Facebook Pixel

স্বনামধন্য 'সেন্ট্রাল গার্মেন্টস' চেয়ারম্যানের আকস্মিক মৃত্যুর পর তার শ্বশুর মি. মাহিন চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হন। সমস্যা মোকাবিলার জন্য তিনি 'কঠোরনীতি' গ্রহণ করেন। অবাধ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের তিনি বরখাস্ত করেন এবং চেয়ারম্যানের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য নিজ অফিস কক্ষটি জমকালোভাবে সজ্জিত করেন। প্রশাসনিক শক্তি সম্পর্কে কর্মচারীদের মনে ভীতি সঞ্চার করতে চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেন। তিনি অফিসে সার্বক্ষণিক নজরদারিরও ব্যবস্থা করেন। ফলে সর্বক্ষেত্রে তার কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়ে 'সেন্ট্রাল গার্মেন্টস' পুনরায় লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ক. কোন সুলতান মেওয়াটি দস্যুদের দমন করেন? খ. মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়াসউদ্দিন বলবন কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন? গ. উদ্দীপকের মি. মাহিনের কঠোর নীতির ন্যায় দিল্লি সালতানাতের কোন সুলতানের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের মি. মাহিনের সাথে উক্ত সুলতানের রাজকীয় মর্যাদা ও ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার তুলনামূলক আলোচনা কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ দিল্লি সুলতানাত যুগ (১২০৬-১৫২৬খ্রি.)

উৎস: Board Exam Question Combined 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) গিয়াসউদ্দিন বলবন মেওয়াটি দস্যুদের দমন করেন। (খ) মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়াসউদ্দিন বলবন নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছিলেন: ১. তিনি দক্ষ ও কর্মক্ষম সৈনিক বাছাই করে তাদের সেনানিবাসে মোতায়েন করেন। ২. পুরাতন দুর্গ ও সেনানিবাসগুলো সংস্কার করেন এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নতুন সেনানিবাস স্থাপন করেন। ৩. সামানা, মুলতান ও দিপালপুরকে সীমান্তবর্তী প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং এসব প্রদেশের শাসনভার দক্ষ ও সুযোগ্য শাসনকর্তাদের ওপর ন্যস্ত করেন। (গ) উদ্দীপকের মি. মাহিনের কঠোর নীতির সাথে দিল্লি সালতানাতের সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের গৃহীত কঠোর নীতির সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। মি. মাহিন যেমন তার প্রতিষ্ঠানের সমস্যা মোকাবিলায় কঠোর নীতি গ্রহণ করেন, তেমনি সুলতান বলবনও তার শাসনামলে রাজ্য পরিচালনায় অত্যন্ত কঠোর নীতি অবলম্বন করেছিলেন। তিনি অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ, বিশৃঙ্খলা এবং দুর্ধর্ষ মোঙ্গল আক্রমণ থেকে নবপ্রতিষ্ঠিত তুর্কি সাম্রাজ্যের সংহতি রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। সালতানাতের বিচ্ছিন্নতাবাদ নির্মূল করে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি যে কঠোর ও নির্দয় নীতি গ্রহণ করেন, তা ইতিহাসে 'রক্ত ও লৌহ নীতি' (Blood and Iron Policy) নামে পরিচিত। এই নীতি অনেক সময় চরম বর্বরতায় পর্যবসিত হতো। এছাড়া বলবন নিরঙ্কুশ স্বৈরতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন এবং সাম্রাজ্যে অপ্রতিদ্বন্দ্বী একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি প্রভাবশালী 'তুর্কি চল্লিশ চক্র'-এর ক্ষমতা খর্ব করেন। সুতরাং বলা যায়, ক্ষমতা নিরাপদ ও সুরক্ষিত করার জন্য মি. মাহিন এবং সুলতান বলবন উভয়েই কঠোর শাসননীতি অবলম্বন করেছিলেন, তাই তাদের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। (ঘ) উদ্দীপকের মি. মাহিনের সাথে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের রাজকীয় মর্যাদা ও ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় ব্যাপক সাদৃশ্য লক্ষ্যণীয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. মাহিন চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়ে নিজের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য অফিস কক্ষটি জমকালোভাবে সজ্জিত করেন এবং কর্মচারীদের মনে ভীতি সঞ্চার করতে কক্ষে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেন। পাশাপাশি তিনি সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করেন। ঠিক একইভাবে, সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনও রাজতন্ত্রের মর্যাদা ও ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার গৃহীত পদক্ষেপগুলো নিম্নরূপ: ১. বংশগত দাবির অভাব পূরণে এবং জনসম্মুখে আত্মসম্মান বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তিনি নিজেকে পৌরাণিক বীর 'আফরাসিয়াবের' বংশধর বলে দাবি করেন। ২. তিনি নিজেকে পৃথিবীতে ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে ঘোষণা করেন, যাতে প্রজারা তাকে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার চোখে দেখে। ৩. রাজতন্ত্রের মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি ধর্ম রক্ষা, শরিয়তের শাসন কায়েম, দুর্নীতি বিলোপ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ৪. পারস্য রীতি অনুকরণে তিনি রাজদরবারে জমকালো পরিবেশ তৈরি করেন এবং সুলতানের আভিজাত্য প্রমাণের জন্য 'সিজদাহ' (আভূমি কুর্ণিশ) ও 'পায়বুস' (পদচুম্বন) প্রথা চালু করেন। রাজসভার গাম্ভীর্য রক্ষায় হাসি-ঠাট্টা, মদ্যপান ও নৃত্য-গীত নিষিদ্ধ করেন। ৫. তিনি সাধারণ মানুষের সাথে দূরত্ব বজায় রাখতেন, সবসময় রাজকীয় পোশাকে সজ্জিত থাকতেন এবং নীচ বংশীয় লোকদের সাথে মেলামেশা বা তাদের উপহার গ্রহণ করতেন না। পরিশেষে বলা যায়, মি. মাহিন যেমন তার প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক শক্তি ও মর্যাদা প্রমাণের জন্য আড়ম্বর ও কঠোরতা অবলম্বন করেছিলেন, সুলতান বলবনও ঠিক তেমনিভাবে দিল্লি সালতানাতের রাজকীয় মর্যাদা ও ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আভিজাত্য ও ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নিয়েছিলেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCombined Board (2019)

স্বনামধন্য 'সেন্ট্রাল গার্মেন্টস' চেয়ারম্যানের আকস্মিক মৃত্যুর পর তার শ্বশুর মি. মাহিন চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হন। সমস্যা মোকাবিলার জন্য তিনি 'কঠোরনীতি' গ্রহণ করেন। অবাধ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের তিনি বরখাস্ত করেন এবং চেয়ারম্যানের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য নিজ অফিস কক্ষটি জমকালোভাবে সজ্জিত করেন। প্রশাসনিক শক্তি সম্পর্কে কর্মচারীদের মনে ভীতি সঞ্চার করতে চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেন। তিনি অফিসে সার্বক্ষণিক নজরদারিরও ব্যবস্থা করেন। ফলে সর্বক্ষেত্রে তার কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়ে 'সেন্ট্রাল গার্মেন্টস' পুনরায় লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

ক. কোন সুলতান মেওয়াটি দস্যুদের দমন করেন?

খ. মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়াসউদ্দিন বলবন কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন?

গ. উদ্দীপকের মি. মাহিনের কঠোর নীতির ন্যায় দিল্লি সালতানাতের কোন সুলতানের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের মি. মাহিনের সাথে উক্ত সুলতানের রাজকীয় মর্যাদা ও ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার তুলনামূলক আলোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

M একজন ক্রীতদাস হওয়া সত্ত্বেও তার যোগ্যতা ও প্রতিভা দিয়ে প্রভুর মন জয় করেন। বিচক্ষণ এ রাজনীতিবিদ প্রভুর মৃত্যুর পর এক...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাবার পর্যাপ্ত সময় ...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময়...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময়...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাবার পর্যাপ্ত সময় ...

'আইবেক' শব্দের অর্থ কী?

আলাউদ্দিন খলজির শাসনব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল-

আলী ইমাম খুবই বুদ্ধিমান ও সুন্দর দেহের অধিকারী ছিলেন। তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও সৌন্দর্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে তার ভ্রাতাগণ তাকে ক্রী...

ইলতুৎমিশ দাস রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন-ব্যাখ্যা কর।

ইলতুৎমিশকে দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলার কারণ তিনি-

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।