Facebook Pixel

সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার সাথে সংগতি রেখে সংবিধানে সংশোধনী আনয়ন করা হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের একটি সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদকে নিয়মতান্ত্রিক করা হয় এবং উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করা হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী প্রকৃত নির্বাহী হয়ে উঠেন। ক. সংবিধান কী? খ. বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি 'সমাজতন্ত্র' সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সংশোধনীটি সংবিধানের কততম সংশোধনী? এ সম্পর্কে আলোচনা কর। ঘ. "উক্ত সংশোধনীটি বাংলাদেশের সরকার ও শাসনব্যবস্থায় আমল পরিবর্তন সাধন করেছে" উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ বাংলাদেশের সংবিধান

উৎস: Test Exam Question DRMC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) সংবিধান হলো একটি রাষ্ট্রের পরিচালনার সর্বোচ্চ আইন বা দলিল, যা রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা, নাগরিকদের অধিকার এবং সরকারের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষমতা ও কার্যাবলি নির্ধারণ করে। (খ) বাংলাদেশের সংবিধানের ১০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সমাজতন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের ওপর মানুষের শোষণ থেকে মুক্ত একটি ন্যায়ানুগ ও শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। এটি কোনো বিদেশি আদর্শের হুবহু অনুকরণ নয়, বরং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত সংশোধনীটি বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী, যা ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদে পাস হয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রপতি পদকে নিয়মতান্ত্রিক করা, উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করা এবং প্রধানমন্ত্রীকে প্রকৃত নির্বাহী প্রধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়গুলো দ্বাদশ সংশোধনীর মূল বৈশিষ্ট্য। এই সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হয়। এর ফলে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে কেবল আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য থাকেন। ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে এই সংশোধনী কার্যকর করা হয়েছিল, যা বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। (ঘ) "উক্ত সংশোধনীটি বাংলাদেশের সরকার ও শাসনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সাধন করেছে" উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ। দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটে এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এই পরিবর্তনের ফলে শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু রাষ্ট্রপতি থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে স্থানান্তরিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভা যৌথভাবে জাতীয় সংসদের নিকট দায়বদ্ধ থাকেন, যা সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। ইতিপূর্বে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা এবং পরবর্তী সামরিক শাসনের ফলে যে কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার উদ্ভব হয়েছিল, এই সংশোধনী তা বিলুপ্ত করে সংসদের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। এর ফলে রাষ্ট্রপতি কেবল প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য থাকেন এবং প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ন্যস্ত হয়। পরিশেষে বলা যায়, দ্বাদশ সংশোধনী কেবল একটি আইনগত পরিবর্তন ছিল না, বরং এটি ছিল স্বৈরাচার-পরবর্তী যুগে সুশাসন ও গণতন্ত্রের পথে যাত্রার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। নির্বাহী ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং আইনসভার গুরুত্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সংশোধনী বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চরিত্রে একটি বৈপ্লবিক ও ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে, যা বর্তমান গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Dhaka Residential Model College, Dhaka (2026)

সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার সাথে সংগতি রেখে সংবিধানে সংশোধনী আনয়ন করা হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের একটি সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদকে নিয়মতান্ত্রিক করা হয় এবং উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করা হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী প্রকৃত নির্বাহী হয়ে উঠেন।

ক. সংবিধান কী?

খ. বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি 'সমাজতন্ত্র' সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সংশোধনীটি সংবিধানের কততম সংশোধনী? এ সম্পর্কে আলোচনা কর।

ঘ. "উক্ত সংশোধনীটি বাংলাদেশের সরকার ও শাসনব্যবস্থায় আমল পরিবর্তন সাধন করেছে" উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

‘B’ রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ স্বাধীনতা অর্জনের পরবর্তী এক বছরের মধ্যে একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনী...

P' দেশের সংবিধান গণপরিষদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সংবিধানটির প্রকৃতি হল লিখিত ও দূষ্পরিবর্তনীয়। এ সংবিধানে মৌলিক অধি...

'X' রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি মাত্র নয় মাসের মধ্যে রাষ্ট্রকে একট...

'X' রাষ্ট্রের একটি অঞ্চল স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই আশা করছিল তাদের অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন সাধিত হবে। কিন্তু তারা শাসক ...

'X' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি সংবিধান প্রণয়ন করে। সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন...

অধ্যাপক আফরোজা আক্তার শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে গিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশের সংবিধান লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয়। ইচ্ছে করলেই সংবিধ...

অনন্তপুর ও গইয়াতলা গ্রামের শিক্ষিত বেকার যুবকেরা অর্থনৈতিকভাবে নিজেদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়...

উক্ত '?' চিহ্নিত স্থানে স্থাপিত বিষয়টি রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হলে—

উক্ত বিষয়টি রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হলে- i. জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে ii. স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে iii. জনমতের গুরুত্ব ব...

উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও: "Y" একটি সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত রাষ্ট্র। স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।