Facebook Pixel

সম্প্রতি বহু গবেষণায় দেখা গেছে যে, খাদ্যদ্রব্যের সাথে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ও কৃত্রিম রং মেশানো হচ্ছে। এর ফলে ওজন বৃদ্ধি, পুষ্টির অভাব এবং ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। ক. দুর্নীতি কাকে বলে? খ. জলবায়ু পরিবর্তন বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে যে সামাজিক সমস্যাটি বর্ণিত হয়েছে তার কারণ ব্যাখ্যা করো। ঘ. “শুধুমাত্র আইন নয়, বরং জনসচেতনতাই পারে উক্ত সমস্যা সমাধান করতে"- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায় -১০ঃ নাগরিক সমস্যা ও আমাদের করণীয়

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করাকে দুর্নীতি বলে। খ. কোনো স্থানের বা অঞ্চলের আবহাওয়ার সব ঋতুর গড় অবস্থা যখন পরিবর্তিত হয় এবং মানবজীবনের সাধারণ নিয়মাবলি নতুন রূপ লাভকরে তখনই একে বলা হয় জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর ফলে কোনো অঞ্চলের কৃষি, বনভূমি, মৎস্য, চারণক্ষেত্র, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, শারীরিক ও মানসিক শক্তির বিকাশ, খনিজ সম্পদ, শিল্প-কারখানা স্থাপন প্রভৃতি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসে। এমনকি কখনো কখনো পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দেয়। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সামাজিক সমস্যাটি হলো খাদ্যে ভেজাল, যা বর্তমান সময়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক হুমকিতে পরিণত হয়েছে। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও মুনাফালেভী মানুষের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য, ফরমালিন ও কৃত্রিম রং মেশানোর এই সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যা সরাসরি মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে। খাদ্যে ভেজাল দেওয়ার মূল কারণ হলো ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফা লাভের লালসা। অনেক ক্ষেত্রে পচনশীল দ্রব্য যেমন মাছ, মাংস বা ফল দীর্ঘক্ষণ সতেজ রাখার জন্য ফরমালিন ও ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করা হয়। আবার খাদ্যকে আকর্ষণীয় করে তুলতে সস্তা ও বিষাক্ত টেক্সটাইল রং মেশানো হয়। এর পেছনে কাজ করে নৈতিক অবক্ষয় এবং সাধারণ মানুষের অসচেতনতা, যার সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র বাজারে বিষাক্ত খাবার সরবরাহ করছে। এছাড়া এই সমস্যার অন্যতম কারণ হলো আইন প্রয়োগের শিথিলতা ও তদারকির অভাব। যদিও দেশে নিরাপদ খাদ্য আইন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন রয়েছে, কিন্তু নিয়মিত ও কঠোর মনিটরিংয়ের অভাবে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত পরীক্ষাগারের অভাব এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় এই সামাজিক ব্যাধিটি শিকড় গেড়ে বসেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনশক্তিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত খাদ্যে ভেজাল সমস্যা সমাধানে কঠোর আইনের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি, তাই উক্তিটি যথার্থ। খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে আইনগত ভিত্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সরকার 'নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩' প্রণয়ন করেছে। এ আইনে উৎপাদনকারীর সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব। উদ্দীপকে দেখা যায়, খাদ্যে ভেজালের ফলে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে এবং বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। শুধুমাত্র আইন দিয়ে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন যদি না সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়। অসাধু ব্যবসায়ীরা অনেক সময় আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তাই সামাজিক প্রতিরোধ এখানে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে জনসচেতনতা হলো, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। গণমাধ্যমগুলোর মাধ্যমে ভেজালের কুফল প্রচার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। যখন সাধারণ মানুষ ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে এবং ভেজাল পণ্য বর্জন করবে, তখন ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে সঠিক পণ্য সরবরাহ করবে। তাই বলা যায়, আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যাপক জনসচেতনতাই পারে খাদ্যে ভেজালের মতো ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্তি দিতে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সম্প্রতি বহু গবেষণায় দেখা গেছে যে, খাদ্যদ্রব্যের সাথে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ও কৃত্রিম রং মেশানো হচ্ছে। এর ফলে ওজন বৃদ্ধি, পুষ্টির অভাব এবং ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

ক.

দুর্নীতি কাকে বলে?

খ.

জলবায়ু পরিবর্তন বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকে যে সামাজিক সমস্যাটি বর্ণিত হয়েছে তার কারণ ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

“শুধুমাত্র আইন নয়, বরং জনসচেতনতাই পারে উক্ত সমস্যা সমাধান করতে"- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।