(ক)
যে কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহক তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা থাকা অর্থ সরাসরি উত্তোলন বা পরিশোধ করতে পারেন, তাকে ডেবিট কার্ড বলে।
(খ)
তারবিহীন টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থায় মোবাইল সেট ব্যবহার করে ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, তথ্য সংগ্রহ, তথ্য প্রদান ও লেনদেন করাকেই মোবাইল ব্যাংকিং বলে।
বর্তমান যুগে মোবাইল ব্যাংকিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর মাধ্যমে গ্রাহকরা ব্যাংকের শাখায় সশরীরে উপস্থিত না হয়েই ঘরে বসে আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারেন। এর ফলে সময়ের সাশ্রয় হয় এবং লেনদেনের গতি বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, যাদের কাছে ব্যাংকের শাখা নেই, তারা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খুব সহজেই অর্থ স্থানান্তর, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ এবং মোবাইল রিচার্জের মতো সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। এই সহজলভ্যতা এবং দ্রুততার কারণেই মোবাইল ব্যাংকিং বর্তমান ব্যবসায়িক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
(গ)
হাফিজ ই-রিটেইলিং (e-retailing) ধরনের বিপণন পদ্ধতি ব্যবহার করে।
ই-রিটেইলিং হলো ই-কমার্স বা ই-বিজনেসের একটি বিশেষ রূপ, যেখানে কোনো মধ্যস্থ ব্যবসায়ীর সহযোগিতা ছাড়াই সরাসরি ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাহকদের পণ্য বা সেবা ক্রয়ের সুযোগ প্রদান করা হয়। এই পদ্ধতিতে একজন ক্রেতা ইন্টারনেটে সার্চ করে অথবা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে তার কাঙ্ক্ষিত পণ্য খুঁজে বের করতে পারেন এবং অর্ডার করতে পারেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, হাফিজ তার 'রকমারি টি-মার্ট' ব্যবসায়ের বাজারজাতকরণের জন্য ফেসবুক ও বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন প্রদান করেন। বিজ্ঞাপন দেখে ক্রেতারা তাদের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো সময় টি-মার্ট সংগ্রহ বা অর্ডার করতে পারেন। হাফিজের এই ব্যবসায়িক কার্যক্রম সরাসরি ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুচরা ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, হাফিজ ই-রিটেইলিং বিপণন পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।
(ঘ)
হ্যাঁ, আমি মনে করি হাফিজ অন্য ব্যবসায়ীদের চেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করেন।
ই-রিটেইলিং হলো আধুনিক ই-কমার্সের একটি অংশ, যা ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা উভয়ের জন্য সুবিধাজনক। প্রথাগত ব্যবসায়ীরা শুধুমাত্র তাদের দোকানের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে থাকা ক্রেতাদের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু হাফিজ ফেসবুক এবং ওয়েবসাইটের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তার ব্যবসার পরিধি বিস্তৃত করেছেন। এর ফলে তিনি কেবল রংপুর সুপার মার্কেটের ক্রেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনেক দূরবর্তী ক্রেতাদের কাছেও তার পণ্যের প্রচার করতে পেরেছেন।
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী, হাফিজের ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের কারণে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের তুলনায় তার দোকানে ক্রেতার সমাগম বেশি ঘটে। এর মূল কারণ হলো ডিজিটাল বিপণনের মাধ্যমে ক্রেতারা ঘরে বসেই পণ্যের খোঁজ নিতে পারছেন এবং পছন্দ অনুযায়ী অর্ডার করতে পারছেন, যা ক্রেতাদের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক।
বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রথাগত ব্যবসায়ীরা যেখানে কেবল দোকানের ভিড়ের ওপর নির্ভরশীল, হাফিজ সেখানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সমন্বয়ে তার বিপণন কৌশল সাজিয়েছেন। এর ফলে তার পণ্যের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি পেয়েছে, নতুন ক্রেতা তৈরি হয়েছে এবং বিক্রয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেড়েছে। তাই বলা যায়, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের কারণে হাফিজ অন্য ব্যবসায়ীদের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক বাজারে অনেক বেশি সুবিধা ভোগ করছেন।