Facebook Pixel

সরকারের নির্দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত বাজার পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখেন, জিনিসপত্র চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে। চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার বাইরে। বিষয়টি সরকারের গোচরীভূত হলে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য তালিকা নির্ধারণ করে নির্ধারিত দামে বিক্রির নির্দেশ দেয়। এছাড়া পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এসব পণ্যের রপ্তানি নিষিদ্ধ করে এবং মজুতদারী বন্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ক. মালিক কাফুর কে ছিলেন? খ. সুলতান রাজিয়া সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত মূল্য তালিকা ভারতের কোন শাসকের মূল্য তালিকার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সাথে উক্ত শাসকের গৃহীত পদক্ষেপসমূহের বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ দিল্লি সুলতানাত যুগ (১২০৬-১৫২৬খ্রি.)

উৎস: Test Exam Question DC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) মালিক কাফুর ছিলেন সুলতান আলাউদ্দিন খলজির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি। (খ) সুলতান রাজিয়া ছিলেন দিল্লির সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা সুলতান ইলতুৎমিশের সুযোগ্য কন্যা এবং ভারতের প্রথম নারী শাসক। সুলতান রাজিয়াকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী নির্বাচন করে সুলতান ইলতুৎমিশ একটি যুগোত্তীর্ণ ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। তবে উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি একটি বিশৃঙ্খল ও গোলযোগপূর্ণ শাসনব্যবস্থা লাভ করেছিলেন, কারণ তুর্কি আমিরেরা নারী শাসন অস্বীকার করে তাদের মনোনীত প্রার্থী রুকনউদ্দিন ফিরোজকে সিংহাসনে বসাতে উদ্ধত ছিল। অবশেষে দিল্লি জনসাধারণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সুলতান রাজিয়া সিংহাসনে আরোহণ করতে সক্ষম হলেও ৪ বছর পরে বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হন। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত মূল্য তালিকা সুলতান আলাউদ্দিন খলজির মূল্য তালিকার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। দ্রব্যমূল্য প্রজাসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং স্বল্পমূল্যে বিশাল সেনাবাহিনী পোষণের জন্য সুলতান আলাউদ্দিন খলজি কঠোর দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ নীতি গ্রহণ করেছিলেন। এই লক্ষ্যে তিনি প্রতিটি দ্রব্যের নির্দিষ্ট মূল্য ধার্য করে দিয়েছিলেন যাতে ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফায় পণ্য বিক্রি করতে না পারে। আলাউদ্দিন খলজির মূল্যনিয়ন্ত্রণ নীতির আওতায় নির্ধারিত কয়েকটি দ্রব্যের মূল্য তালিকা নিম্নরূপ: দ্রব্যের নাম পরিমাণ নির্ধারিত মূল্য গম প্রতি মণ ৭ ১/২ জিতল মোথ প্রতি মণ ৩ জিতল বার্লি প্রতি মণ ৪ জিতল চাল প্রতি মণ ৫ জিতল শিম প্রতি মণ ৫ জিতল ডাল প্রতি মণ ৫ জিতল লবণ ২ ১/২ মণ ৫ জিতল চিনি প্রতি সের ১ ১/২ জিতল চিনি (লাল) প্রতি সের ১/৪ জিতল মাখন ২ ১/২ সের ১ জিতল ঘি ২ ১/২ সের ১ জিতল তেল ৩ সের ১ জিতল (দ্রষ্টব্য: তাম্রমুদ্রাকে জিতল বলা হয়। ১ জিতল = প্রায় ১ আনা বা ছয় পয়সা) এছাড়া প্রথম শ্রেণির ঘোড়ার মূল্য ছিল ১২০ টঙ্কা, দ্বিতীয় শ্রেণির ৯০ টঙ্কা, তৃতীয় শ্রেণির ৭০ টঙ্কা এবং ছোট টাট্টু ঘোড়ার মূল্য ছিল ১০-২০ টঙ্কা। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের মতো সুলতান আলাউদ্দিন খলজি নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি দ্রব্যের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। (ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর সাথে সুলতান আলাউদ্দিন খলজির গৃহীত পদক্ষেপসমূহের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। সুলতান আলাউদ্দিন খলজি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছিলেন তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. নিবন্ধন ব্যবস্থা: সুলতান প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে সরকারি রেজিস্ট্রি খাতায় নাম নিবন্ধন করিয়েছিলেন, যাতে বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সহজ হয়। ২. শাহানা-ই-মান্ডি নিয়োগ: ব্যবসায়ীরা যাতে নির্ধারিত মূল্যের অধিক মূল্য নিতে না পারে এবং পরিমাপে কম না দেয়, তা কঠোরভাবে পরিদর্শনের জন্য 'শাহানা-ই-মান্ডি' নামক রাজকর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছিল। ৩. সরকারি গুদামঘর স্থাপন: সুলতান প্রত্যেক কৃষক ও ব্যবসায়ীকে ১০ মণের অধিক ফসল নির্দিষ্ট মূল্যে সরকারি গুদামঘরে জমাদানের নির্দেশ দেন, যাতে দুর্ভিক্ষের সময় সেখান থেকে শস্য বণ্টন করা যায় এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়। ৪. কঠোর তদারকি ও সচেতনতা: প্রতিটি দ্রব্যের মূল্য নির্ধারিত থাকায় জনগণ সচেতন হয়ে নির্ধারিত মূল্যে পণ্য ক্রয় করত, ফলে মজুতদারদের প্রভাব হ্রাস পায়। এই অভিনব মূল্যনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ফলে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ছিল এবং সুলতান স্বল্পমূল্যে অধিক সংখ্যক সৈন্য পোষণ করে মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত মূল্য তালিকা নির্ধারণ, রপ্তানি নিষিদ্ধকরণ এবং মজুতদারী বন্ধের পদক্ষেপগুলো সুলতান আলাউদ্দিন খলজির মূল্যনিয়ন্ত্রণ নীতিরই প্রতিফলন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Dhaka College (2026)

সরকারের নির্দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত বাজার পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখেন, জিনিসপত্র চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে। চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার বাইরে। বিষয়টি সরকারের গোচরীভূত হলে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য তালিকা নির্ধারণ করে নির্ধারিত দামে বিক্রির নির্দেশ দেয়। এছাড়া পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এসব পণ্যের রপ্তানি নিষিদ্ধ করে এবং মজুতদারী বন্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ক. মালিক কাফুর কে ছিলেন? খ. সুলতান রাজিয়া সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত মূল্য তালিকা ভারতের কোন শাসকের মূল্য তালিকার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সাথে উক্ত শাসকের গৃহীত পদক্ষেপসমূহের বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

M একজন ক্রীতদাস হওয়া সত্ত্বেও তার যোগ্যতা ও প্রতিভা দিয়ে প্রভুর মন জয় করেন। বিচক্ষণ এ রাজনীতিবিদ প্রভুর মৃত্যুর পর এক...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাবার পর্যাপ্ত সময় ...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময়...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময়...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাবার পর্যাপ্ত সময় ...

'আইবেক' শব্দের অর্থ কী?

আলাউদ্দিন খলজির শাসনব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল-

আলী ইমাম খুবই বুদ্ধিমান ও সুন্দর দেহের অধিকারী ছিলেন। তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও সৌন্দর্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে তার ভ্রাতাগণ তাকে ক্রী...

ইলতুৎমিশ দাস রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন-ব্যাখ্যা কর।

ইলতুৎমিশকে দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলার কারণ তিনি-

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।