Facebook Pixel

সমগ্র বিশ্ব করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। পৃথিবীর সকল দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও শিল্পখাতসহ ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী এবং সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বাংলাদেশের শিল্পখাত ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। শুল্ককর রেয়াত, আমদানি নীতি উদারীকরণ, ভর্তুকি প্রদান, আয়কর সুবিধা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ, সহজ ঋণ সুবিধা ইত্যাদি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিধারা চলমান আছে। ক. বৈদেশিক সাহায্য কী? খ. সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিশ্বায়নের প্রভাব ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপসমূহ রপ্তানি বাণিজ্যের গতিধারা চলমান রাখার ক্ষেত্রে কীরূপ ভূমিকা পালন করে ব্যাখ্যা করো। ঘ. উল্লিখিত পরিস্থিতিতে রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে আর কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে? তোমার মতামত লেখো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৮ঃ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

উৎস: Board Exam Question DB 2021

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোনো দেশ যখন অন্য কোনো দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ, অনুদান বা কারিগরি সহায়তা গ্রহণ করে, তখন তাকে বৈদেশিক সাহায্য বলা হয়। (খ) সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিশ্বায়নের প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক এবং বহুমুখী। বিশ্বায়নের ফলে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন, ইন্টারনেট এবং স্যাটেলাইট চ্যানেলের প্রসারের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান সহজতর হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন নিজস্ব সংস্কৃতির চর্চা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে, তেমনি অন্য দেশের সংস্কৃতিও আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে। শিক্ষা, বিনোদন, খেলাধুলা এবং খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে বিশ্বায়নের ফলে এক ধরনের বিশ্বজনীন সংস্কৃতি গড়ে উঠছে, যা ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের প্রভাবই সৃষ্টি করতে পারে। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপসমূহ বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের গতিধারা সচল রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। করোনা মহামারির মতো বৈশ্বিক সংকটের সময়েও সরকার রপ্তানিমুখী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে শুল্ককর রেয়াত, আমদানি নীতি উদারীকরণ এবং ভর্তুকি প্রদানের মতো সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। রপ্তানিকারকদের জন্য সহজ ঋণ সুবিধা এবং শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়নি। এছাড়া, রপ্তানি আয়ের ওপর আয়কর রিবেট বা ছাড় প্রদানের ফলে উদ্যোক্তারা নতুন করে বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়েছেন। সরকারের এই বহুমুখী সহায়তা কার্যক্রমের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল ছিল, যা দেশের রপ্তানি আয়কে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপগুলোর পাশাপাশি রপ্তানি বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের জন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে: ১. পণ্যের মান উন্নয়ন ও বহুমুখীকরণ: কেবল তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরশীল না থেকে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। ২. টাকার বিনিময় হার যৌক্তিকীকরণ: রপ্তানি আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে টাকার বিনিময় হারকে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা জরুরি, যাতে রপ্তানিকারকরা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পায়। ৩. নতুন বাজার অনুসন্ধান ও বাণিজ্য চুক্তি: প্রথাগত বাজারের বাইরে নতুন নতুন দেশে বাংলাদেশের পণ্যের বাজার খোঁজার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে এবং বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। ৪. প্রচার ও মেলায় অংশগ্রহণ: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্যের ব্র্যান্ডিং করতে হবে। এছাড়া, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে পণ্যের প্রচার বাড়ানো যেতে পারে। ৫. রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল গঠন: রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য একটি বিশেষ রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল গঠন করা যেতে পারে। ৬. প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন: রপ্তানি প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত উদ্যোক্তা ও কর্মীদের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পরিশেষে বলা যায়, সরকারের নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য আরও গতিশীল ও সম্প্রসারিত হবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2021)

সমগ্র বিশ্ব করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। পৃথিবীর সকল দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও শিল্পখাতসহ ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী এবং সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বাংলাদেশের শিল্পখাত ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। শুল্ককর রেয়াত, আমদানি নীতি উদারীকরণ, ভর্তুকি প্রদান, আয়কর সুবিধা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ, সহজ ঋণ সুবিধা ইত্যাদি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিধারা চলমান আছে।

ক. বৈদেশিক সাহায্য কী? খ. সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিশ্বায়নের প্রভাব ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপসমূহ রপ্তানি বাণিজ্যের গতিধারা চলমান রাখার ক্ষেত্রে কীরূপ ভূমিকা পালন করে ব্যাখ্যা করো। ঘ. উল্লিখিত পরিস্থিতিতে রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে আর কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে? তোমার মতামত লেখো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A একটি উন্নয়নশীল দেশ। উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করতে হলে বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সাথে সাথে বিভিন্ন দ...

'A' ও 'B' দুটি দেশ। 'A' দেশ তাদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের মধ্যেই ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ...

‘A’ ও ‘B’ দুটি দেশ। ‘A’ দেশ দীর্ঘদিন ধরে ‘B’ দেশ থেকে সাহায্য গ্রহণ করে আসছে। এখন 'A' দেশের কর্তৃপক্ষ অনুধাবন করতে পারছে...

A ও B দুটি দেশ। A দেশ দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রয়-বিক্রয় করে, অন্যদিকে B দেশ তার উদ্বৃত্ত পণ্যসামগ্...

A দেশ ও B দেশের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যে গত অর্থবছরে A দেশের ১৪৩৯৩ মিলিয়ন ডলার এবং B দেশের ১৩৭৫৭ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি আ...

'A' দেশ তার নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ তার উ...

‘A’ দেশ তার সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবা নিজ দেশের মধ্যে বিনিময় করে। 'B' দেশ তার উৎপাদিত পণ্য ও সেবা নিজ ...

'A' ব্যক্তি একটি শতরঞ্জি তৈরির কারখানায় কাজ করে। অন্যদিকে, 'B' ব্যক্তি একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করে। 'A' ব্যক্তির...

'A''ও 'B' দুটি দেশ। 'A' দেশ তাদের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে দ্রব্য উৎপাদন করে এবং দেশের মধ্যেই ক্রয়-বিক্রয় করে। 'B' দেশ ত...

Br=(X-M)

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।