Facebook Pixel

সুমনের নির্দিষ্ট সময় পর পর কাঁপুনিসহ জ্বর আসে। চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জানালেন RBC তে অণুজীব সংক্রমণের মাধ্যমে এই জ্বর হয়। ক. কায়াজমা কী? খ. অপুংজনি বলতে কী বুঝ? গ. উদ্দীপকের বিশেষ কণিকার পরজীবিটির সংখ্যা বৃদ্ধি প্রক্রিয়া বর্ণনা কর। ঘ. উদ্দীপকের রোগটি কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় তা বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ অণুজীব

উৎস: Test Exam Question CPSCM 2020

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) মিয়োসিস কোষ বিভাজনের সময় নন-সিস্টার ক্রোমাটিডদ্বয়ের মধ্যে অংশের বিনিময়কালে X আকৃতির যে গঠন তৈরি হয়, তাকে কায়াজমা বলে। (খ) যে প্রজনন প্রক্রিয়ায় ডিম্বাণু নিষেক ছাড়াই ভ্রূণ সৃষ্টি করে এবং পূর্ণাঙ্গ জীবে পরিণত হয়, তাকে অপুংজনি বা পার্থেনোজেনেসিস বলে। মৌমাছি, বোলতা, রটিফার ইত্যাদি প্রাণিদেহে এবং স্পাইরোগাইরা, মিউকর, ফার্ন প্রভৃতি উদ্ভিদদেহে এ ধরনের জনন দেখা যায়। অপুংজনি প্রধানত দুই প্রকার: হ্যাপ্লয়েড অপুংজনি ও ডিপ্লয়েড অপুংজনি। (গ) উদ্দীপকের বিশেষ কণিকাটি হলো লোহিত রক্তকণিকা (RBC) এবং পরজীবীটি হলো ম্যালেরিয়া পরজীবী (Plasmodium)। লোহিত রক্তকণিকায় পরজীবীটির সংখ্যা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি নিচে বর্ণনা করা হলো: যকৃত থেকে আসা মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েটগুলো লোহিত রক্তকণিকায় প্রবেশ করে এবং খাদ্য গ্রহণ করে স্ফীত হয়ে ট্রফোজয়েটে পরিণত হয়। ট্রফোজয়েটের অভ্যন্তরে একটি গহ্বর সৃষ্টি হয়ে তা বড় হতে থাকে এবং সাইটোপ্লাজমকে পরিধির দিকে সরিয়ে দেয়, ফলে পরজীবীটিকে পাথর বসানো আংটির মতো দেখায়। একে সিগনেট রিং বলে। পরবর্তীতে পরজীবীটি অনিয়তাকার ও ক্ষণপদযুক্ত অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েটে পরিণত হয়। এ সময় লোহিত রক্তকণিকার সাইটোপ্লাজমে সাফনার্স দানা দেখা যায়। এরপর পরজীবীটির ক্ষণপদ বিলীন হয়ে গোলাকার রূপ ধারণ করে এবং নিউক্লিয়াসটি বহুবার বিভাজিত হয়ে বহু নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট সাইজন্টে পরিণত হয়। পরিণত সাইজন্টে বহুবিভাজন বা সাইজোগনি প্রক্রিয়ায় ১২-১৮টি মেরোজয়েট উৎপন্ন হয়, যা গোলাপের পাপড়ির মতো সাজানো থাকে। একে রোজেন্ট দশা বলে। পরিশেষে লোহিত রক্তকণিকার আবরণ বিদীর্ণ করে মেরোজয়েটগুলো রক্তরসে মুক্ত হয় এবং নতুন লোহিত রক্তকণিকা আক্রমণ করে সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত রাখে। (ঘ) উদ্দীপকের রোগটি হলো ম্যালেরিয়া। এটি মশাবাহিত রোগ হওয়ায় মশা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এর বিস্তার প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিচে এর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বিশ্লেষণ করা হলো: ১. মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস: মশা সাধারণত স্থির পানিতে ডিম পাড়ে। তাই বাড়ির আশেপাশের পরিত্যক্ত ডোবা, নালা, ফুলের টব বা পাত্রে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ঝোপঝাড় ও জঙ্গল পরিষ্কার রাখলে মশার আশ্রয়স্থল নষ্ট হয়। ২. লার্ভা ও পিউপা ধ্বংস: জলাশয়ে জমে থাকা পানিতে কেরোসিন বা পেট্রোল ছিটিয়ে দিলে লার্ভা ও পিউপা অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়। এছাড়া বিএইচসি (BHC) বা ডায়েলড্রিন জাতীয় কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। লার্ভার রূপান্তর রোধে জুভেনাইল হরমোনও কার্যকর। ৩. জৈবিক নিয়ন্ত্রণ: পরিবেশ দূষণ রোধে জলাশয়ে লার্ভিভোরাস মাছ যেমন- গাপ্পি, কই, তেলাপিয়া, পুঁটি ইত্যাদি চাষ করা অত্যন্ত কার্যকর। এই মাছগুলো মশার লার্ভা ও পিউপা ভক্ষণ করে মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করে। ৪. পূর্ণাঙ্গ মশা নিধন: ফগিং মেশিনের সাহায্যে সালফার ডাই-অক্সাইডের ধোঁয়া প্রয়োগ করে পূর্ণাঙ্গ মশা নিধন করা যায়। এছাড়া মশার প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করার জন্য রেডিয়েশন বা রাসায়নিক পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। পরিশেষে, মশা নিধনের এই সমন্বিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের মাধ্যমে ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Cantonment Public School and College Momenshahi (2020)

সুমনের নির্দিষ্ট সময় পর পর কাঁপুনিসহ জ্বর আসে। চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জানালেন RBC তে অণুজীব সংক্রমণের মাধ্যমে এই জ্বর হয়।

ক. কায়াজমা কী?

খ. অপুংজনি বলতে কী বুঝ?

গ. উদ্দীপকের বিশেষ কণিকার পরজীবিটির সংখ্যা বৃদ্ধি প্রক্রিয়া বর্ণনা কর।

ঘ. উদ্দীপকের রোগটি কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় তা বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।