ক.
CSWE-এর পূর্ণরূপ হলো 'Council on Social Work Education.
খ.
সমাজকর্ম মূল্যবোধ বলতে সমাজকর্মীদের জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে অনুসৃত মূল্যবোধগুলোকে বোঝানো হয়, যা মানুষের কল্যাণে প্রয়োগ করা হয়।
বর্তমান যুগে সমাজকর্ম একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর সাহায্যকারী পেশা হিসেবে স্বীকৃত। অন্যান্য পেশার ন্যায় এই পেশাতেও কিছু স্বীকৃত মূল্যবোধ আছে। সাধারণত 'যেসব আদর্শ, বিশ্বাস, ধারণা, মৌলিক নীতিমালা ও স্বীকার্য সত্যের ওপর পেশাদার সমাজকর্মের সামগ্রিক সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়, সেগুলোর সমষ্টিকেই সমাজকর্মের মূল্যবোধ বলে।
গ.
উদ্দীপকে সুমনা হকের কর্মতৎপরতার মধ্যে সমাজকর্মের যেসব মূল্যবোধের প্রতিফলন দেখা যায় তা হলো ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি এবং ব্যক্তি স্বাধীনতা নীতি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সুমনা হক শিশু পরিবারে সদ্য আগত সালমা নামের মেয়েটিকে সাদরে গ্রহণ করেন যা ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতিকে চিহ্নিত করে। সমাজকর্মী মাত্রই বিশ্বাস করেন যে, ব্যক্তির অন্তর্নিহিত মূল্য ও মর্যাদার যথাযথ স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে তার সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ সাধন করা সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে তাকে যদি যথাযথ মূল্য ও মর্যাদা সহকারে গ্রহণ করা হয়, তাহলে সে আত্মবিশ্বাসী হবে এবং সমস্যা সমাধানে সক্ষমতা লাভ করবে। এই মূল্যবোধের মাধ্যমে। সমাজকর্মী সাহায্যার্থীকে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করেন। এই ব্যাপারটি উদ্দীপকের সুমনা হকের কাজেও দেখা যায়।
আবার সালমার মতামত গ্রহণ করে তার পছন্দানুযায়ী বিষয় শেখার দিকে গুরুত্বারোপ করেন সুমনা হক, যা সমাজকর্মের ব্যক্তি স্বাধীনতা নীতিকে প্রতিফলিত করে। সমাজকর্ম বিশ্বাস করে, প্রত্যেক ব্যক্তিই তার নিজস্ব ইচ্ছা ও পছন্দ অনুযায়ী কাজ করতে চায় এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে পারলেই তার ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ সম্ভব হয়। সমাজকর্মের এই মূল্যবোধটি। সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির মধ্যে আত্মবিশ্বাসের জন্ম দেয়। ফলে সে সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায় এবং সাবলম্বী হয়। উদ্দীপকে সুমনা হককে দেখা যায়, সালমার মতামত ও আগ্রহের ভিত্তিতে তাকে অঙ্কন ও সংগীত শিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেন। তাই বলা যায়, সুমনা হকের কর্মতৎপরতার মধ্যে সমাজকর্মের ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার নীতি এ দুটি মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত সালমার জীবনের স্থায়ী উন্নয়নে সুমনা সমাজকর্মের আরো কিছু মূল্যবোধ অনুসরণ করতে পারেন।
একজন সমাজকর্মী সব সময়ই চেষ্টা করেন সাহায্যার্থীকে এমনভাবে সাহায্য করতে যাতে সে নিজ সমস্যা মোকাবিলা ও পুনরাবৃত্তি রোধে সক্ষম হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে উদ্দীপকে সুমনা হককে দেখা যায়, শিশু পরিবারে নতুন। আগত সালমাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে তার সমস্যা মোকাবিলার মাধ্যমে সক্ষম করে তুলতে। এক্ষেত্রে তিনি ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি এবং 1 ব্যক্তি স্বাধীনতার নীতি অনুসরণ করলেও তা একটি সাময়িক সমাধান আনতে পারে। তাই সালমার জীবনের স্থায়ী উন্নয়নে সমাজকর্মের অন্যান্য মূল্যবোধগুলো অনুসরণ করা উচিত।
প্রতিটি পেশার পেশাগত অনুশীলনে কতিপয় মূল্যবোধ অনুসৃত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আমেরিকার জাতীয় সমাজকর্ম সমিতি সমাজকর্মের ১৪টি মূল্যবোধের উল্লেখ করেন যার ভিতর থেকে দুটির প্রয়োগ উদ্দীপকে দেখা: যায়। তবে সালমা নামের অতি দরিদ্র পরিবারের পিতৃহীন মেয়েটির স্থায়ী। সমস্যা সমাধানে আরো যে মূল্যবোধ অনুসরণ করা যায় সেগুলো হলো-। মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, পরিবর্তনের জন্য ব্যক্তির সামর্থ্যের মূল্যায়ন, গোপনীয়তা, ব্যক্তি মানুষকে তার প্রতিভা উপলব্ধির সুযোগ প্রদান, সাহায্যার্থীদের ক্ষমতায়ন, সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদান, বৈষম্য না করা প্রভৃতি। আপাতত শিশু পরিবারে বাস করলেও এক সময় সালমা নামের মেয়েটি আরো বৃহৎ পরিসরে যাবে। তাই শিশু পরিবারে থাকা অবস্থাতে যদি তার পারিবারিক পরিচয় কিংবা আর্থিক অবস্থান বিবেচনায় না এনে তাকে মানুষ হিসেবে যথাযথ মূল্যায়ন প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজ প্রতিভা উপলব্ধির সুযোগ দেয়া হয়, তবে তার পক্ষে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা সম্ভব। এছাড়াও স্বনির্ভরতা নীতি ও সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদান নীতির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিচালনায় তাকে দক্ষ করে তোলা সম্ভব।
সার্বিক আলোচনা থেকে বলা যায়, একজন সমাজকর্মীর মূল লক্ষ্য হলো সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির জীবনের স্থায়ী উন্নয়ন ঘটানো। এক্ষেত্রে শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক এবং সমাজকর্মী হিসেবে সুমনা হক উদ্দীপকে উল্লিখিত মূল্যবোধের পাশাপাশি সমাজকর্মের আরো কিছু মূল্যবোধ অনুসরণের মাধ্যমে সালমার জীবনের স্থায়ী উন্নয়ন ঘটাতে পারেন।