ক.
যে সমস্ত অর্থনৈতিক উপাদান অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং যাদের অনুপস্থিতিতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে অব্যাহত রাখা সম্ভব হয় না, এককথায় সেগুলোকে অর্থনৈতিক অবকাঠামো বলে।
খ.
মুসলিম যুগকে বাংলার ইতিহাসে স্বর্ণযুগ বলা হয়। এ সময়ে দেশে বিভিন্ন ধরনের কুটিরশিল্প গড়ে ওঠে।
এ সময়ের উল্লেখযোগ্য শিল্পগুলো হলো: কার্পাস বস্ত্র শিল্প, মসলিন বস্ত্র শিল্প, নৌশিল্প, চিনিশিল্প, লৌহ শিল্প, কামান শিল্প, বারুদ শিল্প, ভোজ্য তেল শিল্প, অলংকার শিল্প ইত্যাদি। এ সময়ে দেশে রেশম শিল্পও গড়ে ওঠে। তখনকার বাংলার সবচেয়ে বিখ্যাত শিল্প ছিল মসলিন বস্ত্র শিল্প। বাংলার মসলিন তখন সবচেয়ে মূল্যবান রপ্তানি পণ্য ছিল।
গ.
উদ্দীপকে বাংলাদেশের অর্থনীতির চলমান গতিধারা ও পরিবর্তনের একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। নিচে উদ্দীপকের আলোকে তার বিবরণ দেওয়া হলো:
১. উচ্চ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন: অতীতে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হলেও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। কিন্তু সাম্প্রতিককালে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, উচ্চ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে যথাক্রমে ৬.০৬%, ৬.৫১% এবং ৭.২%। সুতরাং বলা যায়, গত তিন বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি গড়ে ৬% এরও অধিক হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায় ৬.৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতিধারা পরিবর্তনের কথা বলতে গিয়ে এর সঞ্চয়, বিনিয়োগ, রপ্তানি, কর্মসংস্থান ইত্যাদিও পরিবর্তনের কথা এসে যায়। বাংলাদেশে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট দেশজ সঞ্চয় ও জাতীয় সঞ্চয়ের হার প্রাক্কলন করা হয়েছে। যথাক্রমে জিডিপির ২৮.৮৯ শতাংশ ও ৩০.৩১ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে জিডিপির ২৯.৩৮ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩১,২০৮.৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০১১-১২ সালে ছিল ২৪,৩০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২ . জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: বিগত এক দশকে বাংলাদেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হয়েছে। এখন এ দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় হলো ১৬০২ মার্কিন ডলার। এক দশক আগে এ আয় ছিল ৪৬৫ মার্কিন ডলার।
৩. জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান হ্রাস: বিগত ৪-৫ বছরের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন যথেষ্ট বৃদ্ধি পেলেও জিডিপিতে তার অবদান কমে এসেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে
ঘ.
প্রদত্ত উদ্দীপকে বক্তরা এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। এমনটি হতে হলে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার নিচে তা আলোচনা করা হলো:
১. বাংলাদেশকে ২০২১ সাল নাগাদ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে সর্বপ্রথমে প্রয়োজন উচ্চহারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন। বর্তমানে এদেশে জিডিপির গড় প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের ওপরে রয়েছে; ভবিষ্যতেও প্রবৃদ্ধির এ হার বজায় রাখতে হবে।
২. ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বিবেচনা করতে হলে দেশে বিদ্যমান দারিদ্র্যের হার হ্রাস তথা দারিদ্র্য বিমোচন করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে দরিদ্র লোকদের জন্য কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা জোরদারকরণ ইত্যাদি কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
৩. রূপকল্প ২০২১ অনুযায়ী, বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে চলমান পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে গতিশীল ও কার্যকর করে তুলতে হবে।
৪. ইপ্সিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা দিতে হলে অবশ্যই এর মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। খাদ্যোৎপাদন বৃদ্ধি, কম দামে দরিদ্রদের পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ, সুচিকিৎসা এবং যুগোপযোগী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ ইত্যাদির মাধ্যমে এ সম্পদের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ঘটানো যায়।
৫. সাম্প্রতিককালে নানা কারণে দেশে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে। একে ঠিকমতো রুখতে না পারলে উন্নয়নের সকল প্রচেষ্টাই বিফলে যাবে। তাই অর্থনীতির সকল খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সরকারের আর্থিক ও রাজস্ব নীতির সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতিকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৬. দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শিল্পোন্নয়ন অপরিহার্য। এ জন্য শিল্পক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান, যথোপযুক্ত শিল্পনীতি প্রণয়ন, দেশীয় কাঁচামালভিত্তিক শিল্প স্থাপন, পিপিপি-এর অধীনে ভারী শিল্প স্থাপন ইত্যাদি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।