ক.
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত নয় এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নকে অব্যবসায়গত অর্থায়ন বলে।
খ.
দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের অন্যতম উৎস হলো বন্ড।
বন্ডের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম হলো দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দলিল। এর মাধ্যমে কোম্পানি বা সরকার জনসাধারণ থেকে তহবিল সংগ্রহ করে। এই দলিলের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো বন্ডে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদকাল উল্লেখ থাকে। যার শেষে বিনিয়োগকারীকে তার আসল অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। আর তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো বন্ডের বিপরীতে ধারকগণকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করা হয়। ফলে এটি সাধারণত ঝুঁকিমুক্ত ও স্থির আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
গ.
উদ্দীপকে মূলধনের ক্ষুদ্র অংশ বলতে শেয়ারবাজারকে বোঝানো হয়েছে।
কোম্পানির অনুমোদিত মূলধনের এক একটি অংশকে শেয়ার বলে। শেয়ারবাজারে সরকারি প্রতিষ্ঠানের লগ্নিপত্র, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ঋণপত্র কেনাবেচা হয়। যৌথ মূলধনি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রয় করে তাদের প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করতে পারে। এ বাজারে দক্ষ ও অদক্ষ যেকোনো ধরনের সঞ্চয়কারী ব্যক্তিবর্গ উৎপাদনশীল ক্ষেত্রে অর্থ বিনিয়োগ করতে চাইলে শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে অর্থ বিনিয়োগ করতে পারে।
উদ্দীপকের ছকে মূলধনের ক্ষুদ্র অংশ শেয়ারবাজারকে নির্দেশ করে।
সাধারণত শিল্পপুঁজি গঠনের লক্ষ্যে কোনো কোম্পানি আইনসিদ্ধরূপে পত্রিকায় প্রসপেকটাস ছাপিয়ে জনগণকে শেয়ার ক্রয়ে আহ্বান জানায়। সে প্রেক্ষিতে আগ্রহী ক্রেতাগণ নিজস্ব BO অ্যাকাউন্ট উল্লেখ করে আবেদনের মাধ্যমে নির্ধারিত ব্যাংকে টাকা জমা দেয়। দেশি বা বিদেশি যেকোনো নাগরিক এরূপভাবে শেয়ারের জন্য আবেদন করতে পারে। এভাবে যে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হয় তা প্রাথমিক শেয়ার হিসেবেই বিবেচিত। সুতরাং, উদ্দীপকে শেয়ার বাজারকে নির্দেশ করা হয়েছে।
ঘ.
মূলধন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিক্রয় এবং পরবর্তী নগদ অর্থে রূপান্তর দ্বারা যথাক্রমে প্রাথমিক শেয়ার ও সেকেন্ডারি বা মাধ্যমিক শেয়ারকে নির্দেশ করা হয়েছে।
শেয়ারকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো প্রাইমারি শেয়ার ও মাধ্যমিক বা সেকেন্ডারি শেয়ার। কোম্পানি বা ইস্যু হাউস যে শেয়ার আইপিও এর মাধ্যমে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাজারে ছাড়ে তা হলো প্রাইমারি শেয়ার। এটি আবেদন দ্বারা সরাসরি কিংবা লটারির মাধ্যমে ক্রয় করা যায়। অন্যদিকে, মালিকরা যখন প্রাইমারি শেয়ার তাদের শেয়ার ব্রোকার হাউসে বিক্রি করে তখন ঐ বিক্রীত শেয়ার হয়ে যায় সেকেন্ডারি শেয়ার।
উদ্দীপকের ছকে মূলধনের ক্ষুদ্রাংশ দেয়া আছে। এটি শেয়ারকে নির্দেশ করে। শেয়ারের প্রধান দুটি ভাগ হলো প্রাইমারি শেয়ার ও মাধ্যমিক শেয়ার। প্রাইমারি শেয়ারের মালিকানা বদলায় না। যে তা পায় সেই তার মালিক হয়। কিন্তু সেকেন্ডারি শেয়ারের মালিকানা শেয়ার বিক্রির সাথে সাথে বদলাতে থাকে। আবার, প্রাইমারি শেয়ার ব্যাংক বা কোনো ইস্যু হাউসের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যায়। কিন্তু সেকেন্ডারি শেয়ার কেবল স্টক এক্সচেঞ্জ থেকেই ক্রয় করতে হয়।
প্রাইমারি শেয়ার ইস্যুকারক কর্তৃক আইপিও-এর মাধ্যমে নির্বাচিত BO অ্যাকাউন্টধারীর একাউন্টে পৌঁছায়। সেকেন্ডারি শেয়ার ব্রোকার হাউসের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃক পরিচালিত ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কেনা যায়। প্রাইমারি শেয়ারের দাম তার ফেইসভ্যালু দ্বারাই প্রকাশিত হয়। সেক্ষেত্রে সেকেন্ডারি শেয়ারের দাম তার চাহিদা ও যোগানের ঘাত-প্রতিঘাত দ্বারা নির্ধারিত হয় এবং তা প্রায়ই ওঠা-নামা করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের প্রাইমারি ও মাধ্যমিক বা সেকেন্ডারি শেয়ারের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।