Facebook Pixel

হাসান 'ক' রাষ্ট্রে ও ফারুক 'খ' রাষ্ট্রে বসবাস করে। হাসানের রাষ্ট্রের সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। উক্ত রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ আইনসভার কাছে জবাবদিহি করেন না। অপরপক্ষে, ফারুকের রাষ্ট্রের সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন এবং সরকারপ্রধান ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ তাদের কাজের জন্য আইনসভার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। ক. সরকার কী? খ. যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বৃহৎ রাষ্ট্রের জন্য উপযোগী- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রের সরকারের সাথে 'খ' রাষ্ট্রের সরকারের পার্থক্য দেখাও। ঘ. হাসান ও ফারুকের দেশের দুটি সরকারব্যবস্থার মধ্যে তুমি কোন ধরনের সরকারব্যবস্থাকে উত্তম বলে মনে কর? ব্যাখ্যা কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ সরকার কাঠামো ও সরকার অঙ্গসমূহ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. রাষ্ট্রের ইচ্ছা-অনিচ্ছা ও বিধিবিধান যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয় তাকে সরকার বলে। খ. যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত কতকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্র কিংবা কতকগুলো অঞ্চল নিয়ে গঠিত হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের মূলকথা হলো সাংবিধানিকভাবে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করে দেওয়া। একটি দেশ যদি ছোট হয় তাহলে কেন্দ্র থেকেই সহজে পরিচালনা করা যায়। বৃহৎ রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের সমস্যা যেমন বিভিন্ন, তেমনি নাগরিকদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও মূল্যবোধে থাকে বৈচিত্র্য, যা কেন্দ্র থেকে অনুধাবন ও সমাধান করা সম্ভব হয় না। বৃহৎ রাষ্ট্রের বহুমুখি সমস্যা স্থানীয়ভাবে মিটানো সম্ভব। তাই এসব দিক বিবেচনায় বৃহৎ রাষ্ট্রের জন্য যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা উপযোগী। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্র সরকার ব্যবস্থা হচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারব্যবস্থা ও 'খ' রাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা। উভয় সরকার ব্যবস্থার মধ্যে বেশ কিছু বৈসাদৃশ্য রয়েছে। আইন ও শাসন বিভাগের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তিতে সরকার দুটি ভাগে বিভক্ত। একটি হলো সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ও অন্যটি হলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার। এ উভয় সরকারের সুস্পষ্ট পার্থক্য থাকা বাঞ্ছনীয়। উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানের নামে সকল কিছু পরিচালিত হলেও ক্ষমতার মূলে থাকে সরকার প্রধান। অন্যদিকে, 'খ' রাষ্ট্রের যিনি রাষ্ট্রপ্রধান তিনি সরকারপ্রধান। এ থেকে বোঝা যায় 'ক' রাষ্ট্রের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা ও 'খ' রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। সংসদীয় বা মন্ত্রী পরিষদ সরকার ব্যবস্থায় আইন সবার সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। এ শাসনব্যবস্থার রাষ্ট্রপতি হলেন নিয়ম তান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান। প্রকৃত শাসন ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। তিনি আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা। উক্ত শাসন ব্যবস্থায় আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলই সরকার গঠন করে। অপরদিকে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার রাষ্ট্রপতি একই সাথে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধান। এ শাসন ব্যবস্থার মন্ত্রী পরিষদের সদস্যগণ আইনসভার সদস্য নন এবং রাষ্ট্রপতির সহকর্মীয় নন বরং অধস্তন কর্মচারী মাত্র। এ ধরনের শাসন ব্যবস্থায় বিচার বিভাগের প্রাধান্য থাকে। অতএব দেখা যায়,মন্ত্রিপরিষদ বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রী হলেন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার রাষ্ট্রপতি ও মসকল ক্ষমতার শীর্ষে। ঘ. উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের সংসদীয় সরকার এবং 'খ' রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। বাংলাদেশের জন্য এ দুটি সরকার ব্যবস্থার মধ্যে আমি সংসদের সরকার ব্যবস্থাকে উত্তম মনে করি। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা দুটি গুরুত্বপূর্ণ রূপ হলো যথাক্রমে মন্ত্রীপরিষদ শাসিত সরকার ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার। এ দুটি শাসনব্যবস্থাকে একে অপরের বিপরীত রূপ বলে মনে করা হয়। উক্ত দুটি শাসন ব্যবস্থায় বেশ কিছু দোষত্রুটি রয়েছে। তবে উভয়ের মধ্যে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা উত্তম। মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থার রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের তুলনায় উত্তম। মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের মন্ত্রিপরিষদ তার যাবতীয় কাজকর্মের জন্য আইনসভার নিকট দায়ী থাকে বলে মন্ত্রিপরিষদের স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠার কোন সুযোগ থাকে না। এ সরকার ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান গুণ হলো এর নমনীয়তা। এখানে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতি রেখে প্রশাসন বা সরকারের প্রয়োজন মাফিক রদবদলের ব্যবস্থা রয়েছে। আইনসভার মাধ্যমে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার অধিকতর জনকল্যাণমুখী ও জনপ্রিয় শাসন ব্যবস্থা। অপরদিকে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ পরস্পর স্বাধীনভাবে কাজ করায় উভয়ের মধ্যে সুষ্ঠু সহযোগিতা গড়ে ওঠে না। সকল ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে থাকায় তা নিয়ন্ত্রণ করার শক্তি আইনসভার থাকে না। রাষ্ট্রপতি তার কার্যকালের অনিয়ন্ত্রিত ও একচ্ছএ ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ পান যা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপদজনক। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, সর্বাধিক জনকল্যাণ এবং দ্বায়িত্বশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিলে 'ক' দেশের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার অপেক্ষায় 'খ' দেশের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা উত্তম।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

হাসান 'ক' রাষ্ট্রে ও ফারুক 'খ' রাষ্ট্রে বসবাস করে। হাসানের রাষ্ট্রের সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। উক্ত রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ আইনসভার কাছে জবাবদিহি করেন না। অপরপক্ষে, ফারুকের রাষ্ট্রের সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন এবং সরকারপ্রধান ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ তাদের কাজের জন্য আইনসভার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য।

ক.

সরকার কী?

খ.

যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বৃহৎ রাষ্ট্রের জন্য উপযোগী- ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রের সরকারের সাথে 'খ' রাষ্ট্রের সরকারের পার্থক্য দেখাও।

ঘ.

হাসান ও ফারুকের দেশের দুটি সরকারব্যবস্থার মধ্যে তুমি কোন ধরনের সরকারব্যবস্থাকে উত্তম বলে মনে কর? ব্যাখ্যা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'C' ও 'D' উভয় রাষ্ট্রেই প্রদেশ রয়েছে। 'C' রাষ্ট্রের প্রদেশগুলোর কোন সাংবিধানিক স্বাধীনতা নেই। কিন্তু 'D' রাষ্ট্রের প্রদে...

"Democracy is a government of the people, by the people and for the people" উক্তিটি কার?

"Democracy is a government of the people by the people and for the people"- উক্তিটি কার?

Democracy শব্দটি উদ্ভূত হয়েছে কোন দুটি শব্দ থেকে?

Democracy শব্দটি কী শব্দ?

'Demos' শব্দটির অর্থ কী?

'The Politics' গ্রন্থটি কার লেখা?

'X' ও 'Y' দুই বন্ধু। তারা সরকারের বিভিন্ন বিভাগ সম্পর্কে আলোচনা করছিল। 'Y' বলল 'E' বিভাগে আইনের বাস্তবায়ন করলেও তা প্রণয়...

'X' রাষ্ট্রে বিচারকার্যে শাসন বিভাগের হস্তক্ষেপের ফলে জনগণ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত ছিল। চার মাস আগে 'আমাদের দিন' পত্রিকায়...

'Y' রাষ্ট্রের সরকারপ্রধানকে তার কাজের জন্য আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে হয় না। ক. জনমত কী? খ. জাতি ও জাতীয়তার পার্থক্য ব্য...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।