ক.
এরিস্টটলের মতে সরকারের বিকৃত রূপ হলো গণতন্ত্র, ধনিকতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র।
খ.
দুটি কক্ষ বা পরিষদ নিয়ে গঠিত আইনসভাকে ঘ্নি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা বলে। এ ধরনের আইনসভায় 'নিম্নকক্ষ' এবং 'উচ্চকক্ষ' নামে পৃথক দুটি পরিষদ থাকে। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নিম্নকক্ষ গঠিত হয়। উচ্চকক্ষের গঠন প্রকৃতি বিভিন্ন রাষ্ট্রে বিভিন্ন রকম। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ভারত প্রভৃতি দেশে এ ধরনের আইনসভা রয়েছে
গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত সুমনের দেশে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক বা স্থানীয় সরকারের মধ্যে ক্ষমতার কোনো বণ্টন নেই। সেখানে সকল ক্ষমতা সংবিধান অনুযায়ী কেন্দ্রের হাতে ন্যস্ত, যা এককেন্দ্রিক সরকারের বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করছে। অর্থাৎ সুমনের দেশে এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান।
এককেন্দ্রিক সরকার বলতে এমন এক ধরনের সরকারব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট ন্যস্ত থাকে। প্রাদেশিক বা স্থানীয় সরকার সাংবিধানিকভাবে কোনো স্বাধীনতা ভোগ করে না। কেন্দ্রীয় সরকারের চূড়ান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী সমগ্র দেশ পরিচালিত হয়। যেমন- বাংলাদেশ, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য প্রভৃতি দেশে এ ধরনের সরকারব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে।
এককেন্দ্রিক সরকারের সুবিধা যেমন রয়েছে, তেমনি কিছু অসুবিধাও রয়েছে। নিম্নে এর সুবিধা-অসুবিধাগুলো আলোচনা করা হলোঃ
এককেন্দ্রিক সরকারের সুবিধাঃ
প্রথমত, এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় সকল ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে ন্যস্ত থাকে বলে যেকোনো বিষয়ে দ্রুত ও বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।
দ্বিতীয়ত, এ সরকারব্যবস্থা সরকারি খরচের অপচয় রোধ করে। তৃতীয়ত, এ ধরনের সরকারব্যবস্থা সাংবিধানিক সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতামুক্ত। ফলে সুষ্ঠুভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করা যায়।
চতুর্থত, এককেন্দ্রিক সরকারের কাঠামো সহজ-সরল। কেন্দ্রীয়ভাবে একটিমাত্র সরকার ও একক আনুগত্য বজায় থাকায় ক্ষমতা বণ্টন সম্পর্কিত কোনো জটিলতা থাকে না।
এককেন্দ্রিক সরকারের অসুবিধাঃ
প্রথমত, এককেন্দ্রিক সরকারের সকল ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে ন্যস্ত থাকে বলে এখানে শাসনকার্য পরিচালনায় স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ করা যায়। দ্বিতীয়ত, প্রাদেশিক বা স্থানীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা না থাকায় স্থানীয় সমস্যার চিহ্নিতকরণ ও সমাধানে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
তৃতীয়ত, এককেন্দ্রিক সরকার কম জনসংখ্যাবিশিষ্ট ও অপেক্ষাকৃত ছোট আয়তনের রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে উপযোগী হলেও বৃহদায়তন ও অধিক জনসংখ্যাবিশিষ্ট রাষ্ট্রের জন্য উপযোগী নয়।
চতুর্থত, এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের চাপ অত্যধিক থাকে। ফলে সরকার আমলাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে আমলাদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পায়।
পঞ্চমত, এ ধরনের সরকারব্যবস্থায় স্থানীয় বা আঞ্চলিক পর্যায়ে রাজনৈতিক কাজে জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ কম থাকায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে না।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত সুমনের দেশে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক বা স্থানীয় সরকারের মধ্যে ক্ষমতার কোনো বণ্টন নেই। সেখানে সকল ক্ষমতা সংবিধান অনুযায়ী কেন্দ্রের হাতে ন্যস্ত, যা এককেন্দ্রিক সরকারের বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করছে। এ ধরনের সরকারব্যবস্থা স্থানীয় নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়ক নয়।
এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপরিচালনার সকল ক্ষমতা সাংবিধানিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট ন্যস্ত থাকে। স্থানীয় বা প্রাদেশিক সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। অর্থাৎ স্থানীয় সরকারের কাজের ক্ষেত্রে কোনো স্বাধীনতা থাকে না। এ ধরনের সরকারব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় সরকার বা প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে ক্ষমতার কোনো বণ্টন না থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত থাকে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে না। তাই স্থানীয় নেতৃত্বও গড়ে ওঠে না।
এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থায় শাসনকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার আমলাদের ওপর নির্ভরশীল থাকে। আমলাদের মাধ্যমে কেন্দ্র থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে শাসনকার্য পরিচালনায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ তেমন প্রয়োজন হয় না।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, স্থানীয় নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এককেন্দ্রিক সরকারব্যবস্থা মোটেই সহায়ক নয়।