(ক)
সামাজিক সমস্যার একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি সমাজের অধিকাংশ মানুষের জন্য ক্ষতিকর বা অবাঞ্ছিত।
(খ)
জলবায়ু পরিবর্তনের একটি প্রধান কারণ হলো গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ।
জলবায়ু পরিবর্তন বলতে দীর্ঘমেয়াদে আবহাওয়ার গড় অবস্থার পরিবর্তনকে বোঝায়। বর্তমান সময়ে শিল্পায়ন, বন উজাড় এবং জীবাশ্ম জ্বালানির অত্যধিক ব্যবহারের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের মতো গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই গ্যাসগুলো সূর্যের তাপ ধরে রাখে, ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, যাকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলা হয়। এই উষ্ণায়নের ফলেই মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ বেড়ে যায়, যা সামগ্রিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
(গ)
উদ্দীপকে বাল্যবিবাহ নামক সামাজিক সমস্যার ইঙ্গিত রয়েছে।
বাল্যবিবাহ বলতে আইনত বিয়ের ন্যূনতম বয়সের আগে বিয়ে সম্পন্ন করাকে বোঝায়। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়ের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং ছেলের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হয়। এই নির্ধারিত বয়সের আগে যদি কোনো ছেলে বা মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়, তবে তাকে বাল্যবিবাহ বলা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সায়রার বয়স মাত্র পনেরো বছর, যা আইনত বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছরের চেয়ে কম। পরিবারের সম্মতিতে সায়রার এই বিয়ে সম্পন্ন হওয়া একটি সামাজিক কুপ্রথা এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনার মাধ্যমে বাল্যবিবাহ নামক সামাজিক সমস্যার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।
(ঘ)
উদ্দীপকে বর্ণিত বাল্যবিবাহ সমস্যা মোকাবিলায় একজন সমাজকর্মীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন সমাজকর্মী উন্নয়নকর্মী এবং পরিবর্তন প্রতিনিধি হিসেবে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন। তার ভূমিকাগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সচেতনতা বৃদ্ধি: সমাজকর্মী গ্রাম বা মহল্লায় উঠান বৈঠক, সেমিনার এবং প্রচারণার মাধ্যমে বাল্যবিবাহের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক কুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে পারেন।
২. অভিভাবক ও পরিবারের কাউন্সেলিং: ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি প্রয়োগ করে বাল্যবিবাহ দিতে ইচ্ছুক অভিভাবকদের সাথে কথা বলে তাদের বোঝাতে পারেন যে, অল্প বয়সে বিয়ে দিলে মেয়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে এবং শিক্ষার সুযোগ নষ্ট হয়।
৩. স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয়: বাল্যবিবাহের খবর পেলে সমাজকর্মী দ্রুত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ এবং প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে বিয়েটি বন্ধ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
৪. মেয়েদের ক্ষমতায়ন: মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব বুঝিয়ে তাদের স্কুলে ফিরিয়ে আনা এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করতে সাহায্য করতে পারেন, যাতে তারা বিয়ের পরিবর্তে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী হয়।
৫. যুবসমাজ ও কমিউনিটির সম্পৃক্ততা: স্থানীয় যুবসমাজ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে পারেন, যারা এলাকায় বাল্যবিবাহের বিষয়ে নজরদারি করবে।
পরিশেষে বলা যায়, সমাজকর্মী তার পেশাগত দক্ষতা এবং সহায়ক পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করে একটি সুস্থ সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন।