রাম, উক্তিটি পঠিত বিষয়ের আলোকে যথার্থ। উপনিবেশবাদ বলতে বোঝায় যখন একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র অন্য একটি দুর্বল রাষ্ট্র বা অঞ্চলের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। বাংলায় ব্রিটিশ শাসন ছিল এমন এক ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা, যেখানে কৃষক ও সাধারণ মানুষ চরম শোষণের শিকার ছিল। তিতুমীর শুরুতে ধর্মীয় সংস্কারের মাধ্যমে মানুষকে সংগঠিত করলেও দ্রুতই তার আন্দোলন একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক রূপ লাভ করে। তিতুমীরের সংগ্রামের বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়: ১. ব্রিটিশ বিরোধী অবস্থান: তিতুমীর সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের শাসনব্যবস্থার বিরোধিতা করেন এবং তাদের অন্যায় আইনের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করেন। ২. অর্থনৈতিক মুক্তি: তিনি অত্যাচারী জমিদার এবং নীলকরদের শোষণের বিরুদ্ধে কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করেন, যা ছিল ঔপনিবেশিক অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই। ৩. প্রতিরোধ গড়ে তোলা: ব্রিটিশ শক্তির মোকাবিলা করার জন্য তিনি নারিকেলবাড়িয়ায় যে 'বাঁশের কেল্লা' নির্মাণ করেছিলেন, তা ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সাহসের প্রতীক এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। ৪. চূড়ান্ত সংঘাত: ১৮৩১ সালে মেজর স্কটের নেতৃত্বে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী যখন আক্রমণ করে, তখন তিতুমীর ও তার অনুসারীরা বীরত্বের সাথে লড়াই করেন। এটি প্রমাণ করে যে এটি কেবল একটি ধর্মীয় আন্দোলন ছিল না, বরং এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এক সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম। পরিশেষে বলা যায়, তিতুমীরের এই সংগ্রাম বাংলার মানুষকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্দীপ্ত করেছিল। যদিও এই বিদ্রোহ সাময়িকভাবে ব্যর্থ হয়েছিল, কিন্তু এটি পরবর্তীকালের স্বাধীনতা সংগ্রামগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। তাই তিতুমীরের আন্দোলনকে উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে এক প্রকৃত স্বাধীনতা সংগ্রাম হিসেবে অভিহিত করা যায়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Abdul Kadir Molla City College (2026)

১৮৯৮ সালে সংস্কার আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই চীন এক ব্যাপক গণবিদ্রোহের সম্মুখীন হয়েছিল। এই গণবিদ্রোহ বক্সার বিদ্রোহ নামে পরিচিত। প্রথম চীন-জাপান যুদ্ধের পর যখন বিদেশি শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে চীনের রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট করতে তৎপর হয় তখন বিদেশিদের অপসারণের জন্য বক্সার নামে একটি গুপ্ত সমিতি আন্দোলন করে। শেষপর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়। ক. দ্বিজাতি তত্ত্বের মূলকথা কী? খ. 'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' গঠন করা হয় কেন? গ. উদ্দীপকের বক্সার বিদ্রোহের সাথে তিতুমীরের বিদ্রোহের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত আন্দোলন ছিল উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম — উক্তিটি পঠিত বিষয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আরবি কোন শব্দ হতে 'ফরায়েজি' শব্দের উৎপত্তি হয়েছে?

ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে তিতুমীরের পরাজয়ের কারণ ছিল- i. তিতুমীরের সমর্থকদের অসহযোগিতা ii. ইংরেজদের উন্নত যুদ্ধ কৌশল iii. তিত...

ইনসান আলি বাল্যকাল থেকে সাহসী, মেধাবী ও ধর্মপরায়ণ। ছিলেন। পরাধীন দেশে স্বজাতির নানা অসংগতি দেখে তিনি ব্যথিত হন। বিদেশি শ...

ইমরান আলি বাল্যকাল থেকে সাহসী, মেধাবী ও ধর্মপরায়ণ ছিলেন। পরাধীন দেশে স্বজাতির নানা অসংগতি দেখে তিনি ব্যথিত হন। বিদেশি শা...

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কত খ্রিষ্টাব্দে দিওয়ানি লাভ করে?

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কোন সালে গঠিত হয়?

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়েছিল কেন?

উত্তর আফ্রিকার সুদানে উপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন যাবত চলে। অবশেষে ঔপনিবেশিক শাসকেরা সুদান শাসনের জন্য সুদানের জনগণক...

উত্তর আফ্রিকার সুদানে উপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন যাবৎ চলে। অবশেষে ঔপনিবেশিক শাসকরা সুদান শাসনের জন্য সুদানের জনগণকে...

উত্তর আফ্রিকার সুদানে ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন যাবৎ চলে। অবশেষে ঔপনিবেশিক শাসকরা সুদান শাসনের জন্য সুদানের জনগণকে...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।