Facebook Pixel

সর্বধর্ম মতবাদের প্রবক্তা শ্রী আনন্দ স্বামী। তিনি অষ্টাদশ শতাব্দীতে ত্রিপুরা জেলার সরাইল পরগনার কালিশ্ব গ্রামে এক কৌলীন জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জমিদারের দায়িত্ব পালনকালে প্রজাদের ধর্মভিত্তিক বিভাজন ও আন্তঃধর্মবিবাদ তাঁকে চিন্তামগ্ন করে তোলে। ধর্ম নিয়ে হত্যা, হানাহানি, রক্তপাত নিরসন ও শান্তিপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি ইসলাম, সনাতন ও খ্রিষ্টধর্মের সমন্বয়ে 'সর্বধর্ম' মতবাদ প্রবর্তন করতে সক্রিয় হন। তার এ সর্বধর্ম মতবাদে প্রকৃত মানবতার আহ্বান থাকলেও তিনি ধর্মভীরু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেননি। তবে এর মাধ্যমে তিনি সকল শ্রেণির মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন। ক. 'মনসব' শব্দের অর্থ কী? খ. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সম্পর্কে একটি টীকা লেখ। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আনন্দ স্বামীর সাথে কোন মুঘল সম্রাটের নীতির সাদৃশ্য পাওয়া যায়? উক্ত নীতির মতবাদসমূহ ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত নীতির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ভারত উপমহাদেশে মুঘল শাসন

উৎস: Board Exam Question MSB 2025, Board Exam Question DiB 2025, Board Exam Question Combined 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) মনসব শব্দের অর্থ মর্যাদা বা সম্মান। (খ) পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ ছিল মুঘল সম্রাট আকবর এবং হিন্দু সেনাপতি হিমুর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংঘাত। ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ৫ নভেম্বর এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। হিমুর বিশাল সেনাবাহিনী ও হস্তীবাহিনী থাকা সত্ত্বেও আকবর ও বৈরামখানের দৃঢ় সংকল্পের সামনে তারা টিকতে পারেনি। যুদ্ধের এক পর্যায়ে হিমুর চোখে তীরবিদ্ধ হওয়ায় তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন, ফলে তার সেনাবাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং মুঘলরা বিজয়ী হয়। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত আনন্দ স্বামীর সাথে মুঘল সম্রাট আকবরের ধর্মনীতি তথা 'দ্বীন-ই-ইলাহি'র সাদৃশ্য পাওয়া যায়। উদ্দীপকের শ্রী আনন্দ স্বামী ইসলাম, সনাতন ও খ্রিষ্টধর্মের সমন্বয়ে 'সর্বধর্ম' মতবাদ প্রবর্তন করেন যাতে ধর্মীয় বিভেদ ও রক্তপাত নিরসন করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়। একইভাবে সম্রাট আকবর ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে বিভিন্ন ধর্মের উৎকৃষ্ট নীতিগুলোর সমন্বয়ে 'দ্বীন-ই-ইলাহি' প্রবর্তন করেন, যা ছিল একটি উদার সর্বেশ্বরবাদী ধর্মমত। দ্বীন-ই-ইলাহির মূলনীতিসমূহ ছিল নিম্নরূপ: ১. এর নির্দিষ্ট কালেমা ছিল 'লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহু ওয়া আকবারু খলিফাতুল্লাহ'। ২. অনুসারীরা একে অপরকে 'আল্লাহু আকবর' বলে সম্ভাষণ জানাত এবং উত্তরে বলা হতো 'জাল্লেজালালুহু'। ৩. আগুনকে পবিত্র বলে সম্মান করা হতো। ৪. অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। ৫. আমিষ ভোজন, বিশেষ করে মাংস ভক্ষণ থেকে বিরত থাকতে বলা হতো। ৬. জন্মদিন উদযাপন এবং দান-খয়রাতের মাধ্যমে আপ্যায়নের রীতি ছিল। ৭. মৃত্যুর পূর্বেই কল্যাণের জন্য ভোজের আয়োজন করা হতো। ৮. ভিক্ষা দেওয়া গেলেও গ্রহণ করা নিষিদ্ধ ছিল। ৯. নিম্ন শ্রেণির পেশার লোকদের বর্জন করার কথা বলা হয়েছিল। (ঘ) সম্রাট আকবরের দ্বীন-ই-ইলাহি মতবাদটি মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত হয়েছিল, যার তাৎপর্য অপরিসীম। আকবর জানতেন যে, ভারতে মুঘল শাসনের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হলে বিশাল হিন্দু জনসংখ্যার সমর্থন এবং মুসলিম-হিন্দুদের মধ্যে ঐক্য প্রয়োজন। তাই তিনি কেবল ধর্মীয় কারণে নয়, বরং রাজনৈতিক সংহতি স্থাপনের লক্ষ্যে এই উদার নীতি গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে তিনি রাজপুতদের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করেন এবং সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সংঘাত হ্রাস করার চেষ্টা করেন। যদিও দ্বীন-ই-ইলাহি একটি স্বতন্ত্র ধর্ম হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়নি এবং অনেক রক্ষণশীল মুসলিম ও হিন্দু একে গ্রহণ করেননি, তবুও এর মাধ্যমে আকবর এক সমন্বিত জাতীয় রাজনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তার এই নীতি প্রমাণ করে যে, তিনি ক্ষমতা সুসংহত করার জন্য ধর্মীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে এক সর্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছিলেন। সুতরাং, দ্বীন-ই-ইলাহি কেবল একটি ধর্মমত ছিল না, বরং এটি ছিল মুঘল সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক ঐক্য ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenMymensingh Board (2025)Dinajpur Board (2025)Combined Board (2025)

সর্বধর্ম মতবাদের প্রবক্তা শ্রী আনন্দ স্বামী। তিনি অষ্টাদশ শতাব্দীতে ত্রিপুরা জেলার সরাইল পরগনার কালিশ্ব গ্রামে এক কৌলীন জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জমিদারের দায়িত্ব পালনকালে প্রজাদের ধর্মভিত্তিক বিভাজন ও আন্তঃধর্মবিবাদ তাঁকে চিন্তামগ্ন করে তোলে। ধর্ম নিয়ে হত্যা, হানাহানি, রক্তপাত নিরসন ও শান্তিপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি ইসলাম, সনাতন ও খ্রিষ্টধর্মের সমন্বয়ে 'সর্বধর্ম' মতবাদ প্রবর্তন করতে সক্রিয় হন। তার এ সর্বধর্ম মতবাদে প্রকৃত মানবতার আহ্বান থাকলেও তিনি ধর্মভীরু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেননি। তবে এর মাধ্যমে তিনি সকল শ্রেণির মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন। ক. 'মনসব' শব্দের অর্থ কী? খ. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সম্পর্কে একটি টীকা লেখ। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আনন্দ স্বামীর সাথে কোন মুঘল সম্রাটের নীতির সাদৃশ্য পাওয়া যায়? উক্ত নীতির মতবাদসমূহ ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত নীতির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আজম খান পৈতৃক সূত্রে একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলের অধিপতি ছিলেন। কিন্তু নিকট আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রের কারণে ঐ রাজ্য তার হাতছাড়া হয...

আশরাফ চৌধুরী পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলের অধিপতি ছিলেন। কিন্তু নিকট আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রের কারণে ঐ রাজ্য তার ...

আশরাফ চৌধুরী পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলের অধিপতি ছিলেন। কিন্তু নিকট আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রের কারণে ঐ রাজ্য তার হ...

ইতিহাসে যুদ্ধে প্রথম কামান ব্যবহার করেন কে?

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও: মধ্যগড়ের রাজা ভূমি সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রজাদের জমির মালিকানা সত্ব স্বীকার করে তাদের ...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও: মধ্যগড়ের রাজা ভূমি সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রজাদের জমির মালিকানা সত্ব স্বীকার করে তাদের ...

উসমানের পূর্ব পুরুষরা গোবি মরুভূমির একটি ক্ষুদ্র রাজ্যের শাসক ছিলেন। যেখানে শত্রুপক্ষের শক্তির কারণে সুবিধা করতে না পেরে...

এক মুঘল সম্রাটের নামের অর্থ ছিল সৌভাগ্যবান। সম্রাট হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি প্রথম জীবনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ...

এক সাম্রাজ্যের শাসক তার জ্যেষ্ঠপুত্রকে অধিক ভালোবাসতেন। তার কনিষ্ঠ পুত্র শিক্ষাদীক্ষা, জ্ঞান-গরিমায জ্যেষ্ঠপুত্র অপেক্ষা...

একটি ছোট রাজ্যের রাজার মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে ফাহমিদ সিংহাসনে বসেন। ফাহমিদ অল্প বয়সী ও অনভিজ্ঞ হওয়ার কারণে নিকটাত্মীয় ও ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।