(ক)
যে সহানুমানের তিনটি যুক্তিবাক্যের সবকটিই প্রাকল্পিক যুক্তিবাক্য, তাকে প্রাকল্পিক সহানুমান বলে।
(খ)
'A' যুক্তিবাক্যের সরল আবর্তন সম্ভব নয়। আবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী, আবর্তনে গুণ সবসময় অভিন্ন থাকে, কিন্তু পরিমাণ কখনো অভিন্ন থাকে আবার কখনো ভিন্ন হয়ে যায়। পরিমাণ অভিন্ন থাকলে তাকে সরল আবর্তন বলা হয় এবং পরিমাণ ভিন্ন হলে তাকে অ-সরল আবর্তন বলে।
'A' যুক্তিবাক্যের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য কিন্তু বিধেয় পদ অব্যাপ্য। যদি 'A' যুক্তিবাক্যের সরল আবর্তন করে পুনরায় একটি 'A' বাক্য গঠন করা হয়, তবে আশ্রয়বাক্যের অব্যাপ্য বিধেয় পদটি সিদ্ধান্তে গিয়ে উদ্দেশ্য পদ হিসেবে ব্যাপ্য হয়ে যাবে। এটি আবর্তনের মৌলিক নিয়ম লঙ্ঘন করে। তাই 'A' যুক্তিবাক্যের নিয়মসংগত আবর্তন করলে একটি 'I' বাক্য পাওয়া যায়, যাকে অ-সরল আবর্তন বলে। সুতরাং, 'A' যুক্তিবাক্যের সরল আবর্তন সম্ভব নয়।
(গ)
উদ্দীপকে ইকবালের ভূমিকা সহানুমানের মধ্যপদকে নির্দেশ করে।
সহানুমানে মধ্যপদ বা হেতুপদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মধ্যপদের সাথে প্রধান ও অপ্রধান পদের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করেই সিদ্ধান্তে প্রধান ও অপ্রধান পদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়। মধ্যপদের সাথে প্রধান ও অপ্রধান পদের মধ্যে এই সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা না হলে কোনো সহানুমান সঠিক হতো না, অর্থাৎ কোনো সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা যেত না। সুতরাং, মধ্যপদটি হচ্ছে প্রধান ও অপ্রধান পদের মধ্যে সম্বন্ধ স্থাপনের একমাত্র মাধ্যম। মধ্যপদের ভূমিকা সম্পর্কে যুক্তিবিদ বোসাকা বলেন, "মধ্যপদকে গণ্য করা হয় একটি বন্ধনী বা আধার হিসেবে যা সিদ্ধান্তকে একসাথে ধারণ করে, তাকে স্পষ্ট করে এবং সুনির্দিষ্টভাবে ব্যক্ত করে।"
মধ্যপদের কাজকে একজন বিয়ের ঘটকের সাথে তুলনা করা যায়। উদ্দীপকে ইকবালের ভূমিকা ঠিক তেমনই। ঘটক যেমন একবার পাত্রপক্ষের সাথে আবার পাত্রীপক্ষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং তার মধ্যস্থতায় দুজন অপরিচিত ব্যক্তির মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়, মধ্যপদও ঠিক একইভাবে দুটি ভিন্ন পদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে। উদ্দীপকে সেলিম ও হাসিনা একে অপরের পরিচিত ছিলেন না, কিন্তু তারা উভয়েই ইকবালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ইকবালের মধ্যস্থতায় তাদের মধ্যে পরিচয় ও পরবর্তীতে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। এখানে ইকবালের কাজ মধ্যপদের মতোই। প্রকৃতপক্ষে মধ্যপদ ছাড়া কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত স্থাপন সম্ভব নয়।
পরিশেষে বলা যায়, সহানুমানে মধ্যপদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মধ্যপদ শুধুমাত্র আশ্রয়বাক্যেই থাকে এবং সেখান থেকেই সম্বন্ধ স্থাপনের কাজ করে। কাজটি শেষ হলে মধ্যপদ সিদ্ধান্তে আর থাকে না।
(ঘ)
উদ্দীপকে সেলিম, হাসিনা ও ইকবালের মধ্যকার সম্পর্ক সহানুমানের তিনটি পদের (প্রধান পদ, অপ্রধান পদ এবং মধ্যপদ) নির্দেশক। এখানে সেলিমকে প্রধান পদ এবং হাসিনাকে অপ্রধান পদ (অথবা বিপরীতভাবে) এবং ইকবালকে মধ্যপদ হিসেবে ধরা হয়েছে।
সহানুমানে তিনটি পদ থাকে। প্রধান পদটি প্রধান আশ্রয়বাক্য এবং সিদ্ধান্তে থাকে। অপ্রধান পদটি অপ্রধান আশ্রয়বাক্য এবং সিদ্ধান্তে থাকে। মধ্যপদটি দুটি আশ্রয়বাক্যেই থাকে কিন্তু সিদ্ধান্তে থাকে না। প্রধান পদটি প্রথমে মধ্যপদের সাথে যুক্ত হয়, পরে অপ্রধান পদটি মধ্যপদের সাথে যুক্ত হয়। এভাবে মধ্যপদের সাহায্যে দুটি অপরিচিত পদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং এই সম্পর্কটি সিদ্ধান্তে পরিণতি পায়। মধ্যপদ একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, যা ছাড়া দুটি বিচ্ছিন্ন পদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব নয়।
উদ্দীপকের ক্ষেত্রে সেলিম ও হাসিনা দুজন অপরিচিত মানুষ এবং তাদের বাড়ি আলাদা জেলায়। কিন্তু তারা দুজনই ইকবালের বন্ধু। ইকবালের মাধ্যমে তাদের মধ্যে পরিচয় হয় এবং এই পরিচয় একপর্যায়ে বৈবাহিক সম্পর্কে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়াটি সহানুমানের বৈশিষ্ট্যের সাথে হুবহু মিলে যায়। মধ্যপদ যেভাবে প্রধান ও অপ্রধান পদকে এক করে সিদ্ধান্ত স্থাপন করে, ইকবালও তেমনি সেলিম ও হাসিনার মধ্যে একটি স্থায়ী সম্পর্ক তৈরি করে দিয়েছেন। এজন্য ইকবালের কাজকে মধ্যপদের সাথে তুলনা করা যায়।
পরিশেষে বলা যায়, সহানুমানের ক্ষেত্রে এই তিনটি পদের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এদের যেকোনো একটির অনুপস্থিতিতে সহানুমান গঠন সম্ভব নয়।