Facebook Pixel

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয়, প্রাকৃতিক সম্পদের উত্তোলন ও ব্যবহার, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তখনকার প্রেক্ষাপটে তা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণ ছাড়াই পদ্মা সেতুর মতো একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কারণ বৈদেশিক সাহায্যে অনেক অসম্মানজনক শর্ত থাকে, ঋণের সুদের হার বেশি হয়, মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়, পরমুখাপ্রেক্ষিতা বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় তা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। ক. ওয়েজ আর্নার্স স্কিম কী? খ. "আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যতীত উন্নয়ন সম্ভব নয়”- ব্যাখ্যা করো। গ. স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু ছিল? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো। ঘ. বৈদেশিক সাহায্য কি দেশের স্থিতিশীল উন্নয়নের অন্তরায়? উদ্দীপকের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৮ঃ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

উৎস: Board Exam Question BB 2021

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বৈধ পথে দেশে পাঠানোর জন্য সরকার যে বিশেষ প্রণোদনা বা স্কিম চালু করেছে, তাকে ওয়েজ আর্নার্স স্কিম বলা হয়। (খ) আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যতীত কোনো দেশের পক্ষেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব নয়। প্রতিটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, জলবায়ু এবং উৎপাদন দক্ষতা ভিন্ন ভিন্ন হয়, ফলে কোনো দেশই তার প্রয়োজনীয় সব পণ্য নিজস্ব ভূখণ্ডে সাশ্রয়ী মূল্যে উৎপাদন করতে পারে না। যে পণ্যটি অন্য দেশ থেকে কম খরচে আমদানি করা সম্ভব, তা নিজ দেশে উচ্চ ব্যয়ে উৎপাদন করা অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিযুক্ত নয়। আবার, উদ্বৃত্ত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হয়, যা দেশের মূলধন গঠন ও শিল্পায়নে সহায়ক। এভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করে। (গ) স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত। সেই সময়ে দেশের অবকাঠামো পুনর্গঠন, প্রাকৃতিক সম্পদের উত্তোলন, প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য আমদানি এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় ও রাজস্ব আয় ছিল অত্যন্ত সীমিত, যা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য যথেষ্ট ছিল না। উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রেক্ষাপটে, তৎকালীন সরকার বিভিন্ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট নির্মাণ এবং খাদ্য ঘাটতি মেটানোর জন্য বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান তখন অপরিহার্য ছিল। অর্থাৎ, যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং প্রাথমিক অর্থনৈতিক ভিত্তি স্থাপনের জন্য বৈদেশিক সাহায্য তখন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। (ঘ) বৈদেশিক সাহায্য দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্থিতিশীল উন্নয়নের পথে একটি বড় অন্তরায় হতে পারে। উদ্দীপকে উল্লিখিত পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে বর্তমান সরকার প্রমাণ করেছে যে, পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। বৈদেশিক সাহায্যের ক্ষেত্রে দাতা দেশ বা সংস্থাগুলো প্রায়ই বিভিন্ন অসম্মানজনক শর্ত আরোপ করে, যা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া, বৈদেশিক ঋণের সুদের হার অনেক সময় উচ্চ হয়, যা পরিশোধ করতে সরকারকে জনগণের ওপর করের বোঝা বাড়াতে হয়। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয় এবং অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক সাহায্যের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা পরমুখাপেক্ষিতা বৃদ্ধি করে এবং দেশের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। সুতরাং, সংকটকালীন সময়ে সাময়িক সাহায্য গ্রহণ করা যেতে পারে, কিন্তু টেকসই ও স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভর না করে রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং নিজস্ব সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করাই শ্রেয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenBarisal Board (2021)

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয়, প্রাকৃতিক সম্পদের উত্তোলন ও ব্যবহার, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তখনকার প্রেক্ষাপটে তা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণ ছাড়াই পদ্মা সেতুর মতো একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কারণ বৈদেশিক সাহায্যে অনেক অসম্মানজনক শর্ত থাকে, ঋণের সুদের হার বেশি হয়, মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়, পরমুখাপ্রেক্ষিতা বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় তা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

ক. ওয়েজ আর্নার্স স্কিম কী? খ. "আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যতীত উন্নয়ন সম্ভব নয়”- ব্যাখ্যা করো। গ. স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু ছিল? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো। ঘ. বৈদেশিক সাহায্য কি দেশের স্থিতিশীল উন্নয়নের অন্তরায়? উদ্দীপকের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A একটি উন্নয়নশীল দেশ। উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করতে হলে বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সাথে সাথে বিভিন্ন দ...

'A' ও 'B' দুটি দেশ। 'A' দেশ তাদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের মধ্যেই ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ...

‘A’ ও ‘B’ দুটি দেশ। ‘A’ দেশ দীর্ঘদিন ধরে ‘B’ দেশ থেকে সাহায্য গ্রহণ করে আসছে। এখন 'A' দেশের কর্তৃপক্ষ অনুধাবন করতে পারছে...

A ও B দুটি দেশ। A দেশ দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রয়-বিক্রয় করে, অন্যদিকে B দেশ তার উদ্বৃত্ত পণ্যসামগ্...

A দেশ ও B দেশের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যে গত অর্থবছরে A দেশের ১৪৩৯৩ মিলিয়ন ডলার এবং B দেশের ১৩৭৫৭ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি আ...

'A' দেশ তার নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ তার উ...

‘A’ দেশ তার সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবা নিজ দেশের মধ্যে বিনিময় করে। 'B' দেশ তার উৎপাদিত পণ্য ও সেবা নিজ ...

'A' ব্যক্তি একটি শতরঞ্জি তৈরির কারখানায় কাজ করে। অন্যদিকে, 'B' ব্যক্তি একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করে। 'A' ব্যক্তির...

'A''ও 'B' দুটি দেশ। 'A' দেশ তাদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের মধ্যেই ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ ত...

Br=(X-M)

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।