Facebook Pixel

সরকারের নির্দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত বাজার পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি করে বিক্রি করছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পণ্যের নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করা হয় এবং মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ক. দিল্লি সালতানাতে কয়টি বংশ শাসন করেছিল? খ. খিজির খান কীভাবে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত বাজার ব্যবস্থার সাথে তোমার পঠিত কোন শাসকের গৃহীত ব্যবস্থার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্ত শাসকের মূল্য নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যাখ্যা কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ দিল্লি সুলতানাত যুগ (১২০৬-১৫২৬খ্রি.)

উৎস: Test Exam Question SGWC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) দিল্লি সালতানাতে মোট ৫টি বংশ শাসন করেছিল। (খ) তুঘলক বংশের শেষ দিকের সুলতান ফিরোজশাহ তুঘলকের উত্তরাধিকারীরা অত্যন্ত দুর্বল ছিলেন। তারা অভিজাতদের হাতের পুতুলে পরিণত হওয়ায় রাজদরবারে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। এই সুযোগে সৈয়দ বংশের উত্থান ঘটে। এছাড়া তৈমুরের ভয়াবহ আক্রমণের ফলে ভারতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং দিল্লি সুলতান শূন্য হয়ে পড়ে। এই অরাজক পরিস্থিতির মাঝে তৈমুরের প্রতিনিধি হিসেবে খিজির খান দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং সৈয়দ বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত বাজার ব্যবস্থার সাথে আমার পঠিত সুলতান আলাউদ্দিন খলজির গৃহীত ব্যবস্থার মিল রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, ভ্রাম্যমাণ আদালত বাজার পরিদর্শনে গিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে, পণ্যের নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করে এবং মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এই কর্মকাণ্ডগুলো সুলতান আলাউদ্দিন খলজির বাজার নিয়ন্ত্রণ নীতির প্রতিফলন। আলাউদ্দিন খলজি দ্রব্যমূল্য প্রজাসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং স্বল্পমূল্যে বিশাল সেনাবাহিনী পোষণের জন্য কঠোর মূল্যনিয়ন্ত্রণ নীতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের নির্দিষ্ট মূল্য ধার্য করে দিয়েছিলেন যাতে ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা করতে না পারে এবং মজুতদারদের কঠোরভাবে দমন করেছিলেন। সুতরাং, উদ্দীপকের বাজার ব্যবস্থার সাথে সুলতান আলাউদ্দিন খলজির গৃহীত ব্যবস্থার মিল রয়েছে। (ঘ) পাঠ্যবইয়ের আলোকে সুলতান আলাউদ্দিন খলজির মূল্য নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত কঠোর এবং সুসংগঠিত। তাঁর এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য ছিল স্বল্পমূল্যে বিশাল সেনাবাহিনী রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখা। মূল্য নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ: ১. নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ: তিনি প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট মূল্য ধার্য করেছিলেন। এর ফলে বাজারে পণ্যের দামের অস্থিতিশীলতা দূর হয় এবং সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনতে পারে। ২. শাহানা-ই-মান্ডি নিয়োগ: বাজার তদারকির জন্য তিনি 'শাহানা-ই-মান্ডি' নামক রাজকর্মচারী নিয়োগ করেছিলেন। তারা নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করতেন এবং কোনো ব্যবসায়ী নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নিলে বা পরিমাপে কম দিলে তাকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হতো। ৩. নিবন্ধন ও তদারকি: সকল ব্যবসায়ীকে সরকারি রেজিস্ট্রি খাতায় নাম নিবন্ধন করতে হতো, যার ফলে অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়েছিল। ৪. সরকারি গুদামঘর: তিনি কৃষকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট মূল্যে শস্য সংগ্রহ করে সরকারি গুদামে জমা রাখতেন, যাতে দুর্ভিক্ষের সময় তা সাধারণ মানুষের মাঝে বণ্টন করা যায় এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়। আলাউদ্দিন খলজির মূল্যনিয়ন্ত্রণ নীতির আওতায় নির্ধারিত কয়েকটি দ্রব্যের মূল্য তালিকা নিচে দেওয়া হলো: দ্রব্যের নাম পরিমাণ নির্ধারিত মূল্য গম প্রতি মণ ৭ ১/২ জিতল মথ প্রতি মণ ৩ জিতল বার্লি প্রতি মণ ৪ জিতল চাল প্রতি মণ ৫ জিতল শিম প্রতি মণ ৫ জিতল ডাল প্রতি মণ ৫ জিতল লবণ ২ ১/২ মণ ৫ জিতল চিনি প্রতি সের ১ ১/২ জিতল চিনি (লাল) প্রতি সের ১/৮ জিতল মাখন ২ ১/২ সের ১ জিতল ঘি ২ ১/২ সের ১ জিতল তেল ৩ সের ১ জিতল (দ্রষ্টব্য: তাম্রমুদ্রাকে জিতল বলা হয়। ১ জিতল = প্রায় ১ আনা বা ছয় পয়সা। এছাড়া ঘোড়ার মূল্য ছিল শ্রেণিভেদে ১২০, ৯০, ৭০ এবং ১০-২০ টঙ্কা।) পরিশেষে বলা যায়, আলাউদ্দিন খলজির এই মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত, যার ফলে তিনি স্বল্পমূল্যে অধিক সৈন্য পোষণ করে মোঙ্গল আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং প্রজাদের জীবন সহজ করেছিলেন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Sylhet Govt. Women’s College (2026)

সরকারের নির্দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত বাজার পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি করে বিক্রি করছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পণ্যের নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করা হয় এবং মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ক. দিল্লি সালতানাতে কয়টি বংশ শাসন করেছিল? খ. খিজির খান কীভাবে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত বাজার ব্যবস্থার সাথে তোমার পঠিত কোন শাসকের গৃহীত ব্যবস্থার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্ত শাসকের মূল্য নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যাখ্যা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

M একজন ক্রীতদাস হওয়া সত্ত্বেও তার যোগ্যতা ও প্রতিভা দিয়ে প্রভুর মন জয় করেন। বিচক্ষণ এ রাজনীতিবিদ প্রভুর মৃত্যুর পর এক...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাবার পর্যাপ্ত সময় ...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময়...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময়...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাবার পর্যাপ্ত সময় ...

'আইবেক' শব্দের অর্থ কী?

আলাউদ্দিন খলজির শাসনব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল-

আলী ইমাম খুবই বুদ্ধিমান ও সুন্দর দেহের অধিকারী ছিলেন। তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও সৌন্দর্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে তার ভ্রাতাগণ তাকে ক্রী...

ইলতুৎমিশ দাস রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন-ব্যাখ্যা কর।

ইলতুৎমিশকে দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলার কারণ তিনি-

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।