ক.
ফোট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণ করা হয় ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দে।
খ.
ইউরোপীয় অপরাধীদেরকে বিচার করার জন্য ভারতীয় বিচারকদের ক্ষমতা দিয়ে লর্ড রিপন যে আইন পাস করেন তা ইতিহাসে ইলবার্ট বিল নামে পরিচিত।
লর্ড রিপনের শাসনামলের অন্যতম একটি সংস্কার হলো 'ইলবার্ট' প্রণয়ন। ইলবার্ট বিলের মাধ্যমে লর্ড রিপন ভারতীয় এবং ইউরোপীয়দের মধ্যে জাতিগত বৈষম্য নিরসনে সচেষ্ট হন। ফৌজদারি দণ্ডবিধি অনুসারে কোনো ভারতীয় ম্যাজিস্ট্রেট ইতিপূর্বে ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করতে পারতেন না। তাই তিনি ইলবার্ট বিল প্রণয়নের মাধ্যমে ভারতীয় বিচারকদের সেই ক্ষমতা প্রদান করেন। ইউরোপীয়রা এ আইনকে অপমানজনক মনে করে এর বিরোধিতা করে।
গ.
উদ্দীপকে ঐতিহাসিক যে দুটি আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে তা হলো- খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন।
খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রয়েছে। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে পরিচালিত আন্দোলন দুটি ছিল প্রথম ব্যাপক ও জাতীয় গণআন্দোলন। হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এ আন্দোলন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিতকে কাঁপিয়ে তোলে। ভারতীয় মুসলমানদের মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের প্রতীক তুরস্কের খলিফার প্রতি আনুগত্য সম্মানবোধ অনেক দিন থেকেই ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক ব্রিটেনের নেতৃত্বে গঠিত মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে এবং জার্মানির পক্ষে অবতীর্ণ হওয়ায় ভারতীয় মুসলমানদের মনে দ্বৈত আনুগত্যের প্রশ্ন দেখা দেয়। মহাযুদ্ধের সময় ভারতের মুসলমানগণ ব্রিটিশ সরকারকে এ শর্তে সমর্থন দেয়, ব্রিটিশ সরকার যুদ্ধ শেষে তুরস্কের খলিফার কোনো ক্ষতি করবে না। কিন্তু যুদ্ধে তুরস্কের পরাজয়ের পর ব্রিটিশরা তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। মিত্রপক্ষ 'প্যারিস চুক্তির' মাধ্যমে তুর্কি সাম্রাজ্যের ব্যবচ্ছেদ এবং খলিফাকে অমর্যাদা করে। ফলে বিক্ষুব্ধ ভারতীয় মুসলমানরা খলিফার মর্যাদা ও তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষার উদ্দেশ্যে এক আন্দোলন গড়ে তোলে।
অপরদিকে, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের সভাপতিত্বে দিল্লিতে খিলাফত কমিটির প্রথম সম্মেলনে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, তুরস্কের খলিফার মর্যাদা রক্ষার কোনো প্রতিশ্রুতি ব্রিটিশ সরকার না দিলে মুসলমানরা সরকারের সঙ্গে অসহযোগ নীতি অনুসরণ করবে। প্রয়োজনে তারা ব্রিটিশ পণ্যও বর্জন করবে। এসময় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন গড়ার লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার পক্ষে মহাত্মা গান্ধী কয়েকজন কংগ্রেস নেতাসহ উক্ত খিলাফত সম্মেলনে যোগ দেন। তিনি খিলাফতের বিষয়ে কংগ্রেসের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
অতএব, আমরা বলতে পারি, তুরস্কের খলিফার অসম্মান ও তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষায় খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনের অন্যতম কারণ।
ঘ.
উক্ত আন্দোলন অর্থাৎ খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।
১৯১৪ সালের প্রথম বিশ্বযুদ্ধে দুই প্রতিপক্ষ জার্মানি ও ব্রিটেনের মধ্যকার দ্বন্দ্বে তুরস্ক অক্ষ শক্তি জার্মানিকে সমর্থন করে। ভারর্তের মুসলমানরা এ সময় ব্রিটেনের পক্ষে অস্ত্রধারণ করতে অসম্মতি জানায়। কারণ তারা ধর্মীয় দিক থেকে তুরস্কের খলিফার অনুগত। এমতাবস্থায় ব্রিটেন তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও যুদ্ধ সমাপ্তির পর তুরস্কের প্রতি অবমাননাকর 'সেভার্সের 'সন্ধি' চাপিয়ে দেয়। ফলে ভারতের মুসলমানরা 'খিলাফত আন্দোলন' শুরু করে। আন্দোলনের একপর্যায়ে মুসলমানরা সরকারের সঙ্গে অসহযোগ নীতি অনুসরণ এবং প্রয়োজনে ব্রিটিশ পণ্য বর্জন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কংগ্রেস নেতা মহাত্মা গান্ধীও এ আন্দোলনকে সমর্থন করেন এবং তিনি খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন একসাথে পরিচালনার কথা বলেন। একপর্যায়ে 'খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন চরমপন্থি রূপধারণ করে। ফলে মহাত্মা গান্ধী হঠাৎ এ আন্দোলন হতে সরে আসেন। ১৯২৩ সালে মোস্তফা কামাল পাশার নেতৃত্বে তুরস্কে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা ও ১৯২৪ সালে খলিফার পদ তুলে দেবার পর এ আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি ঘটে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন ব্যৰ্থতায় পর্যভূষিত হয়।