ক.
প্রতিবন্ধী হলো সেই ব্যক্তি, যিনি শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিভিত্তিক বা সংবেদী সীমাবদ্ধতার কারণে সমাজের স্বাভাবিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণে বাধার সম্মুখীন হন।
খ.
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান মনুষ্যসৃষ্ট কারণগুলো হলো জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার, বনভূমি ধ্বংস, অপরিকল্পিত নগরায়ণ প্রভৃতি। এছাড়া শিল্পকারখানা থেকে নির্গত দূষিত গ্যাস ও রাসায়নিক পদার্থ বায়ুমণ্ডলকে দূষিত করে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক এবং গবাদি পশুর মিথেন গ্যাস নিঃসরণ জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে।
গ.
উল্লিখিত ঘটনাটি আমাদের পাঠ্যবইয়ের "স্বাস্থ্য ও পরিবেশ" অধ্যায়ের অন্তর্গত বিষক্রিয়া এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি সম্পর্কিত বিষয়কে ইঙ্গিত করে। খাদ্যে ভেজাল বা বিষাক্ত উপাদান মিশ্রিত থাকলে তা মানবদেহে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
মহীপুর গ্রামের শিশুদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা থেকে বুঝা যায় যে, তাদের খাওয়ার খাদ্যে কোনো বিষাক্ত পদার্থ বা ভেজাল উপাদান ছিল, যা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়েছে। এটি "খাদ্য নিরাপত্তা", "স্বাস্থ্যবিধি" এবং "সতর্কতা" বিষয়গুলোর গুরুত্ব তুলে ধরে। বিষাক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে নানা ধরনের শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে যেমন: বমি, পেট ব্যথা, মাথা ঘোরা, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
এই ঘটনাটি পাঠ্যবইয়ের স্বাস্থ্যবিষয়ক শিক্ষা, বিশেষ করে খাদ্য স্বাস্থ্যবিধি, স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে শেখায়। এটি আমাদেরকে সচেতন করে তোলে, যেন আমরা সবসময় নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করি এবং অনিরাপদ খাদ্য থেকে দূরে থাকি।
ঘ.
উক্ত সমস্যাটি হলো খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে শিশুদের অসুস্থ হওয়া। এটি একটি মারাত্মক জনস্বাস্থ্য সমস্যা এবং এর প্রতিকার প্রয়োজন দ্রুত এবং কার্যকরভাবে। নিচে এই সমস্যার সম্ভাব্য সমাধানগুলো উল্লেখ করা হলো:
১. খাদ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করা: খাদ্য বাজারজাত করার আগে এবং খোলা বাজারে বিক্রির ক্ষেত্রে কঠোরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত। এতে করে বিষাক্ত বা ভেজাল খাদ্য বাজারে প্রবেশ করতে পারবে না।
২. খাদ্য উৎপাদক ও বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণ প্রদান: যেসব ব্যক্তি খাদ্য প্রস্তুত ও সরবরাহ করেন, তাদেরকে খাদ্য স্বাস্থ্যবিধি, সংরক্ষণ প্রক্রিয়া ও বিষক্রিয়া সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। এতে খাদ্যে অনিচ্ছাকৃত দূষণ রোধ করা সম্ভব হবে।
৩. আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ: খাদ্যে ভেজাল মেশালে বা বিষাক্ত উপাদান থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও শাস্তির ব্যবস্থা থাকা উচিত। এতে করে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কাজ করার সাহস পাবে না।
৪. সচেতনতা বৃদ্ধি: সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে গণমাধ্যমে প্রচারণা চালাতে হবে। যেমন: মেয়াদোত্তীর্ণ বা খোলা খাবার না খাওয়া, খাদ্যের গন্ধ ও রঙ দেখে বুঝে নেওয়া, ভালো ব্র্যান্ড বা উৎস থেকে খাদ্য সংগ্রহ ইত্যাদি।
৫. স্বাস্থ্যখাতে জরুরি ব্যবস্থা: বিষক্রিয়ার উপসর্গ দেখা দিলে যেন তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া যায়, সেজন্য গ্রাম পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র ও দক্ষ চিকিৎসক নিয়োগ দিতে হবে।
এইসব উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে খাদ্য বিষক্রিয়া সংক্রান্ত সমস্যা রোধ করা সম্ভব এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ সমাজ গঠন করা যাবে।
প্রয়োজনে এগুলো আরও সংক্ষিপ্ত বা বুলেট পয়েন্টে সাজিয়ে নিতে পারো পরীক্ষার উত্তর লেখার জন্য।