(ক)
IPO-এর পূর্ণরূপ হলো Initial Public Offering।
(খ)
বন্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যদি ইস্যুকারী কোম্পানি নির্দিষ্ট মূল্যে বন্ডটি পরিশোধ করে দেওয়ার অধিকার রাখে, তবে তাকে কল বন্ড বলে, যা কোম্পানির জন্য সুবিধাজনক। অন্যদিকে, মেয়াদপূর্তির আগেই যদি বিনিয়োগকারী বন্ডটি কোম্পানির কাছে ফেরত দিয়ে নিজের অর্থ তুলে নেওয়ার অধিকার রাখেন, তবে তাকে পুট বন্ড বলে, যা মূলত বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি কমায়।
(গ)
উদ্দীপকে বর্ণিত হানিফের ক্রয়কৃত সঞ্চয়পত্র একটি নির্দিষ্ট আয়ের নিরাপদ বিনিয়োগ, অন্যদিকে হাসানের ক্রয়কৃত শেয়ার একটি ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু অধিক সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ।
সঞ্চয়পত্র ও শেয়ারের মধ্যে মূল পার্থক্যগুলো মূলত মালিকানা, ঝুঁকি ও আয়ের ধরনে পরিলক্ষিত হয়। সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের মাধ্যমে একজন বিনিয়োগকারী মূলত সরকারকে ঋণ প্রদান করেন, যার বিপরীতে তিনি মেয়াদ শেষে নির্দিষ্ট হারে নিশ্চিত মুনাফা বা সুদ পান। এতে কোনো আর্থিক ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে এবং মেয়াদ শেষে আসল টাকা সহজেই ফেরত পাওয়া যায়। অন্যদিকে, কোম্পানির সাধারণ শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগকারী ওই কোম্পানির আংশিক মালিকানা লাভ করেন। কোম্পানির মুনাফা হলে তিনি লভ্যাংশ পান এবং লোকসান হলে তার দায়ভারও তাকে বহন করতে হয়, ফলে এতে ঝুঁকির মাত্রা অনেক বেশি থাকে। তাছাড়া শেয়ারের মূল্য প্রতিনিয়ত বাজার অনুযায়ী ওঠানামা করে।
উদ্দীপকে হানিফ তার প্রাপ্ত ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনেছেন, যা তাকে নির্দিষ্ট আয়ের নিশ্চয়তা দেয়। বিপরীতদিকে, হাসান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ হতে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার কিনেছেন, যেখানে তার আয়ের পরিমাণ নির্দিষ্ট নয় বরং কোম্পানির লাভের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।
পরিশেষে বলা যায়, হানিফের বিনিয়োগটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত হলেও হাসানের শেয়ারবাজারের বিনিয়োগটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিবর্তনশীল।
(ঘ)
উদ্দীপকে হাসান ও হানিফের বিনিয়োগ খাতগুলোর মধ্যে হাসানের বিনিয়োগে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা থাকলেও সবচেয়ে অধিক মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
উদ্দীপকে হাসানের বিনিয়োগ খাতটি হলো শেয়ার মার্কেট বা পুঁজিবাজারে সাধারণ শেয়ার ক্রয়। তার ভাই হানিফ ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনেছেন, যা থেকে তিনি নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নিশ্চিত মুনাফা পাবেন এবং সেখানে ঝুঁকি নেই বললেই চলে। অপরদিকে, হাসান তার সম্পূর্ণ টাকা দিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে কোম্পানির শেয়ার কিনেছেন, যেখানে বিনিয়োগের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা থাকলেও সবচেয়ে অধিক মুনাফা পাওয়ার সুযোগ বেশি। শেয়ার মূল্যের অস্বাভাবিক ওঠানামা, কোম্পানির পর্যাপ্ত লাভের অভাব ইত্যাদি কারণে সাধারণ শেয়ার থেকে মুনাফা বা লভ্যাংশ পাওয়া অনেক সময় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কোম্পানি দেউলিয়া হলে বা অবসায়ন ঘটলে সবার শেষে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা টাকা ফেরত পান, যা একটি বড় ঝুঁকি।
তবে, অর্থায়নের নীতি অনুযায়ী ঝুঁকি ও আয়ের মধ্যে একটি সমমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান। শেয়ারবাজারে কোম্পানির ব্যবসায়িক সাফল্য এলে শেয়ারহোল্ডাররা অন্য যেকোনো খাতের চেয়ে উচ্চহারে লভ্যাংশ পেয়ে থাকেন। তাছাড়া, কোম্পানির সুনাম ও মুনাফা বৃদ্ধি পেলে বাজারে শেয়ারের মূল্য অনেকগুণ বেড়ে যায়, যা বিক্রি করে বড় অঙ্কের মূলধনি মুনাফা অর্জন করা যায়। অনেক সময় সফল কোম্পানিগুলো বোনাস শেয়ারও প্রদান করে, যা বিনিয়োগকারীর উপার্জন ক্ষমতা ও সম্পদের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত হাসানের শেয়ার মার্কেটের বিনিয়োগ থেকে নির্দিষ্ট কোনো মুনাফা পাওয়া অনিশ্চিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে অধিক মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনাও তার বিনিয়োগেই বেশি থাকে।