(ক)
ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে নৈতিক মূল্যবোধের আলোকে সঠিক কাজ গ্রহণ করা এবং মন্দ বা অনৈতিক কাজ বর্জন করাকেই ব্যবসায় নৈতিকতা বলে।
(খ)
পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করা এবং এর ভারসাম্য বজায় রাখাকেই পরিবেশ সংরক্ষণ বলে। পরিবেশ এবং ব্যবসায় পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। সুষ্ঠু পরিবেশ ছাড়া ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা ও উন্নতি লাভ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে শিল্পকারখানার বর্জ্য নদ-নদীতে মিশে পানি দূষিত করছে, গাছ ও পাহাড় কেটে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করা হচ্ছে এবং যানবাহনের কালো ধোঁয়া ও উচ্চ শব্দ পরিবেশকে দূষিত করছে। এই সকল দূষণ রোধ করে পরিবেশকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য রাখাই হলো পরিবেশ সংরক্ষণ।
(গ)
উদ্দীপকে ই-বিজনেসের ব্যবসায় থেকে ভোক্তা বা B2C (Business to Consumer) ক্ষেত্রটির উল্লেখ আছে।
ইলেকট্রনিক মাধ্যমভিত্তিক লেনদেনের একপক্ষে থাকে ব্যবসায়ী এবং অন্যপক্ষে থাকে ভোক্তা, তাকে ই-বিজনেসের ব্যবসায় থেকে ভোক্তা বা B2C পদ্ধতি বলে। এটি ই-বিজনেসের একটি বিশেষ রূপ যা মূলত খুচরা ব্যবসায় প্রয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে ক্রেতা সরাসরি ব্যবসায়ীর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পছন্দের পণ্য ক্রয় করতে পারে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, স্বর্ণা তার ছেলের জন্মদিনের উপহার হিসেবে ইন্টারনেটের একটি Online Store-এ প্রবেশ করে ঘড়ি পছন্দ করেন এবং ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধ করে সেটি ক্রয় করেন। এখানে Online Store হলো ব্যবসায়ী এবং স্বর্ণা হলেন ভোক্তা। সুতরাং, স্বর্ণার এই ক্রয় কার্যক্রম ই-বিজনেসের B2C পদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(ঘ)
আমি মনে করি, ঘড়িটির মূল্য পরিশোধ পদ্ধতি ইলেকট্রনিক পেমেন্ট বা ই-পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
ইলেকট্রনিক পেমেন্ট পদ্ধতি হলো এমন এক ব্যবস্থা যেখানে কাগজের চেকের পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করা হয়। এই পদ্ধতি বিভিন্ন মাধ্যমে সম্পন্ন হতে পারে, যেমন: মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি), ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং ডিজিটাল ওয়ালেট।
উদ্দীপকে স্বর্ণা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘড়িটি ক্রয় করে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধ করেছেন। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে স্বর্ণাকে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ রাখতে হয় এবং নির্দিষ্ট পিন বা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর করতে হয়। এর ফলে তাকে সশরীরে দোকানে যেতে হয়নি এবং খুব দ্রুত ও সহজভাবে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।
সুতরাং, আমার মতে, মোবাইল ব্যাংকিং, কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মতো যেকোনো ইলেকট্রনিক পেমেন্ট মাধ্যমের সাহায্যে ঘড়িটির মূল্য পরিশোধ সম্পন্ন হতে পারে।