Facebook Pixel

সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে একটি সংগঠন কাজ করে। এই সংস্থার সদস্যবৃন্দ জনগণ দ্বারা নির্বাচিত নয়। তারা নির্দিষ্ট মেয়াদে স্থায়িভাবে দায়িত্ব পালন করে। ক. জনসেবা কী? খ. 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' কী? বর্ণনা কর। গ. উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সংগঠনটির কার্যক্রম ব্যাখ্যা কর। ঘ. রাষ্ট্রের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সংগঠনটির ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৯ঃ জনসেবা ও আমলাতন্ত্র

উৎস: Test Exam Question BAFSCC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) জনসেবা হলো রাষ্ট্রের বা সরকারের এমন এক কার্যক্রম, যা জনগণের কল্যাণ সাধন, অধিকার রক্ষা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। (খ) 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' বলতে প্রশাসনিক কাজে অহেতুক আনুষ্ঠানিকতা, নিয়মনীতির কঠোরতা এবং দীর্ঘসূত্রতাকে বোঝায়। সপ্তদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে সরকারি ফাইলগুলো লাল রঙের ফিতায় বেঁধে রাখা হতো, যা বর্তমানে প্রশাসনিক জটিলতা, নিয়মের কড়াকড়িতে কাজ থমকে থাকা বা অহেতুক সময়ক্ষেপণের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে সেবাগ্রহীতারা হয়রানির শিকার হন এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় না। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত সংগঠনটি হলো আমলাতন্ত্র। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সংগঠনটি সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করে, এর সদস্যরা জনগণ দ্বারা নির্বাচিত নন এবং তারা নির্দিষ্ট মেয়াদে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করেন। এই বৈশিষ্ট্যগুলো আমলাতন্ত্রের সাথে হুবহু মিলে যায়। আমলাতন্ত্রের কার্যক্রম নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. সরকারি নীতি ও আইন বাস্তবায়ন: আমলারা সরকারের গৃহীত নীতি ও আইনসমূহ বাস্তবে কার্যকর করার প্রধান দায়িত্ব পালন করেন। ২. আইন প্রণয়নে সহায়তা: আইনসভা আইনের মূল কাঠামো তৈরি করলেও, এর খুঁটিনাটি ও প্রয়োগিক দিকগুলো আমলারা নির্ধারণ করেন। ৩. প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষা: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তিত হলেও আমলারা স্থায়ী কর্মকর্তা হিসেবে প্রশাসনিক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। ৪. বিচারসংক্রান্ত কাজ: বিভাগীয় ট্রাইব্যুনাল বা নির্দিষ্ট আইন অনুযায়ী আমলারা অনেক ক্ষেত্রে বিরোধ মীমাংসা ও বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন। ৫. উন্নয়নমূলক কাজ: কৃষি, শিক্ষা, যোগাযোগ ও শিল্প খাতের উন্নয়নে আমলারা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। (ঘ) রাষ্ট্রের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমলাতন্ত্রের ভূমিকা অপরিসীম। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক নীতিনির্ধারকদের পরামর্শ প্রদান ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমলাতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমলাতন্ত্রের ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: আমলাতন্ত্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে প্রশাসনিক দুর্নীতি হ্রাস পায়, যা সুশাসনের অন্যতম শর্ত। ২. নিরপেক্ষতা বজায় রাখা: রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করলে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী হয়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক। ৩. উন্নয়নমূলক কার্যাবলি: আমলারা রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক প্রকল্পসমূহ সঠিক সময়ে ও দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করার মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করেন। ৪. তথ্য সরবরাহ ও পরামর্শদান: নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে আমলারা সঠিক তথ্য ও নিরপেক্ষ পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে সরকারকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেন। পরিশেষে বলা যায়, আমলাতন্ত্র যদি পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা এবং স্বচ্ছতার সাথে কাজ করে, তবেই রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব। আমলাতন্ত্রের বলিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল ভূমিকাই একটি কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - BAF Shaheen College, Chattogram (2026)

সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে একটি সংগঠন কাজ করে। এই সংস্থার সদস্যবৃন্দ জনগণ দ্বারা নির্বাচিত নয়। তারা নির্দিষ্ট মেয়াদে স্থায়িভাবে দায়িত্ব পালন করে।

ক. জনসেবা কী?

খ. 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' কী? বর্ণনা কর।

গ. উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সংগঠনটির কার্যক্রম ব্যাখ্যা কর।

ঘ. রাষ্ট্রের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সংগঠনটির ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।