ক.
NATO এর পূর্ণরূপ — North Atlantic Treaty Organization
খ.
ফ্যাসিবাদ হলো এমন একটি মতবাদ যার মূলকথা হলো, রাষ্ট্রই সকল শক্তির আধার।
ইতালীয় শব্দ Fascio থেকে Fascism শব্দটির উদ্ভব হয়েছে। এর একটি অর্থ হলো বল বা শক্তি। অপর একটি অর্থ গুচ্ছ বা আঁটি। উৎপত্তিগত অর্থে ফ্যাসিবাদ হলো- এমন বল বা শক্তি যা সহজে ভাঙা সম্ভব নয়। এই অর্থটি গ্রহণ করে- বেনিতো মুসোলিনী ইতালিতে যে মতবাদের জন্ম দিয়েছেন, তা-ই ফ্যাসিবাদ ।
গ.
উদ্দীপকে আমার পঠিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের ঘটনাকে নির্দেশ করা হয়েছে যার তাৎক্ষণিক ফল ছিল ভয়াবহ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর জাপানও পিছু হটতে থাকে। মিত্রপক্ষ ১৯৪৫ সালের জুলাই মাসে 'পটসডাম' সম্মেলনে জাপানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায়, জাপান তাৎক্ষণিক আত্মসমর্পণ না করায় ৬ই আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের হিরোশিমা ও ৯ই আগস্ট নাগাসাকিতে লিটল বয় ও ফ্যাটম্যান নামে দুটি আণবিক বোমা নিক্ষেপ করে। মুহূর্তে শহর দুটি ধ্বংস্তূপে পরিণত হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ লক্ষ লোক মারা যায়। বোমা নিক্ষেপের প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে আত্মগর্বিত জাপানি জাতি আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১০ই আগস্ট জাপান শান্তি প্রস্তাব পেশ করে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে ২ সেপ্টেম্বর জাপানের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে।
উদ্দীপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ৬ আগস্ট ১৯৪৫, ৯ আগস্ট ১৯৪৫ তথ্যগুলো দেওয়া আছে। যা যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক জাপানে আণবিক বোমা নিক্ষেপের ঘটনাকে নির্দেশ করে। যদিও বোমা নিক্ষেপের ফলে বিশ্বযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে কিন্তু ঘটনাটি অত্যন্ত ভয়াবহ ফল বয়ে আনে ।
ঘ.
মানব সভ্যতা ধ্বংসের ইহাই অর্থাৎ পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপই প্রথম পদক্ষেপ এ ঘটনার ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে ।
পৃথিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল ক্ষয়ক্ষতি, ভয়াবহতা কিংবা প্রাণহানির বিচারে যেকোনো যুদ্ধের চেয়ে মারাত্মক। ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছর চলা এ যুদ্ধে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এই বিশ্বযুদ্ধে একদিকে ছিল জার্মানি, জাপান, ইতালি এবং তাদের মিত্রদের নিয়ে গড়া অক্ষশক্তি অন্যদিকে ছিল আমেরিকা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, রাশিয়া ও তাদের মিত্রদের নিয়ে গড়া মিত্রশক্তি জোট ।
রণাঙ্গনে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চেয়ে অনেক উন্নত অস্ত্রের ব্যবহার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রাণহানির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় বহুলাংশে। এই বিশ্বযুদ্ধ দেশ থেকে দেশ ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল মহাদেশ থেকে মহাদেশে। অন্যদিকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সাগরতল, মহাসাগর এমনকি অন্তরীক্ষেও চলেছিল প্রাণঘাতি সংঘাত। ৬১টি দেশের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ অংশগ্রহণে প্রায় ছয় বছর -ব্যাপী চলা এ যুদ্ধ পৃথিবীকে ধ্বংস্তূপে পরিণত করেছিল। স্ট্যালিনগ্রাডে লক্ষ-লক্ষ সৈন্যের প্রাণহানি এবং হিরোশিমা-নাগাসাকিতে যথাক্রমে লিটল বয়, ফ্যাটম্যান আনবিক বোমা নিক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে মৃত্যুর তাণ্ডবলীলা । আনবিক বোমা নিক্ষেপের পাশবিকতা ও এর ধ্বংসযজ্ঞ বিশ্বমানবতাকে থমকে দিয়েছিল । আজও জাপানিরা সেই রাসায়নিক ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে। পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের মাধ্যমে আমেরিকা তার ক্ষমতা প্রদর্শনপূর্বক বৈশ্বিক একক পরাশক্তিতে পরিণত হয় এবং এ বোমার ধ্বংসলীলা পৃথিবীর মানুষকে আতঙ্কে ফেলে দেয়। এর আগে কোনো অস্ত্রে একসাথে এত ধ্বংসযজ্ঞ হয়নি যা পারমাণবিক বোমার মাধ্যমে ঘটেছে। এটি মানবসভ্যতা বিলীন করতে সক্ষম।
তাই পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ মানব সভ্যতা ধ্বংসের প্রথম পদক্ষেপ।