Facebook Pixel

'X' রাষ্ট্রের একটি অঞ্চল স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই আশা করছিল তাদের অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন সাধিত হবে। কিন্তু তারা শাসক শ্রেণির শোষণের শিকার হয়। এক পর্যায়ে তাদের এক সম্মোহনী নেতা একটি কর্মসূচি পেশ করেন। যাতে তাঁর অঞ্চলের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, স্বাধিকারের কথা বলা হয়। পরবর্তীতে এই নেতার মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের আবির্ভাব হয়। স্বাধীনতা অর্জনের এক বছরের মধ্যেই তিনি জাতিকে একটি লিখিত সুস্পষ্ট নীতিমালা উপহার দেন যার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। ক. মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কতটি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়? খ. রাষ্ট্রপ্রদত্ত সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করো। গ. লিখিত সুস্পষ্ট নীতিমালা দ্বারা তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়কে বোঝানো হয়েছে? এর বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত কর্মসূচি ছিল সমগ্র বাঙালির বাঁচার দাবি-বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ বাংলাদেশের সংবিধান

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে মোট ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল। (খ) রাষ্ট্রপ্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা বলতে মূলত নাগরিকের মৌলিক অধিকারকে বোঝায়। রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ এবং সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য যে সকল অধিকার অপরিহার্য এবং রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত, সেগুলোকে মৌলিক অধিকার বলা হয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবিধানের মাধ্যমে এই অধিকারগুলো নিশ্চিত করা হয়, যাতে কোনো নাগরিক রাষ্ট্র বা অন্য কারো দ্বারা শোষিত না হয়। (গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত 'লিখিত সুস্পষ্ট নীতিমালা' দ্বারা বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধানকে বোঝানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জনের এক বছরের কম সময়ের মধ্যে ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে এই সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। ১৯৭২ সালের সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. লিখিত ও সংক্ষিপ্ত দলিল: এটি একটি লিখিত দলিল, যা ১৫৩টি অনুচ্ছেদ, ১১টি ভাগ, একটি প্রস্তাবনা ও চারটি তফসিল নিয়ে গঠিত। ২. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি: সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ৩. সংসদীয় গণতন্ত্র: এতে সংসদীয় বা মন্ত্রীপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে। ৪. মৌলিক অধিকার: নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে এবং তা বলবৎ করার বিধান রাখা হয়েছে। ৫. এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র: বাংলাদেশকে একটি এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ৬. জনগণের সার্বভৌমত্ব: সংবিধানে সকল ক্ষমতার উৎস হিসেবে জনগণের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লেখিত কর্মসূচিটি ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ 'ছয় দফা'। উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বিরোধী দলীয় সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করেন, যা ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে বাঙালির বাঁচার দাবি। ছয় দফার গুরুত্ব ও যৌক্তিকতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. অর্থনৈতিক মুক্তি: ছয় দফার মূল লক্ষ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক শোষণ বন্ধ করা। পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে যে চরম বৈষম্য ছিল, তা দূর করে পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদের ওপর বাঙালির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি ছিল এতে। ২. স্বাধিকারের দাবি: ছয় দফার মাধ্যমে বাঙালিরা স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানায়। এটি ছিল পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ কাঠামোয় বাঙালির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অধিকার আদায়ের প্রথম সুসংগঠিত প্রচেষ্টা। ৩. স্বাধীনতার সোপান: ছয় দফা আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে। পাকিস্তান সরকার এই দাবিকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে গণ্য করলেও জনগণ একে সাদরে গ্রহণ করে। এই আন্দোলনের পথ ধরেই ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। পরিশেষে বলা যায়, ছয় দফা ছিল বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শোষণের শৃঙ্খল ভাঙার হাতিয়ার। এটি কেবল স্বায়ত্তশাসনের দাবি ছিল না, বরং এটি ছিল একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি। তাই ছয় দফাকে যথার্থই বাঙালির বাঁচার দাবি বা মুক্তির সনদ বলা হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

'X' রাষ্ট্রের একটি অঞ্চল স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই আশা করছিল তাদের অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন সাধিত হবে। কিন্তু তারা শাসক শ্রেণির শোষণের শিকার হয়। এক পর্যায়ে তাদের এক সম্মোহনী নেতা একটি কর্মসূচি পেশ করেন। যাতে তাঁর অঞ্চলের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, স্বাধিকারের কথা বলা হয়। পরবর্তীতে এই নেতার মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের আবির্ভাব হয়। স্বাধীনতা অর্জনের এক বছরের মধ্যেই তিনি জাতিকে একটি লিখিত সুস্পষ্ট নীতিমালা উপহার দেন যার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।

ক. মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কতটি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়?

খ. রাষ্ট্রপ্রদত্ত সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করো।

গ. লিখিত সুস্পষ্ট নীতিমালা দ্বারা তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়কে বোঝানো হয়েছে? এর বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত কর্মসূচি ছিল সমগ্র বাঙালির বাঁচার দাবি-বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

‘B’ রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ স্বাধীনতা অর্জনের পরবর্তী এক বছরের মধ্যে একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনী...

P' দেশের সংবিধান গণপরিষদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সংবিধানটির প্রকৃতি হল লিখিত ও দূষ্পরিবর্তনীয়। এ সংবিধানে মৌলিক অধি...

'X' রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি মাত্র নয় মাসের মধ্যে রাষ্ট্রকে একট...

'X' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি সংবিধান প্রণয়ন করে। সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন...

অধ্যাপক আফরোজা আক্তার শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে গিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশের সংবিধান লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয়। ইচ্ছে করলেই সংবিধ...

অনন্তপুর ও গইয়াতলা গ্রামের শিক্ষিত বেকার যুবকেরা অর্থনৈতিকভাবে নিজেদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়...

উক্ত '?' চিহ্নিত স্থানে স্থাপিত বিষয়টি রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হলে—

উক্ত বিষয়টি রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হলে- i. জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে ii. স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে iii. জনমতের গুরুত্ব ব...

উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও: "Y" একটি সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত রাষ্ট্র। স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দ...

উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও: "Y" একটি সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত রাষ্ট্র। স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।