(ক)
যে শেয়ারের মালিকগণ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের তুলনায় লভ্যাংশ প্রাপ্তিতে এবং কোম্পানি বিলোপের সময় মূলধন ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান, তাকে প্রেফারেন্স শেয়ার বা অগ্রাধিকার শেয়ার বলে।
(খ)
কোনো কোম্পানি যখন পুঁজিবাজারে প্রথমবারের মতো নতুন শেয়ার বিক্রয়ের জন্য ছাড় দেয়, তখন তাকে প্রাথমিক শেয়ার বা প্রাইমারি শেয়ার বলা হয়। প্রাথমিক শেয়ারের দাম সাধারণত মাধ্যমিক শেয়ারের তুলনায় কম থাকে এবং প্রাথমিক শেয়ারের দর পতনের সম্ভাবনা খুব কম থাকে। তাই তুলনামূলকভাবে প্রাইমারি শেয়ারে ঝুঁকি কম।
(গ)
উদ্দীপকে 'X' বলতে বন্ডকে নির্দেশ করছে।
যৌথ মূলধনি কারবারে অর্থ সংগ্রহের অন্যতম উৎস হলো বন্ড। যৌথ মূলধন কারবারে শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে যখন প্রয়োজনীয় অর্থের সংকুলান না হয়, তখন কোম্পানি বন্ড ইস্যু করে। বন্ড হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি, যার ভিত্তিতে ঋণগ্রহীতা সুদ ও আসল একটি নির্দিষ্ট তারিখে বন্ড মালিককে ফেরত দিতে অঙ্গীকার করে। উদ্দীপকে দেওয়া আছে, 'X' হলো এমন একটি দীর্ঘমেয়াদে অর্থায়নের অন্যতম উৎস যেখানে সুদের হার এবং ঋণ পরিশোধের সময়কাল বিশেষভাবে উল্লেখ থাকে। যা মূলত বন্ডের বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে 'X' বলতে বন্ডের বিষয়টিকে তুলে ধরা হয়েছে।
(ঘ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' (বন্ড) এবং 'Y' (শেয়ার)-এর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান। উভয়েই যৌথ মূলধনি কারবারে মূলধন সংগ্রহের উৎস হলেও এদের প্রকৃতি ভিন্ন। পার্থক্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
| বৈশিষ্ট্য |
বন্ড (X) |
শেয়ার (Y) |
| প্রকৃতি |
বন্ড হলো কোম্পানির ঋণ গ্রহণের দলিল। |
শেয়ার হলো কোম্পানির মালিকানার অংশ। |
| আয়ের ধরন |
বন্ডের মালিকগণ নির্দিষ্ট হারে সুদ পান। |
শেয়ারহোল্ডারগণ লভ্যাংশ লাভ করেন। |
| আয়ের নিশ্চয়তা |
লাভ বা লোকসান যাই হোক, নির্দিষ্ট হারে সুদ পাওয়া যায়। |
আয় নির্দিষ্ট নয়, এটি কোম্পানির লাভের ওপর নির্ভর করে। |
| ভোটাধিকার |
বন্ডের মালিকদের কোনো ভোটাধিকার থাকে না। |
শেয়ারহোল্ডারদের ভোটাধিকার থাকে। |
| ঝুঁকি |
বন্ডে বিনিয়োগ তুলনামূলক ঝুঁকিমুক্ত। |
শেয়ারে বিনিয়োগ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। |
| মূলধন ফেরত |
নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে মূলধন ফেরত পাওয়া যায়। |
কোম্পানি বিলোপের সময় লভ্যাংশ বা মূলধন ফেরত পাওয়া যায়। |
সুতরাং, প্রকৃতি, আয় এবং ঝুঁকির দিক থেকে যৌথ মূলধনি কারবারে বন্ড ও শেয়ারের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।