Facebook Pixel

সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ‘P’ নামক রাষ্ট্র স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতা অর্জনের পর গঠিত গণপরিষদ অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংবিধান তৈরি করে। লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় প্রকৃতির এই সংবিধানে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি উল্লেখের পাশাপাশি রাষ্ট্রের জনগণের মৌলিক অধিকার ভোগের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। ক. জলবায়ু পরিবর্তন কী? খ. আগরতলা মামলা বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের ‘P’ রাষ্ট্রের সংবিধানের সাথে তোমার পঠিত কোন রাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত সংবিধানের সাথে "সাদৃশ্যপূর্ণ সংবিধান একটি উত্তম সংবিধান”— মতামত দাও ।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ বাংলাদেশের সংবিধান

উৎস: Board Exam Question ChB 2021

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) জলবায়ু পরিবর্তন বলতে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের বা পৃথিবীর সামগ্রিক জলবায়ুর উপাদানের (যেমন- তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা) দীর্ঘমেয়াদী বা স্থায়ী পরিবর্তনকে বোঝায়, যা সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছর বা তার বেশি সময়ের গড় অবস্থার পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়। (খ) আগরতলা মামলা হলো পাকিস্তান শাসনামলে ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জন বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক দায়েরকৃত একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা। পাকিস্তান সরকারের অভিযোগ ছিল যে, অভিযুক্তরা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় গোপন বৈঠক করে পাকিস্তানকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র করছেন। মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্য এবং বঙ্গবন্ধুকে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। (গ) উদ্দীপকের ‘P’ রাষ্ট্রের সংবিধানের সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশের সংবিধানের প্রণয়ন প্রক্রিয়ার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ‘P’ রাষ্ট্র সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে এবং স্বাধীনতা লাভের পর গঠিত গণপরিষদ দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান প্রণয়ন করেছে, যেখানে মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আমরা দেখি, ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে গণপরিষদ কর্তৃক বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়, যা একটি লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান। এই সংবিধানে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি নির্ধারণের পাশাপাশি নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকের ‘P’ রাষ্ট্রটি মূলত বাংলাদেশেরই প্রতিফলন এবং এর সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ার সাথে বাংলাদেশের সংবিধানের হুবহু মিল রয়েছে। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লেখিত সংবিধানের বৈশিষ্ট্যসমূহ, যেমন লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় প্রকৃতি এবং মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা, একটি উত্তম সংবিধানের প্রধান লক্ষণ। আমার মতে, এই সাদৃশ্যপূর্ণ সংবিধান একটি উত্তম সংবিধান, কারণ এটি রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। প্রথমত, লিখিত সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট দলিল হিসেবে কাজ করে, যা সরকারের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষমতা ও পরিধি স্পষ্ট করে দেয়। এর ফলে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায়। দ্বিতীয়ত, দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান হুট করে বা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ রাখে না, যা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। তৃতীয়ত, উদ্দীপকের সংবিধানে জনগণের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রাণ। মৌলিক অধিকার ছাড়া নাগরিকের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষা করা অসম্ভব। বাংলাদেশের সংবিধানও এই বৈশিষ্ট্যগুলোর আলোকে প্রণীত হয়েছে, যা আমাদের রাষ্ট্রকে একটি গণতান্ত্রিক কাঠামোয় পরিচালিত করতে সাহায্য করছে। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের সংবিধানের মতো লিখিত, দুষ্পরিবর্তনীয় এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকারী সংবিধান একটি উত্তম সংবিধানের সকল গুণাবলি ধারণ করে, যা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সুশাসন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে অপরিহার্য।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenChattogram Board (2021)

সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ‘P’ নামক রাষ্ট্র স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতা অর্জনের পর গঠিত গণপরিষদ অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংবিধান তৈরি করে। লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় প্রকৃতির এই সংবিধানে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি উল্লেখের পাশাপাশি রাষ্ট্রের জনগণের মৌলিক অধিকার ভোগের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।

ক. জলবায়ু পরিবর্তন কী?

খ. আগরতলা মামলা বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকের ‘P’ রাষ্ট্রের সংবিধানের সাথে তোমার পঠিত কোন রাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়নের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত সংবিধানের সাথে "সাদৃশ্যপূর্ণ সংবিধান একটি উত্তম সংবিধান”— মতামত দাও ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

‘B’ রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ স্বাধীনতা অর্জনের পরবর্তী এক বছরের মধ্যে একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনী...

P' দেশের সংবিধান গণপরিষদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সংবিধানটির প্রকৃতি হল লিখিত ও দূষ্পরিবর্তনীয়। এ সংবিধানে মৌলিক অধি...

'X' রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি মাত্র নয় মাসের মধ্যে রাষ্ট্রকে একট...

'X' রাষ্ট্রের একটি অঞ্চল স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই আশা করছিল তাদের অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন সাধিত হবে। কিন্তু তারা শাসক ...

'X' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি সংবিধান প্রণয়ন করে। সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন...

অধ্যাপক আফরোজা আক্তার শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে গিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশের সংবিধান লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয়। ইচ্ছে করলেই সংবিধ...

অনন্তপুর ও গইয়াতলা গ্রামের শিক্ষিত বেকার যুবকেরা অর্থনৈতিকভাবে নিজেদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়...

উক্ত '?' চিহ্নিত স্থানে স্থাপিত বিষয়টি রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হলে—

উক্ত বিষয়টি রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হলে- i. জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে ii. স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে iii. জনমতের গুরুত্ব ব...

উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও: "Y" একটি সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত রাষ্ট্র। স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।