ক.
সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন গঠন করা হয়েছে।
খ.
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা।
সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন গঠিত হবে। এ কমিশনের সদস্যসংখ্যা সভাপতিসহ অন্যূন ৬ জন এবং অনূর্ধ্ব ১৫ জন নির্ধারণ করা হয়। কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন। এ প্রতিষ্ঠানটি প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক কাজের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবী ও যোগ্য নাগরিকদের বাছাইয়ের কাজ করে। কর্মকমিশন বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন সার্ভিস বা পদে নিয়োগকৃতদের পদোন্নতি এবং বদলি সংক্রান্ত বিষয়েও নীতিমালা প্রণয়নের পরামর্শ প্রদান করে।
গ.
উদ্দীপকে সরকার পক্ষের যে সর্বোচ্চ আইনজীবীর কথা বলা হয়েছে তার পদবি হলো অ্যাটর্নি জেনারেল। একজন অ্যাটর্নি জেনারেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
বাংলাদেশ সংবিধানে বর্ণিত ৬৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ তৈরি করা হয়েছে। তিনি সরকারের প্রধান আইন উপদেষ্টা। তিনি পদাধিকারবলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও সকল বারের নেতা। তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের ন্যায়, মর্যাদা ভোগ করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তার বক্তব্য পেশ করতে পারেন। সরকার আইন সংক্রান্ত যেসকল বিষয়ে পরামর্শ চাইবেন, সেসব বিষয়ে তিনি সরকারের পরামর্শক হিসেবে কাজ করবেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে সরকারের পক্ষে ওকালতি করবেন। যেসব মামলায় সরকার জড়িত সেগুলোতে তিনি সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন। এসব মামলা পরিচালনাকালে তিনি জনস্বার্থ এবং সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী যুক্তি উপস্থাপন করবেন। এছাড়া তিনি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অর্পিত অন্যান্য সকল আইনি দায়িত্ব পালন করে থাকেন । উদ্দীপকে দেখা যায়, উচ্চ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত একটি চাঞ্চল্যকর মামলার রায়ে সরকার পক্ষের সর্বোচ্চ আইনজীবী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকে অ্যাটর্নি জেনারেলের কথা বলা হয়েছে। কেননা অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন সরকার পক্ষের সর্বোচ্চ আইনজীবী। আর একজন অ্যাটর্নি জেনারেল উল্লিখিত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
ঘ.
বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উক্ত পদটির অর্থাৎ অ্যাটর্নি জেনারেলের গুরুত্ব ও বাস্তবতা অপরিসীম।
অ্যাটর্নি জেনারেলের পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি রাষ্ট্রের প্রধান সরকারি আইন কর্মকর্তা। বাংলাদেশের সকল আদালতে মামলা পরিচালনা করার ক্ষমতা তার রয়েছে। এ কারণে রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বস্তুত অ্যাটর্নি জেনারেলের পদের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। কেননা তিনি আদালতে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগে সরকারের পক্ষে ওকালতি করেন। তাছাড়া সরকারের আইন উপদেষ্টা হিসেবে দেশের সকল আদালতে তাকে মামলা পরিচালনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সংবিধান অনুসারে অ্যাটর্নি জেনারেল সরকারের প্রধান আইন পরামর্শক। তিনি তার এ ক্ষমতাবলে বিচার কাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। তাছাড়া তিনি প্রজাতন্ত্রের পক্ষে জটিল আইন সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করতে পারেন। এক্ষেত্রে আইনের জটিলতাগুলো নিরপেক্ষ ও সঠিকভাবে ব্যাখ্যা প্রদান করে বিচার কাজে সহায়তা করতে পারেন। যে সকল মামলায় সরকার জড়িত তিনি সে সকল মামলায় সরকারের পক্ষে আদালতে মামলা পরিচালনা করেন। মামলা পরিচালনাকালে তিনি জনস্বার্থ এবং সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী যুক্তি উপস্থাপন করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল তার এ সকল কর্মকাণ্ড সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে পরিচালনা করলে তা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। অ্যাটর্নি জেনারেল দেশের সকল আদালতে আইনের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত। তিনি যদি তার এই ক্ষমতা ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারেন তাহলে রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সহজতর হবে। যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আইন উপদেষ্টা ও আইনের পরামর্শদাতা হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল পদের গুরুত্ব ও বাস্তবতা ব্যাপক।