(ক)
যে মাধ্যম অবরোহ অনুমানে সিদ্ধান্তটি দুটি পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে সহানুমান বলে।
(খ)
সহানুমানে দুটি আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হলে তার থেকে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ একটি নঞর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যকার সম্পর্ককে অস্বীকার করা হয়। সহানুমানের দুটি আশ্রয়বাক্যই যদি নঞর্থক হয়, তবে প্রধান এবং অপ্রধান পদের কোনোটির সাথেই মধ্যপদের কোনো সম্পর্ক স্থাপিত হয় না। মধ্যস্থতার এই অভাবের কারণে প্রধান পদ ও অপ্রধান পদের মধ্যে কোনো সম্বন্ধ স্থাপন করা সম্ভব হয় না। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় না। সিদ্ধান্ত পেতে হলে অন্তত একটি আশ্রয়বাক্যকে অবশ্যই সদর্থক হতে হবে।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অনুমানটি হচ্ছে সহানুমান। সহানুমানের কিছু স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি অন্যান্য শ্রেণির অবরোহ থেকে পৃথক। নিচে এর বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা করা হলো-
১. সহানুমান সবক্ষেত্রেই তিনটি যুক্তিবাক্যের সমষ্টি। এর মধ্যে দুটি আশ্রয়বাক্য এবং একটি সিদ্ধান্ত থাকে। যেমন উদ্দীপকের অনুমানে তিনটি বাক্য ব্যবহৃত হয়েছে: প্রথম ও দ্বিতীয়টি আশ্রয়বাক্য এবং তৃতীয়টি সিদ্ধান্ত।
২. সহানুমানের সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্য থেকে যুক্তভাবে অনুমিত হয়। এটি একটি মাধ্যম অনুমান, যার সিদ্ধান্ত কোনো একটি আশ্রয়বাক্য থেকে পৃথকভাবে টানা যায় না; বরং উভয় আশ্রয়বাক্যের মিলিত ফল হিসেবে সিদ্ধান্তটি নিঃসৃত হয়।
৩. সহানুমানে আশ্রয়বাক্য দুটিতে একটি সাধারণ উপাদান থাকে, যা দুটি আশ্রয়বাক্যের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে। এই সাধারণ উপাদানকে মধ্যপদ বলে। এর মাধ্যমেই আশ্রয়বাক্যের দুটি ভিন্ন পদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।
৪. সহানুমানের আশ্রয়বাক্য দুটি থেকে অনিবার্যভাবে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়। আশ্রয়বাক্য দুটি এমনভাবে সম্পর্কযুক্ত হতে হয় যেন তারা সিদ্ধান্তকে নির্ধারিত করতে পারে। অর্থাৎ আশ্রয়বাক্যের সাথে সিদ্ধান্তের সম্পর্ক অনিবার্য হয়।
৫. সহানুমানের সিদ্ধান্তের সত্যতা আশ্রয়বাক্যের সত্যতার ওপর নির্ভর করে। যদি আশ্রয়বাক্য দুটি সত্য হয় এবং সিদ্ধান্তটি নিয়মসংগতভাবে টানা হয়, তবে সিদ্ধান্তটি অবশ্যই সত্য হবে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের অনুমানে এই সকল বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়, তাই এটি একটি সহানুমান।
(ঘ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অনুমানে দাগাঙ্কিত পদটি (পাখি) হচ্ছে মধ্যপদ। সহানুমানে মধ্যপদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
যেকোনো সহানুমানে পদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপদের সাথে প্রধান এবং অপ্রধান পদের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করেই সিদ্ধান্ত স্থাপিত হয়। শুরুতে প্রধান ও অপ্রধান পদ দুটি পরস্পর বিচ্ছিন্ন থাকে। মধ্যপদটি প্রথমে প্রধান আশ্রয়বাক্যের প্রধান পদের সাথে সম্পর্কিত হয় এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে অপ্রধান পদের সাথে সম্পর্কিত হয়। এই সম্পর্কের ভিত্তিতেই প্রধান ও অপ্রধান পদের মধ্যে একটি সম্বন্ধ প্রতিষ্ঠিত হয়। মূলত মধ্যপদের মাধ্যমেই এই সম্বন্ধটি সম্ভব হয়, অন্যথায় সিদ্ধান্ত স্থাপন করা যেত না।
মধ্যপদের কাজকে অনেকটা ঘটকের সাথে তুলনা করা যায়। ঘটক যেমন দুজন অপরিচিত মানুষকে পরিচয়ের মাধ্যমে যুক্ত করেন, মধ্যপদও তেমনি দুটি বিচ্ছিন্ন পদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে। উদাহরণস্বরূপ উদ্দীপকের অনুমানে:
সব পাখি হয় ডানাযুক্ত
সব বক হয় পাখি
∴ সব বক হয় ডানাযুক্ত
এখানে 'পাখি' হচ্ছে মধ্যপদ। এই পদের মাধ্যমেই সিদ্ধান্তে প্রধান পদ 'ডানাযুক্ত' এবং অপ্রধান পদ 'বক' এর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে। মধ্যপদ 'পাখি' না থাকলে এই দুটি পদের মধ্যে কোনো সম্বন্ধ হতো না এবং সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব হতো না।
তাই বলা যায়, সহানুমানে মধ্যপদের ভূমিকা অপরিহার্য। মধ্যপদ কেবল আশ্রয়বাক্যে অবস্থান করে সম্বন্ধ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করে এবং সিদ্ধান্ত অংশে আর উপস্থিত থাকে না।