ক.
বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রধান হচ্ছেন প্রধান বিচারপতি।
খ.
সরকারের তিনটি বিভাগ রয়েছে। যথা- আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ। ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ নীতির অর্থ সরকারের এ তিনটি বিভাগের ক্ষমতা ও কাজকে পৃথক বা স্বতন্ত্র করে দেওয়া। এক্ষেত্রে প্রতিটি বিভাগ তার নিজস্ব কর্মক্ষেত্রের মধ্যে স্বাধীন থাকবে। এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে বাধা প্রদান বা হস্তক্ষেপ করবে না। এ নীতি অনুসারে আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে, শাসন বিভাগ সেসব আইন কার্যকর করবে এবং বিচার বিভাগ সেসব আইনের ব্যাখ্যাদান এবং বিভিন্ন মামলায় প্রয়োগ করবে।
গ.
উদ্দীপকে বর্ণিত 'P' দ্বারা আইন বিভাগকে নির্দেশ করছে। আর আইন বিভাগ গণতন্ত্রায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠায় আইন বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক গণতন্ত্র প্রতিনিধিত্বমূলক হওয়ায় এ ব্যবস্থায় আইনসভা তথা আইন বিভাগের গুরুত্ব অপরিসীম। গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন আইনের শাসন। আইন বিভাগের প্রধান কাজ হচ্ছে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আইন প্রণয়ন করা। আবার গণতন্ত্রের অপরিহার্য উপাদান হলো জনমত গঠন। আইনসভায় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বিতর্ক ও আলোচনা রেডিও, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে প্রচারিত হয়। এর ফলে জনগণ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে অবগত হয়। এর ফলে সুষ্ঠু জনমত গড়ে ওঠে না। গণতন্ত্রায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট। জবাবদিহিতা। আইন বিভাগের মাধ্যমে এই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়। যেমন সংসদীয় সরকার পদ্ধতিতে শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য যৌথভাবে আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে। আইন বিভাগের আস্থা হারালে শাসন বিভাগ বা মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়। আইন বিভাগ সাধারণত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, বিতর্ক ও আলোচনা, নিন্দা প্রস্তাব আন্নয়ন, মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন এবং অনাস্থা প্রস্তাব পাশ করে শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। গণতান্ত্রিক শাসনের জন্য অপরিহার্য হলো রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যয়িত অর্থের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব প্রদান করা। আইন বিভাগের মাধ্যমে এই কাজটি পরিচালনা করা হয়। কেননা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইন বিভাগই হলো জাতীয় অর্থ তহবিলের অভিভাবক ও রক্ষক। আইনসভার সম্মতি ব্যতীত কোনো কর ধার্য, ব্যয় ধরাদ্দ করা হয় না। গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয় নির্বাচনকে। আইনসভা বা আইন বিভাগ অনেক নির্বাচনসংক্রান্ত কাজও পরিচালনা করে থাকে। এভাবেই আইন বিভাগ তার নানাবিধ কার্যক্রমের দ্বারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।
সরকার রাষ্ট্রের মুখপাত্র আর জনগণের মুখপাত্র হলো আইন বিভাগ। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, যে, বর্ণিত P বিভাগ তথা আইন বিভাগ দেশের গণতন্ত্রায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঘ.
উদ্দীপকে বর্ণিত 'E' বিভাগ হলো শাসন বিভাগ। আধুনিক গণতান্ত্রিক সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হলো শাসন বিভাগ। বিভিন্ন কারণে বর্তমানে শাসন বিভাগের ক্ষমতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দলীয় ব্যবস্থার উদ্ভব এবং দলীয় শৃঙ্খলার কঠোরতা আইনসভার সদস্যদের দলের প্রতি অনুগত থাকতে বাধ্য করে। ফলে দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা শাসকদের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের প্রতি অবহেলা করতে পারে না। এভাবে শাসন বিভাগের ক্ষমতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। জরুরি অবস্থায় বা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধানে শাসন বিভাগ দ্রুত ও কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।
পক্ষান্তরে, আইন বিভাগের পক্ষে তা সম্ভব হয় না। যার কারণে আইন বিভাগের ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে এবং শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিককালে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আইনসভা আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সাধারণ নীতিগুলোকে বিধিবদ্ধ করে আইনের ফাঁক পূরণের ক্ষমতা শাসন বিভাগের ওপর ছেড়ে দেয়। এই অর্পিত ক্ষমতাপ্রসূত আইনের মাধ্যমে শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আধুনিককালে শাসন বিভাগ বহুবিধ অর্থনৈতিক কার্য সম্পাদন করে।
যেমন- বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন, মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন ইত্যাদি। এসব কার্য সম্পাদন করতে গিয়ে শাসন বিভাগ অধিক ক্ষমতার অধিকারী হয়েছে।
অতএব বলা যায়, উপরিউক্ত কারণসমূহের কারণে বর্তমানে উদ্দীপকে বর্ণিত E বিভাগ তথা শাসন বিভাগের ক্ষমতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।