Facebook Pixel

১ম বিশ্বযুদ্ধের পর একটি চুক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই চুক্তির ফলে উক্ত দেশ রাজনৈতিক , সামরিক ও অর্থনৈতিক ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় । বিজয়ী শক্তির ইচ্ছামত ক্ষতিপূরণ আদায় করে যার ফলশ্রুতি সে দেশে ক্ষুধা , দারিদ্র , মূল্যস্ফীতি চরমভাবে বেড়ে যায়। যার ফলশ্রুতিতে উগ্রজাতীয়তাবাদে জনগণ জড়িয়ে পড়ে। ঠিক সে সময় একজন নেতার ‘ আত্মজীবনী ' মূলক গ্রন্থ প্রকাশিত হলে জনগণ সেই নেতাকে সদরে গ্রহণ করে । ফলশ্রুতি আবার ও ইউরোপ একটি মহাযুদ্ধ সংঘটিত হয়। ক. হিটলারের রচিত গ্রন্থের নাম কী ? খ. নাৎসিবাদ বলতে কী বোঝায় ? গ. উদ্দীপকের উল্লিখিত চুক্তি কীভাবে উক্ত দেশের বিপর্যয় ডেকে এনেছিল ব্যাখ্যা করো। ঘ. তুমি কী মনে করো ১ম বিশ্বযুদ্ধের মধ্যে ২য় বিশ্বযুদ্ধের বীজ লুকিয়ে ছিল বিশ্লেষণ পূর্বক তোমার মতামত তুলে ধরো

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ হিটলার ও মুসোলিনির উত্থান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. হিটলার রচিত গ্রন্থের নাম - Mein Kampf বা আমার জীবনী । খ. নাৎসিবাদ হলো জার্মানিতে এডলফ হিটলার অনুসৃত একটি উগ্র জাতীয়তাবাদী মতবাদ। এটা মূলত ফ্যাসিবাদেরই জার্মান সংস্করণ। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জার্মান উগ্ৰজাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী দেশে গণতান্ত্রিক শক্তিকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করতে বদ্ধপরিকর ছিল। এদের ভাবাদর্শকে নাৎসিবাদ বলে। নাৎসিবাদের মতে , গণতন্ত্র মূর্খ , নির্বোধ ও অযোগ্যদের শাসন এবং এ শাসনে মানুষের সত্যিকারের মুক্তি সম্ভব নয়। নাৎসিবাদে ব্যক্তিস্বাধীনতা বলে কিছু নেই। গ. উদ্দীপকের উল্লিখিত চুক্তি অর্থাৎ ভাসাই চুক্তিই উক্ত দেশ তথা জার্মানির বিপর্যয় ডেকে এনেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের ফলে মিত্রশক্তি ১৯১৯ সালের ২৮ জুন জার্মানির কাঁধে ভার্সাই সন্ধি চাপিয়ে দেয়। এ সন্ধিতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ জার্মানিকে দিতে বাধ্য করা হয়। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে জার্মানির নিকট থেকে ১৩২ বিলিয়ন স্বর্ণমুদ্রা আদায় করা হয়। জার্মানি সৈন্য সংখ্যা এক লক্ষে সীমিত করা হয়। যুদ্ধের সরঞ্জাম উৎপাদন , আমদানি রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়। রাইন নদীর ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সকল জার্মান দূর্গ ও সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়। সন্ধি অনুযায়ী জার্মানি তার আলসাস , লোরেন ও খনি সমৃদ্ধ সার অঞ্চল ১৫ বছরের জন্য ফ্রান্সকে ছেড়ে দেয়। জার্মানি বেলজিয়ামকে ইউপেন , মরিচনেট , ম্যাথেডি নামক জেলা ছেরে দেয়। জার্মানি এই ভার্সাই সন্ধির কঠোরতায় ন্যূব্জ হয়ে পড়ে ছিল। জার্মানবাসী ভেতরে ভেতরে ফুসছিল এ সন্ধির নাগপাশ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য। এমন সময় উগ্র জাতীয়তাবাদী হিটলারের আবির্ভাব ঘটে। হিটলার ভার্সাই সন্ধির নিষ্ঠুরতা থেকে জার্মান বাসীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য এবং জার্মানির আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। এভাবেই ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় এবং বিশ্ব আবার বিপর্যয়ের মুখে পতিত হয়। অতএব বলা যায় , ভার্সাই সন্ধির কঠোর ও নিষ্ঠুর বিধানই জার্মানিকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলে ঘ. হ্যাঁ , আমি মনে করি , ১ম বিশ্বযুদ্ধের মধ্যে ২য় বিশ্ব যুদ্ধের বীজ লুকিয়ে ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার পেছনে যে সাম্রাজ্যবাদের ভূমিকা ছিল তা যুদ্ধের পরও ধ্বংস হয়নি। বরং ভার্সাই চুক্তির মধ্য দিয়ে জার্মান উপনিবেশ , সম্পদ অর্থ এবং ইউরোপে জার্মানির কতিপয় অঞ্চল ভাগ - বাটোয়ারা করে নেয় মিত্রশক্তি। ১ম বিশ্বযুদ্ধের অর্থনৈতিক বিপর্যয় এতটায় মারাত্মক আকার ধারণ করে যে ইউরোপে - দুর্ভিক্ষ , ক্ষুধা , বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক মন্দা ছড়িয়ে পড়ে। ১৯১৮ থেকে ১৯২৩ সালকে বিপ্লবী উত্থানের কাল বলে অভিহিত করা যায়। তবে ১৯২৪ থেকে ১৯২৮ সাল পর্যন্ত যেটুকু স্থিতিশীলতা এসব দেশে লক্ষ করা যায় , বৃহৎ শক্তিগুলো তার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে পারেনি। ১৯২৪ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত সময়ে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়। ফলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর কালের বিজয়ী শক্তিসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। আবার বিজিত দেশগুলো প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুতি গ্রহণ করে। সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ফলে যে দূরত্ব বাড়ছিল ; তার মধ্যেই দ্বন্দের মূল কারণ নিহিত ছিল। তাই বলা যায় , ১ম বিশ্ব যুদ্ধের মধ্যে ১৯৩৯ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীজ নিহিত ছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

১ম বিশ্বযুদ্ধের পর একটি চুক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই চুক্তির ফলে উক্ত দেশ রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় । বিজয়ী শক্তির ইচ্ছামত ক্ষতিপূরণ আদায় করে যার ফলশ্রুতি সে দেশে ক্ষুধা, দারিদ্র, মূল্যস্ফীতি চরমভাবে বেড়ে যায়। যার ফলশ্রুতিতে উগ্রজাতীয়তাবাদে জনগণ জড়িয়ে পড়ে। ঠিক সে সময় একজন নেতার ‘আত্মজীবনী' মূলক গ্রন্থ প্রকাশিত হলে জনগণ সেই নেতাকে সদরে গ্রহণ করে । ফলশ্রুতি আবার ও ইউরোপ একটি মহাযুদ্ধ সংঘটিত হয়। 

ক.

হিটলারের রচিত গ্রন্থের নাম কী?

খ.

নাৎসিবাদ বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকের উল্লিখিত চুক্তি কীভাবে উক্ত দেশের বিপর্যয় ডেকে এনেছিল ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

তুমি কী মনে করো ১ম বিশ্বযুদ্ধের মধ্যে ২য় বিশ্বযুদ্ধের বীজ লুকিয়ে ছিল বিশ্লেষণ পূর্বক তোমার মতামত তুলে ধরো

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Mein Kampf এর রচয়িতা কে?

Mein Kampf কোন ধরনের গ্রন্থ?

Mein-Kampf হলো- i. হিটলারের আত্মজীবনী ii. নাৎসিবাদের বাইবেলম্বরূপ iii. ফ্যাসিবাদের দলিল Q. নিচের কোনটি সঠিক?

'X' চরম স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে কুখ্যাত ছিলেন। সামান্য সৈনিক হিসেবে জীবন শুরু করে একদা একটি রাষ্ট্রের সর্বেসর্বা হয়ে উঠেন...

X নামক এক ব্যক্তি সৈনিক থেকে ধীরে ধীরে একটি দেশের জনপ্রিয় নেতা হলে উঠেন এবং পাশাপাশি তার আদর্শ ছড়িয়ে দিতে থাকেন সম্মোহনী...

"X" নামক ব্যক্তি পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের দেশে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষকতা পেশা নিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করলেও শিক্ষকতার ...

ক. হিটলার আত্মহত্যা করেন কবে? খ. উগ্র জাতীয়তাবাদ বলতে কী বুঝ? গ. উদ্দীপকের ছকে প্রশ্নবোধক (?) চিহ্নিত স্থানটি তোমার পাঠ্...

'Fascio' শব্দের অর্থ কী?

Mein Kampf এর রচয়িতা কে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র → ৬ আগস্ট ১৯৪৫ ⇒ ০৯ আগস্ট ১৯৪৫। ক. NATO এর পূর্ণরূপ কী ? খ. ফ্যাসিবাদ (Fascism) বলতে কী ব...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।